• ই-পেপার

মানছেন না ক্লাবের বাধা, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেনই চার তারকা

কোরিয়ার সাংবাদিককে চুমু মেক্সিকোর সুন্দরীর, ভাইরাল ভিডিও

ক্রীড়া ডেস্ক
কোরিয়ার সাংবাদিককে চুমু মেক্সিকোর সুন্দরীর, ভাইরাল ভিডিও
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ শুরুর নিজ নিজ গ্রুপ ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো। ম্যাচ পরবর্তী লাইভে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক সাংবাদিক। ভরা রাস্তায় লাইভ চলাকালীন ওই সাংবাদিকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন মেক্সিকোর এক সুন্দরী তরুণী সমর্থক। মুহূর্তে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে। তাতেই শুরু বিতর্ক।

প্রশ্ন উঠে এভাবে কি কাউকে অনুমতি ছাড়া চুমু খাওয়া যায়? ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাইভ চলাকালীন হঠাৎই পিছন থেকে এসে মেক্সিকোর এক নারী ভক্ত কোরিয়ার ওই সাংবাদিককে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু সেখানেই থামেননি। হঠাৎ সাংবাদিকের গালে চুমু খেয়ে বসেন মেক্সিকোর ওই সুন্দরী তরুণী। সাংবাদিক তখন যেন পালাতে পারলে বাঁচেন। কোনও রকমে জোর করে হাসি ধরে রেখেছিলেন।
 
কিন্তু এই ঘটনার পর বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, ব্যাপারটা যদি উলটো ঘটত?  অর্থাৎ যদি কোনও পুরুষ একজন মহিলা সাংবাদিককে ভরা রাস্তায় চুমু খেতেন, তাহলে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠত। 

তাহলে এক্ষেত্রে ওই মহিলা কেন পার পাবেন? আবার অনেকের বক্তব্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি এখন সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। সেই হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষদেরও পছন্দ করা হয়। অন্যদিকে মেক্সিকোও অন্য দেশের মানুষদের আপন করে নিতে জানে। সেই হিসেবে এটা উচ্ছ্বাসের অতি বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। অন্যদিকে পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলে কামব্যাক করে চেক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। 

বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে প্রথম উন্মুক্ত অনুশীলন সম্পন্ন করল ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে প্রথম উন্মুক্ত অনুশীলন সম্পন্ন করল ইরান
ছবি : রয়টার্স

মেক্সিকোর টিজুয়ানায়র নতুন বেস ক্যাম্পে প্রথম উন্মুক্ত অনুশীলন সম্পন্ন করেছে ইরান ফুটবল দল। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে ক্যাম্প পরিবর্তন করতে বাধ্য ‘টিম মেলি’রা। এতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

গত বৃহস্পতিবারের (১১ জুন) প্রথম অনুশীলনে দলের ২৬ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ১২ জন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমিসহ বেশ কয়েকজন প্রধান খেলোয়াড় এই সেশনে অংশ নেননি। 

মেক্সিকোর স্থানীয় ক্লাব ‘জলোসে’র ট্রেনিং পিচে সবুজ জার্সি পরে খেলোয়াড়রা হালকা জগিং এবং স্ট্রেচিং সম্পন্ন করেন।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আগামী সোমবার (১৫ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। ম্যাচ ও অফিশিয়াল ফিফা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে দলটি রবিবার (১৪ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছাবে এবং সেখানে এক রাত অবস্থান করবে।

সস্তা বিমান টিকিট ও বিয়ার—দর্শকদের আকর্ষিত করছে টরন্টো

ক্রীড়া ডেস্ক
সস্তা বিমান টিকিট ও বিয়ার—দর্শকদের আকর্ষিত করছে টরন্টো
ফিফা বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন কনসার্ট চলাকালীন দর্শকদের উল্লাস। ছবি : রয়টার্স

আর কয়েক ঘণ্ট পর বিশ্বকাপ ম্যাচে মাতবে কানাডা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল ভক্তদের স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত টরেন্টো। টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক শহর হিসেবে টরন্টোতে মোট ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার শুরুটা হচ্ছে শুক্রবার (১২ জুন) কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে। 

তবে বিশ্বকাপ উন্মাদনা শুরু হলেও অনেক টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে। বৃষ্টিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভেস্তে গেছে। বড় বড় ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে হচ্ছে। তারপর টরন্টোতে আগত দর্শনার্থীরা কানাডায় অনুষ্ঠিত সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচটি উপভোগ্য করতে সব চেষ্টাই করছে।

কিছু ভ্রমণকারী শুধু কানাডায় ভ্রমণ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংস্কৃতিগতভাবে দুটির দেশ মধ্যে মিল থাকায়। আর অনেকে আবার একটু মদ্যপান করার জন্য যাত্রাবিরতি নেন। আবার অনেকে শুধু মদ্যপানের জন্য ভ্রমণ করেন। টরন্টোতে মদ্যপানের বয়সসীমা ১৯, আমেরিকার তুলনায় কম।

স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা ব্রাইডেন বলেছেন, বিমান টিকিটের মূল্য কম হওয়ায় শুধু মদ্যপান করতে আমরা এখানে এসেছি।

গত বৃহস্পতিবার ব্রাইডেন এবং তার অন্য ছয় বন্ধু, সবাই ক্লাসিক স্কটিশ টারটান পোশাকে সজ্জিত হয়ে বারের সন্ধানে টরন্টো শহরের আইকনিক সিএন টাওয়ারের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।

আগামী শনিবার বোস্টনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তারা কয়েক গ্লাস বিয়ার পান করার পরিকল্পনা করেছিল। যেখানে স্কটল্যান্ড হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচ খেলবে।

কানাডাতেও সারা বিশ্ব থেকে আসা বিপুলসংখ্যক অভিবাসী বাস করেন। যারা নিজ নিজ দেশের খেলা দেখতে আসেন।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার অধিবাসী এবং কানাডার নাগরিক ৪১ বছর বয়সী ইরফান, তার দুই সন্তানকে নিয়ে অটোয়া থেকে নিজ মাতৃভূমিকে সমর্থন জানাতে এসেছেন। প্রবাসে থেকে নিজ মাতৃভূমিকে সমর্থন জানানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি তারা।

বিশ্বকাপ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানি সমর্থকরা

বিশ্বকাপ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানি সমর্থকরা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ নিয়ে ইরানি-আমেরিকান ফুটবল সমর্থকেরা গভীর দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং উৎকণ্ঠার মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে মাঠে খেলা দেখার উত্তেজনা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে উভয় দেশের সমর্থকরা মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে ইরান। তখন গ্যালারিতে বসে নিজের দেশকে সমর্থন জানাবেন ইরানি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এহসান শাফি। প্রবাসী হয়ে নিজ দেশকে সমর্থনের এই সুযোগ বিরল হিসেবে দেখছেন তিনি। 

তবে শাফির মত ভক্তরা দ্বিধাবিভক্ত খেলবে কি না। কারণ একদিকে  ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরানে ওয়াশিংটনের হামলা, অন্যদিকে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করা ইরানিদের কঠোরভাবে দমন করেছে তেহরান। তাই নিছক ক্রীড়া উদযাপনের মুহূর্তটিও হয়ে দাড়িয়ছে তাদের জন্য আতঙ্কের। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইরানি-আমেরিকান ফুটবল ভক্তদের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, তারা ইরানি পরিচয়ে গর্বিত এবং দেশটির বর্তমান শাসকদের প্রত্যাখ্যানের মধ্যে বিভক্ত। এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বৃহৎ একটি অংশ জুড়ে ইরানি প্রবাসীরা বসবাস করে। এতে জায়গাটি ‘তেহরানজেলেস’ নামেও পরিচিত। সেখানে নিজেদের প্রিয় দল 'টিম মেল্লি' ভালোবাসেন তারা। তবে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে দলের প্রতি সমর্থন জানানোকে অনেকে তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে বৈধতা দেওয়ার সমান মনে করছেন।

ইরান ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং এরপর ২৬ জুন মিশরের বিপক্ষে খেলতে সিয়াটলে যাবে। শাফিও টিকিট জোগাড় করেছেন । একজন ভক্তের মতোই আশাবাদী, স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচগুলো উপভোগের বিরল সুযোগ হাত ছাড়া করবেন না।

তবে অনেক কট্টর ইরানি ফুটবল ভক্ত এবার খেলা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার বা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দল দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে না।

স্টেডিয়ামগুলোতে সরকারবিরোধী বা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কায় এবং মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির ভয়ে অনেক সমর্থক মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে দ্বিধাবোধ করছেন বলে জানা গেছে। 

মানছেন না ক্লাবের বাধা, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেনই চার তারকা | কালের কণ্ঠ