• ই-পেপার

২০ ট্রফির মহাকাব্য লিখে সিটির অধ্যায় শেষ করলেন গার্দিওলা

ফ্রেঞ্চ ওপেনে সোনালি পোশাকে ঝলমলে ওসাকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রেঞ্চ ওপেনে সোনালি পোশাকে ঝলমলে ওসাকা

আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং নাওমি ওসাকার আরেকটি আইকনিক পোশাক দেখল বিশ্ব। ফ্রেঞ্চ ওপেনের রাতে আইফেল টাওয়ারের মতো ঝলমলে একটি পোশাক পরিধান করে মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে চোখধাঁধানো সাজের ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছেন।

প্যারিসের সুজান লেংলেন কোর্টে ফ্রেঞ্চ ওপেন প্রবেশ করেন অসধারণ কালো কর্সেট এবং ঝরনার মতো নেমে আসা কুঁচি দেওয়া স্কার্ট পরিধান করে। যার লাল অংশ মাটির ওপর নেমে ছিল।

গম্ভীর পোশাকের নিচে ওসাকা একটি ঝলমলে সোনালি টেনিস ড্রেস পরেছিলেন। যার সিকুইনগুলো প্যারিসের প্রখর রোদে প্রতিফলিত হচ্ছিল।

চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন কোর্টেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। জার্মানির লরা সিগেমুন্ডকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-৩) ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছেন।

ওসাকার পরিধান কালো পোশাকটি ডিজাইন করেছেন বিখ্যাত ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ার। যিনি ফ্যাশনে তাঁর টেকসই পদ্ধতির জন্য পরিচিত। সোনালি পোশাকটি নাইকি বিশেষভাবে তৈরি করেছিল।

আফঈদার চাপ কমাতেই অধিনায়ক মারিয়া

রানা শেখ, গোয়া থেকে
আফঈদার চাপ কমাতেই অধিনায়ক মারিয়া
ছবি: মীর ফরিদ

গত বছরের শুরুতে কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল থেকে বাদ পড়েন তখনকার অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এর ফলে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় আফঈদা খন্দকারকে। জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও আর্মব্যান্ড ছিল এই ডিফেন্ডারের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি পারফরম্যান্সে ছেদ পড়েছে তার। অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপের তিন ম্যাচে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপেও সেরস ছন্দে ছিলেন না তিনি। অধিনায়কত্বের আর্মব্র‍্যান্ডের সঙ্গে ডিফেন্স সামলানোর চাপটা হয়তো নিতে পারছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

যে কারণে হ্যাটট্রিক সাফ চ্যাম্পিয়ানশিপ মিশনের আগে নতুন অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ মারিয়া মান্দাকে বেছে নিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। এতে হঠাৎ করে কেন তিনি অধিনায়ক বদল করলেন সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ব্রিটিশ এই কোচ, ‘হ্যাঁ, আফঈদা তরুণ এবং সে অনেক চাপ সামলেছে। তার এখন নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এটি পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং দলের ভালোর জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন আফঈদা। তার অধীনে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে ১৪ ম্যাচের মধ্যে তিনটি জয় এবং দুটি ড্রয়ের পাশাপাশি হার ৯টিতে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তার অধীনেই সাফের শিরোপা এবং এএফসি আসরের মূল পর্বে খেলেছিল জুনিয়র দল।

২০২২ সালে প্রথমবার সাফ জেতার পরের বছরই ফুটবল ছেড়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। সেন্টারব্যাক পজিশনে আঁখির অভাব পূরণে ওই সময় গুরুদায়িত্ব চাপে তরুণ আফঈদার কাঁধে। বয়সভিত্তিক ফুটবল মাতিয়ে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকেই এই পজিশনে নতুন কাউকে আর ভাবতে দেননি আফঈদা। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারছিলেন না তিনি। যে কারণে অধিনায়কত্ব হারাতে হয়েছে তাকে।

তার পরিবর্তে মারিয়াকে বেছে নিয়েছেন বাটলার। দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছেন এই মিডফিল্ডার। ডিফেন্ডারদের লাইনের ঠিক ওপর থেকে প্রতিপক্ষের বক্স পর্যন্ত সমান তালে দম ধরে রেখে দৌড়ানোতে দক্ষ মারিয়া। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে সিনিয়র জাতীয় দল, যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন কলসিন্দুরের এই মেয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবেই ধরা হয় তাকে। এবার অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে তার।

২০২২ এবং ২০২৪ সালে টানা দুইটি সাফ জয়ের অন্যতম কারিগরি ছিলেন মারিয়া। নিচ থেকে খেলা তৈরি করে আক্রমণে সুর গেঁথে দেওয়ার কাজটা তাকেই করতে হবে। কোচ পিটার বাটলারও তাই ভরসা রাখছেন তার ওপর। কোচ বলেন, ‘মারিয়া খুবই লড়াকু মানসিকতার খেলোয়াড় এবং পুরো দলের মধ্যেই সে সম্মানিত। সে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নেতৃত্ব দেবে এবং আমি জানি, অন্যদের কাছ থেকেও সে সম্মান আদায় করে নেবে।’

২০১১ সালের বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে মারিয়ার উঠে আসা। তিন বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ানশিপে প্রথমবার বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটা বয়সভিত্তিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নসারথি হয়েছেন মারিয়া। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফের তার অধিনায়কত্বেই শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

কাতারের স্মৃতি ধরে রেখে বিশ্বকাপে  মরক্কোর ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
কাতারের স্মৃতি ধরে রেখে বিশ্বকাপে  মরক্কোর ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল। কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে রেখেই দল সাজিয়েছেন নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াড ঘোষণা করা ওয়াহবি গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০২৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মরক্কোকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবার সিনিয়র দল নিয়েও বড় স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া দলের ৯ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন এবারের স্কোয়াডে। তাদের মধ্যে আছেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু, ডিফেন্ডার নাইয়েফ আগুয়ের্দ, মিডফিল্ডার সোফিয়ান আমরাবাত ও তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি।

ওয়াহবি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ দল গঠনে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনেক খেলোয়াড়কে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, আলোচনা এবং বিভিন্ন সফরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফুটবলারদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

দলে সবচেয়ে আলোচিত নতুন মুখ ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মরক্কোকেই বেছে নিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার। কোচ ওয়াহবি বলেছেন, বুয়াদ্দি খুব দ্রুত সবকিছু রপ্ত করতে পারে এবং তার মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে।

তবে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সোফিয়ান বৌফাল শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি। এ বিষয়ে ওয়াহবি বলেন, বৌফাল ভালো খেললেও তার পজিশনে আগে থেকেই বিকল্প থাকায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

মরক্কোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক :
ইয়াসিন বুনু, মুনির এল কাজুই, রেদা তাগনাউতি।

রক্ষণভাগ : নুসাইর মাজরাউই, আনাস সালাহ-এদ্দিন, ইউসুফ বেলাম্মারি, আশরাফ হাকিমি, জাকারিয়া এল ওয়াহদি, নাইয়েফ আগুয়ের্দ, শাদি রিয়াদ, রেদোয়ানে হালহাল, ইসা দিয়প।

মিডফিল্ডার : সামির এল মুরাবেত, আয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আইনাউই, সোফিয়ান আমরাবাত, আজ্জেদিন উনাহি, বিলাল এল খান্নুস, ইসমাইল সাইবারি।

আক্রমণভাগ : আব্দে এজ্জালজুলি, শেমসদিন তালবি, সুফিয়ান রহিমি, আয়ুব এল কাবি, ব্রাহিম দিয়াজ, গেসিম ইয়াসিন, আয়ুব আমাইমুনি।

নেইমার নাকি ভিনিসিয়ুস—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কে পাচ্ছেন

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমার নাকি ভিনিসিয়ুস—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কে পাচ্ছেন
ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিতে নেইমার ও ভিনিসিয়ুস। ছবি : এআই দিয়ে বানানো

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলে ১০ নম্বর জার্সি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং বিশাল এক ঐতিহ্য, দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতীক। 

এই জার্সি পরেই ইতিহাস গড়েছেন পেলে-রিভালদো-রোনালদিনিওর মতো কিংবদন্তিরা। পরবর্তীতে এটি ওঠে নেইমার জুনিয়রের গায়ে।

ব্রাজিল দলে লম্বা সময় ধরে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন নেইমার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর চোট পাওয়ার পর তিনি মাঠের বাইরে চলে যান। এরপর এই জার্সিটি কখনো কখনো পরেছেন রাফিনিয়া, আবার কখনো ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। 

তবে নেইমার বিশ্বকাপ দলে ফেরার পর ১০ নম্বর জার্সি কে পরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দুজনকে নিয়ে—নেইমার জুনিয়র ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। 

অনেকের ধারণা, ফিট থাকলে নেইমারই আবার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি পরবেন। কারণ লম্বা সময় ধরে এটি তার দখলে।

কেউ কেউ ভিনিসিয়ুসকে নতুন ১০ নম্বর হিসেবে দেখছেন। কয়েকজন ফুটবল বিশ্লেষকের চাওয়া, এবার এই জার্সি ভিনিকে দেওয়া হোক।

মজার বিষয় হলো, ভিনি নিজেই সম্প্রতি বলেছেন, ‘১০ নম্বরটা নেইমারের। এটা তারই প্রাপ্য।’

সব মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, তা হলো ১০০% ফিট থাকলে এবং ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শুরু থেকেই খেলানোর পরিকল্পনা করলে বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি নেইমার পরবেন। সে ক্ষেত্রে ভিনিসিয়ুসকে নিজের চিরচেনা ৭ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে।