বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। ভক্তরা নিজ নিজ পছন্দের দলকে সমর্থনে নিচ্ছে অভিনব উদ্যোগ। অনেকে সরাসরি মাঠে গিয়ে সমর্থন জোগাচ্ছে পছন্দের দলকে, বেশির আবার ঘরে বসে টিভি সেটের সামনে থেকে পছন্দের দলকে উৎসাহ দিচ্ছে। সেই সঙ্গে বড় পর্দায় প্রজেকশনের মাধ্যমে আয়োজন করা হচ্ছে পছন্দের দলের ম্যাচগুলো।
তবে এবারের বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে এক মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছে এশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। যেহেতু বিশ্বকাপ আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছ, উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সময়ের ব্যবধানে ম্যাচগুলো স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সম্প্রচার হচ্ছে। এতে কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিড়ম্বনার পড়তে হচ্ছে এই অঞ্চলের কর্মজীবীদের।
এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং মধ্যপ্রাচ্যের কর্মক্ষেত্রগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে কমে যেতে পারে উৎপাদন বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। গেল বুধবার এমনই এক আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে দুবাইভিত্তিক নিয়োগ পোর্টাল গালফটেলেন্টের জরিপে।
আরো পড়ুন
ভক্তদের কী বার্তা দিলেন মেসি
চার বছর পর আসা এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটি গোটা বিশ্বকে একটি উৎসবে পরিণত করে। আর এই উৎসব কেই বা মিস করতে চায়।
এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সৌদি আরব, কাতার, মিশর, জর্ডান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া এবং ইরাকসহ আটটি আরব দেশ অংশগ্রহণ করছে।
খেলা ও কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক কর্মজীবী নেবেন চাতুরতার আশ্রয়। তারা ঘুমের সময় কমানো, দেরিতে অফিসে যাওয়া বা অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। ইউএইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ পেশাজীবী অন্তত কয়েকটি ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করছেন। এতে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এ বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
আরো পড়ুন
বিশ্বকাপ দলের অনুশীলনে সেনেসি, প্রথম ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেজ
যারা খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাদের প্রায় অর্ধেক বলেছেন, তারা কিছু ম্যাচ দেখার জন্য সারারাত জেগে থাকবেন, প্রায় একই সংখ্যক মানুষ মধ্যরাতের আগে শুধু সন্ধ্যার খেলাগুলো দেখবেন এবং অল্প কিছুসংখ্যক মানুষ পরের দিন শুধু রিপ্লে দেখে নেবেন।
কর্মীদের এই ফুটবল উন্মাদনা এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব আমিরাতের অনেক কম্পানি নমনীয় কর্মনীতি গ্রহণ করেছে।
প্রায় ৭০ শতাংশ ম্যানেজার তাদের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কিছুটা শিথিল বা দেরিতে কাজ শুরু করার অনুমতি দিচ্ছেন। বেশ কিছু কম্পানি সাময়িকভাবে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আবার ফাঁকিবাজি রোধ করতে হাজিরা এবং ছুটির নিয়মকানুন অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে প্রয়োগে জোর দিয়েছে।
আরো পড়ুন
অবসরে ফুটবল খেলা লোপেসই এখন কেপ ভার্দের রূপকথার নায়ক
অনেক কম্পানি এই সুযোগটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে অফিসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। সেই সঙ্গে অফিসে ফুটবল থিমের সাজসজ্জা এবং ম্যাচের স্কোর প্রেডিকশন প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে বলে জরিপটিতে উঠে এসেছে।
গালফট্যালেন্টের জরিপটি বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় ১২০০ ব্যক্তির ওপর চালানো হয়েছে।