• ই-পেপার

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল যারা

টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা র‌্যাংকিংয়ে মুশফিক ও তাইজুল

ক্রীড়া ডেস্ক
টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা র‌্যাংকিংয়ে মুশফিক ও তাইজুল
মুশফিকুর রহিম (বাঁয়ে) ও তাইজুল ইসলাম। ছবি: এএফপি

সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আলো ছড়িয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও তাইজুল। মুশফিক ছিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক (২৫৩ রান); তাইজুল ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি (১৩ উইকেট)। মুশফিক তো সিরিজসেরাও হয়েছেন। 

এমন পারফরম্যান্সের পর আইসিসি থেকে বড় সুখবর পেলেন দুজন। দুই দশকের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টেস্ট ব্যাটারদের র‌্যাংকিংয়ে ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন মুশফিক। ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে উঠেছেন তাইজুলও। এই বাঁহাতি স্পিনারের বর্তমান অবস্থান ১১ নম্বরে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ফিফটি করেন মুশফিক। আর সিলেট টেস্টের বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে করে সেঞ্চুরি। তাইজুল ২ ম্যাচে নেন ১৩ উইকেট। 

শুধু এই দুজন নন; আজ আইসিসির হালনাগাদ করা টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে উন্নতির খবর পেয়েছেন বাংলাদেশের আরো কয়েকজন ক্রিকেটার।

অভিজ্ঞ মুশফিক টেস্ট ব্যাটারদের র‌্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন ১০ ধাপ। এর আগে তিনি সর্বোচ্চ ১৭ নম্বরে ছিলেন। ক্যারিয়ারসেরা ৭৩২ রেটিং পয়েন্ট পাওয়া তাইজুল ইসলাম এগিয়েছেন দুই ধাপ। এর আগে তার সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ১৩তম।

ব্যাটারদের র‌্যাংকিংয়ে লিটন দাসও উন্নতি করেছেন। সিরিজে এক সেঞ্চুরিতে ২৩৯ রান করা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ১৪ ধাপ এগিয়ে এখন ২৪ নম্বরে অবস্থান করছেন।

স্পিনে তাইজুলের সঙ্গী অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ দুই ধাপ এগিয়ে ২৫ নম্বরে উঠে এসেছেন আছেন। আর গতির ঝড় তোলা ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা ১০ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৫৪তম স্থানে। 

অলরাউন্ডারদের তালিকায়ও উন্নতি হয়েছে তাইজুলের। তিন ধাপ এগিয়ে ২৯ নম্বরে জায়গা উঠে এসেছেন। সিলেট টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে দারুণ অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪০ বলে ১৬ করার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৫১ বলে ২২ রান।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে কোনো নড়চড় হয়নি। যথারীতি চূড়ায় অবস্থান করছেন ইংল্যান্ডের জো রুট (ব্যাটিং), ভারতের যশপ্রীত বুমরা (বোলিং) ও রবীন্দ্র জাদেজা (অলরাউন্ডার)।

অভিজ্ঞ পুলিসিক-টাইলারকে রেখে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের

ক্রীড়া ডেস্ক
অভিজ্ঞ পুলিসিক-টাইলারকে রেখে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : রয়টার্স

ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক এবং টাইলার অ্যাডামসকে রেখে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের  ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল। নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি জমকালো অনুষ্ঠানে কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এই স্কোয়াড প্রকাশ করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা অভিজ্ঞ ১৩ খেলোয়াড়ই রয়েছেন ঘোষিত বিশ্বকাপ দলে। বাকি ১৩ জন খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।

মেজর লিগ সকারের রিয়াল সল্ট লেকের তারকা দিয়েগো লুনা এবং লিওঁ-র মিডফিল্ডার ট্যানার টেসম্যান চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।

বুন্দেসলিগার ক্লাব বরুসিয়া মনচেনগ্লাডবাকে কম খেলার সুযোগ পেয়ে দলে সুযোগ পেয়েছেন জিও রেইনা। এ ছাড়া ক্লাব আমেরিকার উইঙ্গার আলেজান্দ্রো জেনদেজাসও দলে ডাক পেয়েছেন।

 ৩৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার টিম রিম দলে ডাক পেয়েছেন, তিনি মাঠে নামলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক : ম্যাট টার্নার, ম্যাট ফ্রিজ, ক্রিস ব্র্যাডি।

ডিফেন্ডার : ক্রিস রিচার্ডস, টিম রিম, মার্ক ম্যাকেঞ্জি, অস্টন ট্রাস্টি, মাইলস রিবনসন, অ্যান্টনি রবিনসন, সের্জিনো ডেস্ট, অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, জো স্ক্যালি, ম্যাক্স অ্যারফস্টেন।

মিডফিল্ডার : টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, ক্রিস্টিয়ান রোলডান, সেবাস্তিয়ান বারহাল্টার।

অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার/উইঙ্গার : ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক, টিমোথি উইয়াহ, মালিক তিলমান, জিও রেইনা, ব্রেন্ডন অ্যারনসন, আলেজান্দ্রো জেনদেজাস।

স্ট্রাইকার : ফোলারিন বালোগুন, রিকার্ডো পেপি, হাজি রাইট।

ফ্রেঞ্চ ওপেনে সোনালি পোশাকে ঝলমলে ওসাকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রেঞ্চ ওপেনে সোনালি পোশাকে ঝলমলে ওসাকা

আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং নাওমি ওসাকার আরেকটি আইকনিক পোশাক দেখল বিশ্ব। ফ্রেঞ্চ ওপেনের রাতে আইফেল টাওয়ারের মতো ঝলমলে একটি পোশাক পরিধান করে মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে চোখধাঁধানো সাজের ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছেন।

প্যারিসের সুজান লেংলেন কোর্টে ফ্রেঞ্চ ওপেন প্রবেশ করেন অসধারণ কালো কর্সেট এবং ঝরনার মতো নেমে আসা কুঁচি দেওয়া স্কার্ট পরিধান করে। যার লাল অংশ মাটির ওপর নেমে ছিল।

গম্ভীর পোশাকের নিচে ওসাকা একটি ঝলমলে সোনালি টেনিস ড্রেস পরেছিলেন। যার সিকুইনগুলো প্যারিসের প্রখর রোদে প্রতিফলিত হচ্ছিল।

চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন কোর্টেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। জার্মানির লরা সিগেমুন্ডকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-৩) ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছেন।

ওসাকার পরিধান কালো পোশাকটি ডিজাইন করেছেন বিখ্যাত ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ার। যিনি ফ্যাশনে তাঁর টেকসই পদ্ধতির জন্য পরিচিত। সোনালি পোশাকটি নাইকি বিশেষভাবে তৈরি করেছিল।

২০ ট্রফির মহাকাব্য লিখে সিটির অধ্যায় শেষ করলেন গার্দিওলা

ক্রীড়া ডেস্ক
২০ ট্রফির মহাকাব্য লিখে সিটির অধ্যায় শেষ করলেন গার্দিওলা
সংগৃহীত ছবি

বিদায় পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিকে সাফল্যের এক স্বর্ণালি দশক উপহার দিয়ে অবশেষে ইতি টানলেন এই মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান। গত দশ বছরে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সারি সারি ট্রফির এক মহাকাব্য লিখেছেন তিনি, যার মোট সংখ্যা ২০টি। এই অবিশ্বাস্য অর্জনের মাধ্যমে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি; পুরো ম্যানচেস্টার শহরকে যেন লাল (ইউনাইটেড) থেকে স্থায়ীভাবে নীল (সিটি) রঙে রূপান্তর করেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের মূল স্থপতি ছিলেন গার্দিওলাই।

পেপ গার্দিওলার ঐতিহাসিক বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যানচেস্টার সিটি আয়োজন করেছিল এক জমকালো অনুষ্ঠান—‘দ্য আফটার পার্টি’। শহরের কো-অপ লাইভ অ্যারেনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয় কোচকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ১৯ হাজার আবেগাপ্লুত সমর্থক।

অনুষ্ঠানে গার্দিওলার তিন সন্তান মারিয়া, মারিউস ও ভ্যালেন্তিনোর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তার সাবেক শিষ্য ও বর্তমান বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি, সাবেক অধিনায়ক ফার্নান্দিনহো এবং বর্তমান তারকা জ্যাক গ্রিলিশ। এ ছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফুটবল দুনিয়ার বাইরের দুই কিংবদন্তি—বাস্কেটবল সুপারস্টার মাইকেল জর্ডান এবং ব্রিটিশ গলফার টমি ফ্লিটউড এই স্প্যানিশ কোচকে শুভ কামনা জানান।

২০১৬ সালে যখন গার্দিওলা ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পা রাখেন, তখন ক্লাবের অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেও অভাব ছিল নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাফল্যের। পেপ এসে সিটিকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম সেরা ক্লাবে পরিণত করেন। এক দশকের যাত্রায় তারা জিতেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, পাঁচটি লিগ কাপ, তিনটি এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড, সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ।

বিদায়ি মঞ্চে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গার্দিওলা। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেই পারিনি এখানে এসে এতটা ভালোবাসা পাব। দীর্ঘ ১০ বছর আপনাদের কোচ হয়ে থাকাটা সত্যিই অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। সারা জীবন আমি আপনাদের এই ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করব।’

গার্দিওলার বিদায়ের আগে খোলা বাসে করে ম্যানচেস্টার শহরজুড়ে এক বর্ণাঢ্য প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে গার্দিওলার মূল দলের পাশাপাশি অংশ নেয় ক্লাবের নারী ও যুবদলও। এই মৌসুমে সিটির পুরুষ দল জিতেছে এফএ কাপ ও লিগ কাপ, নারী দল ঘরে তুলেছে ‘উইমেনস সুপার লিগ’ এবং অনূর্ধ্ব-যুবদল জিতেছে ‘এফএ ইয়ুথ কাপ’।

ম্যানচেস্টার সিটির রূপকার পেপ গার্দিওলা এরপর কোন ক্লাবের বা দেশের দায়িত্ব নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, সিটির ডাগআউটে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ফুটবল মহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, গার্দিওলার সাবেক সহকারী এবং চেলসির বর্তমান কোচ এনজো মারেসকা সিটির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।