• ই-পেপার

ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসটি শচীনের জীবনে দেখা সেরা

বিশ্বকাপের পরই উরুগুয়ে ছাড়ছেন বিয়েলসা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের পরই উরুগুয়ে ছাড়ছেন বিয়েলসা
মার্সেলো বিয়েলসা। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন মার্সেলো বিয়েলসা। কিংবদন্তি এই কোচ নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপ শেষেই উরুগুয়ের দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক জার্মান গার্সিয়া গ্রোভারের তথ্য অনুযায়ী, উরুগুয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি করার কোনো পরিকল্পনা নেই ৭০ বছর বয়সী বিয়েলসার। দলের ফলাফল যেমনই হোক, বিশ্বকাপের পরই শেষ হবে তার অধ্যায়।

নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিয়েলসা বলেন, ‘বিশ্বকাপের পরই আমাদের কাজ শেষ হবে। আমাকে বিশ্বকাপ উপভোগ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য উরুগুয়েকে ধন্যবাদ।’

২০২৩ সালে উরুগুয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তার অধীনে এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ১৬ জয় পেয়েছে উরুগুয়ে। এছাড়া ১০টি ম্যাচ ড্র এবং ৭টিতে হার দেখেছে দলটি।

বিয়েলসার অধীনে আক্রমণাত্মক ও সাহসী ফুটবল খেলেই আবারও আলোচনায় এসেছে উরুগুয়ে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে দলটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এইচ’-এ খেলবে উরুগুয়ে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপের থিম সং নিয়ে অসন্তোষ, ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের থিম সং নিয়ে অসন্তোষ, ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘গোলস’ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গানটি মুক্তি পাওয়ার পর ফুটবল ভক্তরা এর লিরিক বা গানের কথা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গানটি একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের চিরচেনা উত্তেজনা ও আবেগ ফুটিয়ে তুলতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

ব্ল্যাকপিঙ্ক ব্যান্ডের জনপ্রিয় কে-পপ তারকা লিসা, ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আনিতা ও নাইজেরিয়ান শিল্পী রেমা যৌথভাবে এই গানটি গেয়েছেন। ‘ট্রপকিল্যাজ’-এর প্রযোজনায় গানটিতে কে-পপ, ল্যাটিন পপ ও আফ্রোবিটসের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ভিডিওতে শিল্পীদের দারুণ নাচ ও নিজস্ব স্টাইল থাকা সত্ত্বেও গানটি ভক্তদের মন জয় করতে পারেনি। বিশ্বকাপের থিম সং-এ সাধারণত ফুটবল প্রেম, দেশের প্রতি টান আর স্টেডিয়াম কাঁপানো শক্তির আবহ থাকে। কিন্তু ‘গোলস’ গানটিতে ফুটবল বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত রূপ আর টাকার অহমিকা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গানের কিছু লাইন যেমন—‘আমার শরীর, আমার ফিট, আমার বন্ধুরা’ আমার গাড়ি কিংবা ‘ক্লাবটা কিনে নাও, আমি এটা করি গল্পের খাতিরে’—এমন কথার তীব্র সমালোচনা করছেন ভক্তরা। তাদের মতে, এটি কোনো ফুটবল বিশ্বকাপের গান নয়, বরং সাধারণ কোনো গ্ল্যাম-পপ বা ক্লাবের গান মনে হচ্ছে।

এক ক্ষুব্ধ ফুটবল অনুরাগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের সময় সারা বিশ্বের সব ধরনের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করে। অথচ তারা এখানে রোগা হওয়া, সুন্দরী হওয়া আর ধনী হওয়া নিয়ে গান বানালো!’

অনেকে এই নতুন গানটির সঙ্গে আগের বিশ্বকাপের সুপারহিট গানগুলোর তুলনা করছেন। ২০১০ সালের শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০২২ সালের বিটিএস তারকা জাংকুকের ‘ড্রিমার্স’ গানের উদাহরণ টেনে ভক্তরা বলছেন, সেই গানগুলোর তুলনায় ‘গোলস’ চরম হতাশাজনক। এমনকি অনেকে একে ২০২২ সালের বিতর্কিত গান ‘টুকোহ টাকা’-র চেয়েও বাজে বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনলাইনে এত সমালোচনা সত্ত্বেও গানটির জনপ্রিয়তা কিন্তু কম নয়। ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে ইতিমধ্যেই গানটির ভিউ ২৫ লাখ পার হয়ে গিয়েছে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ 

শিরোপা জিতিয়েও পারলেন না রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
শিরোপা জিতিয়েও পারলেন না রোনালদো

সৌদি প্রো লিগে নিজের প্রথম মৌসুমেই বাজিমাত করলেন জোয়াও ফেলিক্স। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার তাকে ঘোষণা করা হয়েছে মৌসুমসেরা খেলোয়াড়। এই দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন তারই আল নাসর সতীর্থ ও পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। 

একদিন আগেই আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জিততে সাহায্য করেছিলেন ফেলিক্স ও রোনালদো। দামাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে রোনালদোর জোড়া গোল নিশ্চিত করে শিরোপা, যেখানে আল হিলালকে দুই পয়েন্টে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় আল নাসর। সৌদি আরবে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল রোনালদোর প্রথম বড় শিরোপা। 

৪১ বছর বয়সী রোনালদো পুরো মৌসুমে করেছেন ২৮ গোল। তবে মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার শেষ পর্যন্ত গেছে জোয়াও ফেলিক্সের হাতে। কারণ গোল করার পাশাপাশি পুরো লিগে সর্বোচ্চ ১৩টি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্টে আল নাসরের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিলেন এই পর্তুগিজ তারকা। 

ফেলিক্স এই মৌসুমেই চেলসি থেকে প্রায় ৩ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে আল নাসরে যোগ দেন। দুই বছরের চুক্তিতে সৌদি আরবে এসে প্রথম মৌসুমেই তিনি নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দেখিয়েছেন।

শিরোপা জয়ের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফেলিক্স বলেন, ‘ফুটবল খেলতে পারলেই আমি আনন্দ পাই, বিশেষ করে নিজের স্বাভাবিক পজিশনে খেলতে পারলে। কোচ আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আমাকে দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যখন কোচের এমন বিশ্বাস পাওয়া যায়, তখন সব কিছুই সহজ হয়ে যায়।’

এদিকে সৌদি প্রো লিগের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন আল নাসরের কোচ হোর্হে জেসুস। তবে পুরস্কার জয়ের পরই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই ছিল আল নাসরের সঙ্গে তার শেষ মৌসুম। 

বিশ্বকাপে নেইমারের বেদনার গল্প, ২০২৬ কি হবে মুক্তির মঞ্চ?

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে নেইমারের বেদনার গল্প, ২০২৬ কি হবে মুক্তির মঞ্চ?
নেইমার জুনিয়র। ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু তারকা আছেন, যাদের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জাদুকরী মুহূর্ত, অবিশ্বাস্য দক্ষতা আর কোটি ভক্তের আবেগ। নেইমার ঠিক তেমনই এক নাম। যার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসাধারণ প্রতিভা, জাদুকরী ড্রিবল আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য, দুর্দান্ত গোল, রঙিন ক্যারিয়ার—সবই আছে তার ঝুলিতে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চ যেন বারবার নিষ্ঠুর হয়েছে এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের প্রতি।

কখনো চোট, কখনো সমালোচনা, কখনো বা হৃদয়ভাঙা বিদায়। বিশ্বকাপ মঞ্চে নেইমারের গল্প যেন এক অসমাপ্ত নাটক। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নেইমার ভক্তদের প্রশ্ন একটাই, এবার কি অবশেষে নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন ব্রাজিলের পোস্টার বয়?

২০১০ : বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই হতাশা

তখনো কৈশোর পেরোনো তরুণ নেইমার। সান্তোসের জার্সিতে তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ পুরো ফুটবল বিশ্ব। ব্রাজিলজুড়ে শুরু হয়েছিল দাবি, বিশ্বকাপ দলে নিতে হবে নতুন এই বিস্ময়বালককে।

কিন্তু তৎকালীন কোচ দুঙ্গা সেই ঝুঁকি নেননি। ২০১০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। সিদ্ধান্তটি ব্রাজিলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে। অনেকেই মনে করেন, সেখান থেকেই বিশ্বকাপের সঙ্গে নেইমারের বেদনাময় সম্পর্কের শুরু।

২০১৪ : স্বপ্নের মঞ্চেই দুঃস্বপ্ন

নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ। কোটি ব্রাজিলিয়ান চোখে তখন একটাই স্বপ্ন, নেইমারের হাত ধরে হেক্সা জিতবে সেলেসাওরা। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সে ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। 

ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে গোল করে দলকে টেনে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে আসে সেই ভয়াবহ মুহূর্ত।

ক্যামিলো জুনিগার হাঁটুর আঘাতে মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট পান নেইমার। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তার বিশ্বকাপ। পরে নিজেই জানান, কয়েক সেন্টিমিটারের জন্য প্যারালাইসড হওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।

নেইমারহীন ব্রাজিল এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হার দেখে। সেই রাত এখনো ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতিগুলোর একটি।

২০১৮ : মাঠের লড়াই থেকে ‘মিম’ হওয়া

রাশিয়া বিশ্বকাপে নেইমার ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। পিএসজিতে যোগ দিয়ে তখন তিনি ক্যারিয়ারের শীর্ষে।

কিন্তু মাঠে প্রতিপক্ষের কঠিন ট্যাকল যেমন ছিল, তেমনি ছিল সমালোচনার ঝড়ও। বিশেষ করে মেক্সিকো ম্যাচে ফাউলের পর তার নাটকীয় প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফুটবল ছাড়িয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ‘মিম কালচার’-এর অংশ। অথচ সেই বিশ্বকাপেও গোল করেছিলেন, দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হারের পর আবারও অপূর্ণ থেকে যায় ব্রাজিলিয়ানদের স্বপ্ন।

২০২২ : কান্না, নীরবতা আর অসমাপ্ত প্রতিশোধ

কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো নেইমারের সবচেয়ে আবেগঘন বিশ্বকাপ। প্রথম ম্যাচেই সার্বিয়ার বিপক্ষে একের পর এক ট্যাকলের শিকার হয়ে গোড়ালিতে চোট পান তিনি।

গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ মিস করলেও নকআউটে ফিরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করেন। পুরো ব্রাজিল তখন আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন নেইমার। মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি সব বদলে যাবে।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ব্রাজিল হেরে যায় নেইমারের শট নেওয়ার আগেই। মাঠে বসে কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমারের ছবি হয়ে ওঠে পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আবেগী দৃশ্যগুলোর একটি।

২০২৬ : মুক্তির শেষ মঞ্চ?

এবারের বিশ্বকাপ হয়তো নেইমারের শেষ সুযোগ। বয়স বেড়েছে, চোটের ইতিহাস দীর্ঘ হয়েছে, ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবু কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখনো বিশ্বাস করেন, বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন নেইমারই।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ তাই শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি নেইমারের জন্য নিজের গল্প নতুন করে লেখার শেষ সুযোগ।

হয়তো ২০২৬-এই শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে তাকিয়ে হাসবেন নেইমার। আর যদি সেটি সত্যি হয়, তবে এত বছরের সব কান্না, সব ব্যর্থতা আর সব আক্ষেপ হয়তো এক মুহূর্তেই ইতিহাস হয়ে যাবে।