• ই-পেপার

আশরাফুলের ১০ উইকেট, চট্টগ্রামের জয়

হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার দুর্দান্ত সময় স্পেনের

ক্রীড়া ডেস্ক
হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার দুর্দান্ত সময় স্পেনের
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে শেষ প্রস্তুতি সারছেন লামিনে ইয়ামালরা। ছবি : রয়টার্স

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি ‘আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি?’ এবারে বিশ্বকাপে কবিতার এই লাইনকেই মনে করার সময় এসেছে স্পেনের। ২০০৮ থেকে ২০১২ এই পাঁচ বছর বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছিল দোর্দণ্ড প্রতাপে। ‘টিকিটাকা’ কৌশলে ফুটবলপ্রেমীদের বুঁদ করে রেখেছিল তারা। ছোট ছোট পাস আর সৃষ্টিশীল খেলায় ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জয় করা ইতিহাসের একমাত্র দল তারা। সেই সব দিন তাদের এখন অতীত। যে কৌশল দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করেছে সেই ‘টিকিটাকা’ এক সময় বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়। নতুন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার আবার সাড়া জাগাচ্ছে স্পেন।

‘টিকিটাকার’ সঙ্গে আধুনিক ফুটবলের গতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন ফুয়েন্তে। তার সেই ট্যাকটিকসেই সর্বশেষ ২০২৪ ইউরোয় চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ বার ট্রফি জয়ের পথে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এই রেকর্ড গড়া স্পেন এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। লামিনে ইয়ামাল-পেদ্রি-গাভির মতো তরুণদের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ রদ্রি-ফাবিয়ান রুইজরা।

কোচ : লুইস দে লা ফুয়েন্তে
অধিনায়ক : রদ্রি
ফিফা র‌্যাংকিং : ২
বিশ্বকাপ ইতিহাস-
সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (২০১০)
সর্বশেষ : ২০২২ (১৩তম)
প্রথম : ১৯৩৪
অংশগ্রহণ : ১৭ বার

‘এইচ’ গ্রুপের সূচি

১৫ জুন : স্পেন বনাম কেপ ভার্দে আটলান্টা রাত ১০টা
২১ জুন : স্পেন বনাম সৌদি আরব আটলান্টা রাত ১০টা
২৭ জুন উরুগুয়ে বনাম স্পেন গুয়াদালাহারা সকাল ৬টা

স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড :

গোলরক্ষক- উনাই সিমোন, ডেভিড রায়া, হোয়ান গার্সিয়া।

ডিফেন্ডার- পেদ্রো পোরো, মার্কোস লরেন্তে, আমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসি, মার্ক পুবিল, এরিক গার্সিয়া, মার্ক কুকুরেয়া, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

মিডফিল্ডার- রদ্রি, মার্টিন জুবিমেন্ডি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, মিকেল মেরিনো, গাভি, আলেক্স বায়েনা।

ফরোয়ার্ড- মিকেল ওইয়ারজাবাল, লামিনে ইয়ামাল, ফেরান তোরেস, বোরহা ইগলেসিয়াস, দানি ওলমো, ভিক্টর মুনিয়োস, নিকো উইলিয়ামস, এরেমি পিনো।

বিশ্বকাপ ফুটবল

ছুটি নেওয়া কমাতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
ছুটি নেওয়া কমাতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
ছবি : এএফপি

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। ভক্তরা নিজ নিজ পছন্দের দলকে সমর্থনে নিচ্ছে অভিনব উদ্যোগ। অনেকে সরাসরি মাঠে গিয়ে সমর্থন জোগাচ্ছে পছন্দের দলকে, বেশির আবার ঘরে বসে টিভি সেটের সামনে থেকে পছন্দের দলকে উৎসাহ দিচ্ছে। সেই সঙ্গে বড় পর্দায় প্রজেকশনের মাধ্যমে আয়োজন করা হচ্ছে পছন্দের দলের ম্যাচগুলো। 

তবে এবারের বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে এক মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছে এশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। যেহেতু বিশ্বকাপ আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছ, উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সময়ের ব্যবধানে ম্যাচগুলো স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সম্প্রচার হচ্ছে। এতে কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিড়ম্বনার পড়তে হচ্ছে এই অঞ্চলের কর্মজীবীদের। 

এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং মধ্যপ্রাচ্যের কর্মক্ষেত্রগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে কমে যেতে পারে উৎপাদন বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। গেল বুধবার এমনই এক আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে দুবাইভিত্তিক নিয়োগ পোর্টাল গালফটেলেন্টের জরিপে। 

চার বছর পর আসা এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটি গোটা বিশ্বকে একটি উৎসবে পরিণত করে। আর এই উৎসব কেই বা মিস করতে চায়। 

এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সৌদি আরব, কাতার, মিশর, জর্ডান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া এবং ইরাকসহ আটটি আরব দেশ অংশগ্রহণ করছে।

খেলা ও কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক কর্মজীবী নেবেন চাতুরতার আশ্রয়। তারা ঘুমের সময় কমানো, দেরিতে অফিসে যাওয়া বা অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। ইউএইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ পেশাজীবী অন্তত কয়েকটি ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করছেন। এতে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এ বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

যারা খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাদের প্রায় অর্ধেক বলেছেন, তারা কিছু ম্যাচ দেখার জন্য সারারাত জেগে থাকবেন, প্রায় একই সংখ্যক মানুষ মধ্যরাতের আগে শুধু সন্ধ্যার খেলাগুলো দেখবেন এবং অল্প কিছুসংখ্যক মানুষ পরের দিন শুধু রিপ্লে দেখে নেবেন।

কর্মীদের এই ফুটবল উন্মাদনা এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব আমিরাতের অনেক কম্পানি নমনীয় কর্মনীতি গ্রহণ করেছে।

প্রায় ৭০ শতাংশ ম্যানেজার তাদের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কিছুটা শিথিল বা দেরিতে কাজ শুরু করার অনুমতি দিচ্ছেন। বেশ কিছু কম্পানি সাময়িকভাবে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আবার ফাঁকিবাজি রোধ করতে হাজিরা এবং ছুটির নিয়মকানুন অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে প্রয়োগে জোর দিয়েছে।

অনেক কম্পানি এই সুযোগটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে অফিসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। সেই সঙ্গে অফিসে ফুটবল থিমের সাজসজ্জা এবং ম্যাচের স্কোর প্রেডিকশন প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে বলে জরিপটিতে উঠে এসেছে।

গালফট্যালেন্টের জরিপটি বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় ১২০০ ব্যক্তির ওপর  চালানো হয়েছে

পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়ানোয় ভারতকে ১০ রান জরিমানা

ক্রীড়া ডেস্ক
পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়ানোয় ভারতকে ১০ রান জরিমানা
ব্যাটিংয়ের সময় পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়ান ভারত ‘এ’ দলের বিপ্রজ নিগম। ছবি: এক্স

পিচের সুরক্ষিত অংশে বারবার দৌড়ানোর দায়ে ভারত ‘এ’ দলকে শাস্তি পেতে হলো। তাদের ১০ রান জরিমানা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় আজ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে বিরল এই ঘটনা ঘটেছে। 

ম্যাচ চলাকালে ভারত ‘এ’ দলের খেলোয়াড়রা একাধিকবার পিচের সুরক্ষিত অংশে দৌড়ে যাওয়ায় আম্পায়াররা তাদের সতর্ক করেন। এরপরও একই ধরনের কাজ করতে থাকায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী তিলক ভার্মার দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন। ফলে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল ব্যাটিংয়ে নামার সময় তাদের স্কোরে অতিরিক্ত ১০ রান যোগ করা হয়।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল পিচের সুরক্ষিত অংশের ক্ষতি করলে আম্পায়াররা প্রথমে সতর্ক করেন। এরপরও একই কাজ করলে প্রতিপক্ষ দলকে ৫ বা তার বেশি পেনাল্টি রান দেওয়া যেতে পারে।

iNdIA
শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের স্কোরে অতিরিক্ত ১০ রান যোগ করা হয়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ক্রিকেটে পিচের সুরক্ষিত অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বলের বাউন্স ও টার্নে প্রভাব পড়তে পারে, যা ম্যাচের ভারসাম্য নষ্ট করতে সক্ষম। এ কারণেই খেলোয়াড়দের ওই অংশে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দৌড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভারত ‘এ’ দলের জন্য এই ১০ রান জরিমানা বিরল এক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা বোঝা যাবে ম্যাচে ফল দেখে।

ডাম্বুলায় আজ আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬৫ রানে অলআউট হয়েছে ভারত ‘এ’ দল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৪ ওভার শেষে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ৫ উইকেটে ১৫৯ রান করেছে। সিরিজের আরেক দল আফগানিস্তান ‘এ’।

অবসরে ফুটবল খেলা লোপেসই এখন কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসরে ফুটবল খেলা লোপেসই এখন কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক
রবার্তো লোপেস। ছবি : রয়টার্স

এক দশক আগেও রবার্তো লোপেসের দিন কাটত ব্যাংকের অফিসে। মর্টগেজ পরামর্শক হিসেবে ডেস্কে বসে কাজ করতেন, আর অবসরে খেলতেন স্থানীয় ক্লাব ফুটবল। তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি, একদিন ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আজ সেই লোপেসই কেপ ভার্দের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত। স্পেনের বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা এই ডিফেন্ডারের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানায়।

৩৩ বছর বয়সী লোপেসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা আয়ারল্যান্ডে। তার বাবা কার্লোস লোপেস কেপ ভার্দের নাগরিক। ২০১৯ সালে এক অপ্রত্যাশিত বার্তা বদলে দেয় তার জীবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে কেপ ভার্দের তৎকালীন কোচ রুই আগুয়াস তাকে জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব পাঠান।

মজার বিষয় হলো, পর্তুগিজ ভাষায় লেখা সেই বার্তাকে প্রথমে স্প্যাম ভেবে উপেক্ষা করেছিলেন লোপেস। এভাবে কেটে যায় আরো কিছু দিন। প্রায় নয় মাস পর দ্বিতীয়বার বার্তা পাওয়ার পর সেটি অনুবাদ করে দেখেন। তখনই জানতে পারেন, কেপ ভার্দে তাকে জাতীয় দলে চায়।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে লোপেস বলছিলেন, ‘আমি খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। এক সেকেন্ডও ভাবিনি। সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলাম, অবশ্যই আমি খেলতে চাই।’

এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়। কেপ ভার্দের হয়ে নিয়মিত খেলতে থাকেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে সাত বছরের পথচলায় দেশের প্রথম বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার ইতিহাসের অংশও হয়ে যান।

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে নতুন আনন্দ। কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার কয়েক দিন পরই প্রথম সন্তানের বাবা হন তিনি। ছেলে দিয়েগোকে কোলে নেওয়ার অনুভূতির সঙ্গে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার আনন্দ মিশে গেছে এক সুতোয়।

লোপেস যেমন বলছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকে প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার। আমার কাছে সেই মঞ্চ বিশ্বকাপ। পরিবারের নাম বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারা গর্বের।’

মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি মানুষের দেশ কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির জন্য এটি শুধু ফুটবল নয়, জাতীয় গৌরবেরও এক অনন্য মুহূর্ত।

আর সেই স্বপ্নযাত্রার অন্যতম মুখ রবার্তো লোপেস। যিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনের কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়। ব্যাংকের ডেস্কে বসে কাজ করা এক সাধারণ মানুষও একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের দেশের ইতিহাসের অংশ হতে পারেন।

আশরাফুলের ১০ উইকেট, চট্টগ্রামের জয় | কালের কণ্ঠ