• ই-পেপার

আফঈদার চাপ কমাতেই অধিনায়ক মারিয়া

ফ্রেঞ্চ ওপেনে সোনালি পোশাকে ঝলমলে ওসাকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রেঞ্চ ওপেনে সোনালি পোশাকে ঝলমলে ওসাকা

আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং নাওমি ওসাকার আরেকটি আইকনিক পোশাক দেখল বিশ্ব। ফ্রেঞ্চ ওপেনের রাতে আইফেল টাওয়ারের মতো ঝলমলে একটি পোশাক পরিধান করে মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে চোখধাঁধানো সাজের ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছেন।

প্যারিসের সুজান লেংলেন কোর্টে ফ্রেঞ্চ ওপেন প্রবেশ করেন অসধারণ কালো কর্সেট এবং ঝরনার মতো নেমে আসা কুঁচি দেওয়া স্কার্ট পরিধান করে। যার লাল অংশ মাটির ওপর নেমে ছিল।

গম্ভীর পোশাকের নিচে ওসাকা একটি ঝলমলে সোনালি টেনিস ড্রেস পরেছিলেন। যার সিকুইনগুলো প্যারিসের প্রখর রোদে প্রতিফলিত হচ্ছিল।

চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন কোর্টেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। জার্মানির লরা সিগেমুন্ডকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-৩) ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছেন।

ওসাকার পরিধান কালো পোশাকটি ডিজাইন করেছেন বিখ্যাত ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ার। যিনি ফ্যাশনে তাঁর টেকসই পদ্ধতির জন্য পরিচিত। সোনালি পোশাকটি নাইকি বিশেষভাবে তৈরি করেছিল।

২০ ট্রফির মহাকাব্য লিখে সিটির অধ্যায় শেষ করলেন গার্দিওলা

ক্রীড়া ডেস্ক
২০ ট্রফির মহাকাব্য লিখে সিটির অধ্যায় শেষ করলেন গার্দিওলা
সংগৃহীত ছবি

বিদায় পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিকে সাফল্যের এক স্বর্ণালি দশক উপহার দিয়ে অবশেষে ইতি টানলেন এই মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান। গত দশ বছরে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সারি সারি ট্রফির এক মহাকাব্য লিখেছেন তিনি, যার মোট সংখ্যা ২০টি। এই অবিশ্বাস্য অর্জনের মাধ্যমে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি; পুরো ম্যানচেস্টার শহরকে যেন লাল (ইউনাইটেড) থেকে স্থায়ীভাবে নীল (সিটি) রঙে রূপান্তর করেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের মূল স্থপতি ছিলেন গার্দিওলাই।

পেপ গার্দিওলার ঐতিহাসিক বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যানচেস্টার সিটি আয়োজন করেছিল এক জমকালো অনুষ্ঠান—‘দ্য আফটার পার্টি’। শহরের কো-অপ লাইভ অ্যারেনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয় কোচকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ১৯ হাজার আবেগাপ্লুত সমর্থক।

অনুষ্ঠানে গার্দিওলার তিন সন্তান মারিয়া, মারিউস ও ভ্যালেন্তিনোর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তার সাবেক শিষ্য ও বর্তমান বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি, সাবেক অধিনায়ক ফার্নান্দিনহো এবং বর্তমান তারকা জ্যাক গ্রিলিশ। এ ছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফুটবল দুনিয়ার বাইরের দুই কিংবদন্তি—বাস্কেটবল সুপারস্টার মাইকেল জর্ডান এবং ব্রিটিশ গলফার টমি ফ্লিটউড এই স্প্যানিশ কোচকে শুভ কামনা জানান।

২০১৬ সালে যখন গার্দিওলা ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পা রাখেন, তখন ক্লাবের অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেও অভাব ছিল নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাফল্যের। পেপ এসে সিটিকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম সেরা ক্লাবে পরিণত করেন। এক দশকের যাত্রায় তারা জিতেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, পাঁচটি লিগ কাপ, তিনটি এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড, সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ।

বিদায়ি মঞ্চে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গার্দিওলা। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেই পারিনি এখানে এসে এতটা ভালোবাসা পাব। দীর্ঘ ১০ বছর আপনাদের কোচ হয়ে থাকাটা সত্যিই অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। সারা জীবন আমি আপনাদের এই ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করব।’

গার্দিওলার বিদায়ের আগে খোলা বাসে করে ম্যানচেস্টার শহরজুড়ে এক বর্ণাঢ্য প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে গার্দিওলার মূল দলের পাশাপাশি অংশ নেয় ক্লাবের নারী ও যুবদলও। এই মৌসুমে সিটির পুরুষ দল জিতেছে এফএ কাপ ও লিগ কাপ, নারী দল ঘরে তুলেছে ‘উইমেনস সুপার লিগ’ এবং অনূর্ধ্ব-যুবদল জিতেছে ‘এফএ ইয়ুথ কাপ’।

ম্যানচেস্টার সিটির রূপকার পেপ গার্দিওলা এরপর কোন ক্লাবের বা দেশের দায়িত্ব নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, সিটির ডাগআউটে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ফুটবল মহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, গার্দিওলার সাবেক সহকারী এবং চেলসির বর্তমান কোচ এনজো মারেসকা সিটির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।

কাতারের স্মৃতি ধরে রেখে বিশ্বকাপে  মরক্কোর ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
কাতারের স্মৃতি ধরে রেখে বিশ্বকাপে  মরক্কোর ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল। কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে রেখেই দল সাজিয়েছেন নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াড ঘোষণা করা ওয়াহবি গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০২৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মরক্কোকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবার সিনিয়র দল নিয়েও বড় স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া দলের ৯ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন এবারের স্কোয়াডে। তাদের মধ্যে আছেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু, ডিফেন্ডার নাইয়েফ আগুয়ের্দ, মিডফিল্ডার সোফিয়ান আমরাবাত ও তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি।

ওয়াহবি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ দল গঠনে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনেক খেলোয়াড়কে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, আলোচনা এবং বিভিন্ন সফরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফুটবলারদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

দলে সবচেয়ে আলোচিত নতুন মুখ ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মরক্কোকেই বেছে নিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার। কোচ ওয়াহবি বলেছেন, বুয়াদ্দি খুব দ্রুত সবকিছু রপ্ত করতে পারে এবং তার মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে।

তবে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সোফিয়ান বৌফাল শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি। এ বিষয়ে ওয়াহবি বলেন, বৌফাল ভালো খেললেও তার পজিশনে আগে থেকেই বিকল্প থাকায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

মরক্কোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক :
ইয়াসিন বুনু, মুনির এল কাজুই, রেদা তাগনাউতি।

রক্ষণভাগ : নুসাইর মাজরাউই, আনাস সালাহ-এদ্দিন, ইউসুফ বেলাম্মারি, আশরাফ হাকিমি, জাকারিয়া এল ওয়াহদি, নাইয়েফ আগুয়ের্দ, শাদি রিয়াদ, রেদোয়ানে হালহাল, ইসা দিয়প।

মিডফিল্ডার : সামির এল মুরাবেত, আয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আইনাউই, সোফিয়ান আমরাবাত, আজ্জেদিন উনাহি, বিলাল এল খান্নুস, ইসমাইল সাইবারি।

আক্রমণভাগ : আব্দে এজ্জালজুলি, শেমসদিন তালবি, সুফিয়ান রহিমি, আয়ুব এল কাবি, ব্রাহিম দিয়াজ, গেসিম ইয়াসিন, আয়ুব আমাইমুনি।

নেইমার নাকি ভিনিসিয়ুস—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কে পাচ্ছেন

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমার নাকি ভিনিসিয়ুস—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কে পাচ্ছেন
ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিতে নেইমার ও ভিনিসিয়ুস। ছবি : এআই দিয়ে বানানো

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলে ১০ নম্বর জার্সি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং বিশাল এক ঐতিহ্য, দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতীক। 

এই জার্সি পরেই ইতিহাস গড়েছেন পেলে-রিভালদো-রোনালদিনিওর মতো কিংবদন্তিরা। পরবর্তীতে এটি ওঠে নেইমার জুনিয়রের গায়ে।

ব্রাজিল দলে লম্বা সময় ধরে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন নেইমার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর চোট পাওয়ার পর তিনি মাঠের বাইরে চলে যান। এরপর এই জার্সিটি কখনো কখনো পরেছেন রাফিনিয়া, আবার কখনো ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। 

তবে নেইমার বিশ্বকাপ দলে ফেরার পর ১০ নম্বর জার্সি কে পরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দুজনকে নিয়ে—নেইমার জুনিয়র ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। 

অনেকের ধারণা, ফিট থাকলে নেইমারই আবার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি পরবেন। কারণ লম্বা সময় ধরে এটি তার দখলে।

কেউ কেউ ভিনিসিয়ুসকে নতুন ১০ নম্বর হিসেবে দেখছেন। কয়েকজন ফুটবল বিশ্লেষকের চাওয়া, এবার এই জার্সি ভিনিকে দেওয়া হোক।

মজার বিষয় হলো, ভিনি নিজেই সম্প্রতি বলেছেন, ‘১০ নম্বরটা নেইমারের। এটা তারই প্রাপ্য।’

সব মিলিয়ে যা বোঝা যাচ্ছে, তা হলো ১০০% ফিট থাকলে এবং ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শুরু থেকেই খেলানোর পরিকল্পনা করলে বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি নেইমার পরবেন। সে ক্ষেত্রে ভিনিসিয়ুসকে নিজের চিরচেনা ৭ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে।