• ই-পেপার

ভারতের বোলিং সবার সেরা : রমিজ রাজা

হার সহ্য করতে না পেরে মেডেলও নিলেন না রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
হার সহ্য করতে না পেরে মেডেলও নিলেন না রোনালদো
হারের পর এমন হতাশ দেখা যায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে। ছবি : রয়টার্স

এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু ফাইনালে হারের হতাশা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষের পর তার আচরণ ঘিরে এখন তুমুল আলোচনা ফুটবল দুনিয়ায়।

শনিবার ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আল নাসর। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধেই। এরপর পুরো ম্যাচে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সৌদি ক্লাবটি।

পরাজয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দলের সঙ্গে দেখা যায়নি রোনালদোকে। আল নাসরের খেলোয়াড়রা যখন মেডেল নিতে মঞ্চে উঠছিলেন, তখন সেখানে ছিলেন না পর্তুগিজ তারকা। তার বদলে দলের নেতৃত্ব দেন কোচ জর্জ জেসুস।

 

রোনালদোর অনুপস্থিতির আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো দেয়নি ক্লাব। তবে ম্যাচ শেষে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে ভীষণ ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখা যায়। মাঠেই হতাশ মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

 

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেক সমর্থকের ধারণা, ফাইনাল হারের মানসিক ধাক্কা থেকেই মেডেল অনুষ্ঠানে যেতে চাননি রোনালদো।

সৌদিতে যোগ দেওয়ার পর বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ছিল রোনালদোর। কিন্তু গাম্বা ওসাকার কাছে হেরে সেই অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হলো।

সৌদিতে রোনালদোর ট্রফি-অভিশাপ কাটল না

ক্রীড়া ডেস্ক
সৌদিতে রোনালদোর ট্রফি-অভিশাপ কাটল না
সৌদিতে রোনালদোর ট্রফি-অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হলো। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের আগের সব আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। সৌদিতে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারবেন কি না, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। তবে ফাইনালে সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে জাপানের গাম্বা ওসাকা।

শনিবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে আল নাসরকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে গাম্বা ওসাকা।

২০০৮ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা গাম্বা এই ট্রফি জিতে ইতিহাসও গড়েছে। তারাই প্রথম জাপানি ক্লাব হিসেবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু শিরোপা জিতল।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ২৯তম মিনিটে। আক্রমণের শুরুটা হয়েছিল রোনালদোর ভুল থেকে। পরে ডেনিজ হুমেত বক্সের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আল নাসর। তবে গাম্বার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখান।

রোনালদো পুরো ম্যাচেই অনেকটা নিষ্প্রভ ছিলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। এ ছাড়া সাদিও মানে ও জোয়াও ফেলিক্সও চেষ্টা করেছিলেন। ফেলিক্সের একটি শট পোস্টে লাগে, আরেকটি শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয় গাম্বার ডিফেন্ডাররা।

শেষ পর্যন্ত আল নাসরের সব আক্রমণ ঠেকিয়ে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে গাম্বা ওসাকা। আর রোনালদোর সৌদি অধ্যায়ে আরো একবার শিরোপা হাতছাড়া হলো।

চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ শিরোপা ম্যান সিটির

ক্রীড়া ডেস্ক
চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ শিরোপা ম্যান সিটির
সংগৃহীত ছবি

আন্তোয়ান সেমেনিওর দুর্দান্ত ফ্লিক গড়ে দিল ব‍্যবধান। চলতি মৌসুমে ট্রেবলের আশা বাঁচিয়ে রাখল ম‍্যানচেস্টার সিটি। চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা জিতে নিল পেপ গার্দিওলার দল।

ওয়েম্বলিতে শনিবার ফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছে সিটি। ম‍্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একমাত্র গোলটি করেছেন সেমেনিও।

স্টেডিয়ামে তখন ম্যাড়মেড়ে ফুটবলের ক্লান্তি। প্রথমার্ধের একঘেয়ে ফুটবল দেখে গ্যালারির দর্শকেরা যখন হাই তুলছেন, ঠিক তখনই মঞ্চে আবির্ভাব এক ঘানাইয়ান জাদুকরের। ম্যাচের বয়স তখন ৭২ মিনিট। আর্লিং হলান্ডের পাস থেকে আন্তোয়ান সেমেনিওর সেই অবিশ্বাস্য, চোখধাঁধানো ফ্লিক! বল যখন চেলসির জাল ছুঁয়ে গেল, ওয়েম্বলি তখন ম্যানচেস্টার সিটির নীল উৎসবে মাতোয়ারা। এই একমাত্র গোলেই চেলসিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় ট্রফি—এফএ কাপ ঘরে তুলল পেপ গার্দিওলার দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসির কৌশল ছিল অতি-রক্ষণাত্মক। নিজেদের গুটিয়ে রেখে সিটিকে আটকে রাখাই ছিল ব্লুদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে সিটির খেলায়ও চেনা সেই ধার বা সৃজনশীলতা ছিল না। ফলে প্রথমার্ধে মাঠের ফুটবলে রোমাঞ্চের বড্ড অভাব ছিল।

তবুও এর মাঝেই গোলের দেখা পেয়েছিলেন আর্লিং হলান্ড। কিন্তু বিল্ড-আপের সময় মাথেউস নুনেস অফসাইড থাকায় রেফারি সেই গোল বাতিল করেন। বিরতির ঠিক আগে মার্ক গুয়েহির চমৎকার পাস থেকে বল পেয়েছিলেন হলান্ড। কিন্তু তাঁর শট সরাসরি চলে যায় চেলসি কিপার সানচেজের গ্লাভসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের আবহ কিছুটা বদলায়। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ম্যাচের নায়ক সেমেনিও নিজেই। নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রস থেকে ব্যাক পোস্টে ফাঁকায় বল পেয়েও হেডটি গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন এই ফরোয়ার্ড। চেলসিও অবশ্য পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছিল। ময়জেস কাইসেদোর একটি হেড যখন সিটির গোললাইন অতিক্রম করার মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে দুর্দান্ত দক্ষতায় হেড করে বিপদমুক্ত করেন রদ্রি।

খেলার বয়স যখন মাঝামাঝি, তখন ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করে। ৭২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। হলান্ড-সিলভার যুগলবন্দি থেকে পাওয়া বলে সেমেনিওর ওই চোখজুড়ানো ফ্লিক ডেডলক ভেঙে দেয়। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চেলসি মরিয়া হয়ে ওঠে। সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। একটি লং থ্রো থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর তার নেওয়া ভলিটি ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সিটি। কিন্তু মাথেউস নুনেস ও রায়ান চেরকির দুটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে রুখে দেন চেলসি গোলরক্ষক সানচেজ। তবে তাতে সিটির অষ্টমবারের মতো এফএ কাপ জয় ও গার্দিওলার অধীনে ২০ নম্বর শিরোপা জয় আটকায়নি।

‘ভাগ্যেরও দরকার আছে’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘ভাগ্যেরও দরকার আছে’
মুখের হাসির মতোই আজ সিলেটে ব্যাট হেসেছে লিটনের। ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বরাবরই ব্যাট হাসে লিটন দাসের। সেই তাকেই যদি ‘জীবন’ দেন পাকিস্তানের ফিল্ডাররা তাহলে উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের জন্য দিনটা ‘সোনায়-সোহাগা’ হওয়ার কথা। হয়েছেও। ভাগ্যের সহায়তা পেয়ে দিনটা নিজের করে নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার।

সিলেট টেস্টে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন। ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলার পথে দুবার ‘জীবন’ পেয়েছেন তিনি। দিনশেষে তার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টা তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা খুররাম শেহজাদ। পাকিস্তানি পেসারের কথার সুর অনেকটা এমন—লিটন আজ ভাগ্যবান ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এসে অনেকটা সরল স্বীকারোক্তি লিটনের। তবে প্রতি উত্তরে কিছুটা ভিন্ন সুরও ছিল। তা হচ্ছে-ভাগ্যেকে পাশে পেলেই কি সবাই কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘ভাগ্যবান? ঠিক আছে, কখনো ভাগ্যেরও দরকার আছে। আর ভাগ্যের কথা, ক্রিকেটে তো সব সময় আপনার এক শতে এক শ হবে না। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে ভাগ্য সহায় হলে আরো কাজে লাগে।’

বাংলাদেশের কঠিন সময়ে ভাগ্যেকে পাশে পেয়েছেন লিটন। কেননা ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। এমন কঠিন সময়ে টেলএন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশকে উদ্ধার করেছেন তিনি। ২৭৮ রানের সংগ্রহ এনে দিয়েছেন দলকে। সে সময় সতীর্থদের সঙ্গে তার কী পরিকল্পনা ছিল, সেটাই ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা করলেন তিনি। 

লিটন বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ে নামার সময় উইকেটটা একটু কঠিন ছিল। জানতাম না খেলাটা এত দূরে যাবে। যখন শুরুতে যাই মনে হচ্ছিল, টেলএন্ডের অবস্থা খুব একটা ভালো না। চিন্তা ছিল মারতে গিয়ে যদি আরো ৩০ রান করে অলআউটও হয়ে যাই, অন্তত কঠিন কন্ডিশনে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে।’

এর আগে শেহজাদ বলেছেন, ‘তারা ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। লিটনের ভাগ্য সহায় হয়েছে। একটা নয়, দুটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদি সেগুলো নেওয়া যেত। তাহলে হয়তো সব কিছুই আলাদা হতো। হয়তো দুই শর আগেই অলআউট হয়ে যেত তারা।’

ভারতের বোলিং সবার সেরা : রমিজ রাজা | কালের কণ্ঠ