শুরুতেই হতাশ করলেও সমর্থকদের মুখে কিভাবে হাসি ফোটানো যায় তা ভালো করেই জানেন লিওনেল মেসি। ডালাসে সেটা আরেকবার করে দেখালেন জাদুকর মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে। তার জাদুতে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটও নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরুতেই ভুল করেন মেসি। পরে অবশ্য প্রায়শ্চিত্ত করলেন তিনি। ডালাসে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪ মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ায়। লাউতারো মার্তিনেজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার। রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজালেও ভিএআরে ঠিকই পেনাল্টি দেন তিনি। তবে দলকে লিড এনে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি মিস করেন মেসি। বল বাইরে মারায় বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অপেক্ষাটাও তাই বেড়ে যায়।
১৯ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এবার ঠিক মতো শট নিতে না পারায় বল সেভ দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সন্ডার শ্লেগার। ২২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে শট ব্লক হওয়ায় গোল আর পাওয়া হয়নি।
৩২ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এবার বল জালে জড়ানোর আগে ব্লক করে দেন অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার। তবে ৩৮ মিনিটে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে থামাতে পারেনি কেউই।
বক্সের মধ্যে থেকে দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন মেসি। ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে গোল করে তাতে রেকর্ডও গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন ৩৮ বছর বয়সী প্লে মেকার। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোল ১৭টি। ছাড়িয়ে গেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। জার্মান কিংবদন্তির গোল সংখ্যা এখন ১৬।
বিরতির পর সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে ৫৫ মিনিটে নেওয়া মার্সেল সাবিটজারের ফ্রি কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
৭৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেস। তবে মেসির নেওয়া কর্নারে হেড নিলেও অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে আরেকটি সুযোগ মিস করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের শরীর বরাবর বল মারেন তিনি।
সতীর্থরা মিস করলেও যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল ঠিকই আদায় করে নিলেন মেসি। তবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের আগে কিছুটা নাটকীয়তা ছিল গোলটিতে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে গোল করাতে চেয়েছিলেন মেসি। মুখে তুলে দেওয়ার মতো এক পাস বাড়িয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলেন আলভারেজ। ফিরতি সুযোগ পেয়ে অবশ্য দুর্দান্ত এক ফিনিশিংই দিলেন বিশ্বকাপে ১৮ গোলের মালিক মেসি। তারা জোড়া গোলের পরেই ম্যাচ শেষের বাঁশিও বাঁজান রেফারি।
এ জয়ে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। জর্ডান-আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।