• ই-পেপার

বাংলাদেশে এসে উচ্চতার কারণেই বিপদে পড়েছে অজিরা!

ওয়ানডে সিরিজ থেকেও ছিটকে গেলেন লিটন, বদলি ইমন

ক্রীড়া ডেস্ক
ওয়ানডে সিরিজ থেকেও ছিটকে গেলেন লিটন, বদলি ইমন

টেস্ট খেলতে পারেননি, টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে লিটন কুমার দাস নিজেই ছুটি নিয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলবেন না জেনেই জিম্বাবুয়ে গিয়েছিলেন। এখন জানা গেল ওয়ানডে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ থেকেও ছিটকে গেছেন তিনি। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের বদলি হিসেবে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচের জন্য পারভেজ হোসেন ইমন ডাক পেয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে এক বিবৃতিতে এ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান বলেন, লিটন প্রথম ওয়ানডেতেও খেলতে পারেননি এবং এখনও ম্যাচ খেলার মতো ফিট নন। বুধবার তার একটি ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফল সন্তোষজনক হয়নি। সামনে টানা দুইটি ওয়ানডে থাকায় আমরা মনে করছি না, এই সময়ের মধ্যে সে ম্যাচ খেলার মতো পর্যাপ্ত উন্নতি করতে পারবে।

এখনও হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা রয়ে যাওয়ায় দেশে ফিরে আসবেন লিটন। দেশেই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলবে।

গত মাসে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় চোটে পড়েন লিটন। তখন ক্র্যাম্প মনে হলেও, পরে জানা যায় মাংসপেশির চোটে পড়েছেন।

ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও প্রথম ওয়ানডে খেলতে পারেননি তিনি।

লিটনের বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত বছরের জুলাইয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচে একটি হাফ সেঞ্চুরিসহ করেন ১০৮ রান। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে সাত ইনিংসে একটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে ২৯৯ রান করেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সিরিজের পরের দুই ম্যাচ হবে বৃহস্পতিবার ও শনিবার।

ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আর্জেন্টিনার ৫ রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আর্জেন্টিনার ৫ রেফারি

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারি ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) একাধিক বির্তকিত সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আটলান্টায় কাল রাতে আর্জেন্টিনার কাছে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিকে নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে মিশর। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে অভিযোগ মিশরের। 

এমন বির্তকের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি বিতর্কে যুক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনার নাম।

বোস্টনে আগামীকাল রাতে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে এমন এক রেফারি প্যানেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা চলতি বিশ্বকাপে আগের ৯৬টি ম্যাচে দেখা যায়নি। 

এই প্রথম কোনো ম্যাচে মাঠে ও মাঠের বাইরে মিলিয়ে ৫ জন অফিশিয়ালের সবাই এসেছেন একই দেশ থেকে—আর্জেন্টিনা! গতকাল ফিফা এই ম্যাচ অফিশিয়ালদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমীর নজরে এসেছে আজ।

এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স, যারা সর্বশেষ দুটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছে।

২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর পেনাল্টিতে ৪-২ ব্যবধানে জয়ী হয়।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট ফিফার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো লজ্জা নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ফিফার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের ম্যাচের জন্য সব আর্জেন্টিনার রেফারি। ফিফা আবারো আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপ কারচুপি করার সব চেষ্টা করছে।’

অন্য একজন পোস্ট করেছেন, ‘ফিফা আর এটা লুকায় না। সবাই আর্জেন্টাইন। আপনারা মেসিকে কেন ভিএআর পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসছেন না?’

মূল রেফারি হিসেবে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টাইন ফাকুন্দো তেল্লোকে। ফ্রান্স-মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

তেল্লোর স্বদেশি জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাদেকে সহকারী রেফারি হিসেবে দেখা যাবে। আরেক আর্জেন্টাইন দারিও হেরেরাকে চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে রাখা হয়েছে। ক্রিস্তিয়ান নাভারো থাকবেন রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে। তিনিও আর্জেন্টাইন।

৫ আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়ে কথা বলেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো। তিনি বলেন, ‘রেফারি কে হবেন, তার ওপর আমি মনোযোগ দিতে যাচ্ছি না। আমরা এর আগে কখনো এমনটি করিনি, আমরা মরক্কো ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা এই ম্যাচ জিততে চাই। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

ফাউলের পর ফাউল করেও এত কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা!

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাউলের পর ফাউল করেও এত কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা!

একের পর এক ফাউল, প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে বাজেভাবে ট্যাকল, জার্সি টেনে ধরা—এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়ের এমন দৃশ্যের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। 

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিনেই আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও মেসিকে কোনো কার্ড না দেখানো হয়নি।

এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সাভের শালগারকে নিজেদের অর্ধে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবু রেফারি ফাউল না ধরে খেলা চালিয়ে যেতে দেন। সেখান থেকেই আক্রমণ গড়ে তুলে গোল করেন মেসি। 

আর গত রাতে মিসরের সঙ্গে সুবিধা পাওয়ার দৃশ্যগুলো তো তরতাজাই। 

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই যে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা এত ফাউল করছেন, তবু তাদের খুব একটা খুঁত খুঁজে পাচ্ছেন না রেফারি। আলবিসেলেস্তেদের কার্ড দেখিয়ে সতর্কও করা হচ্ছে না তেমন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো মেসি-মার্তিনেজদের প্রতিপক্ষরাই কার্ড দেখছেন!

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত যে পাঁচ ম্যাচ খেলেছে, এর চারটিতেই প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেরা বেশি ফাউল করেছে। 
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১২টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১৩টি, মিসরের বিপক্ষে ১৩টি এমনকি নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষেও ১৩টি ফাউল করেছে। একমাত্র কম ফাউল করেছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বেশ পিছিয়ে থাকা দল জর্ডানের বিপক্ষে (৭টি)। 

ক্রীড়াভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম বোলাভিআইপি দিয়েছে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। বিশ্বকাপে যে আট দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, তাদের মধ্যে ফাউলপ্রতি সবচেয়ে কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দল প্রতি ১৯.৭ ফাউলে কার্ড দেখেছে একটি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি কার্ড দেখানো হয়েছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। সবই হলুদ কার্ড; লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়নি কাউকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের কার্ড দেখার অনুপাতে সবচেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের প্রতি ৭.৭ ফাউলে একবার কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেছেন রেফারিরা। 

সংখ্যার হিসেবে শেষ আটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ২টি কার্ড দেখেছে নরওয়ে। ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া নরওয়ে ফাউলও করেছে অনেক কম। পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র ৪৮টি। আর্লিং হালান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডদের খেলার ধরন ও মাঠে শৃঙ্খলা বা রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া নিয়েও কারো কোনো অভিযোগ নেই। 

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের কার্ড দেখার অনুপাত

ইংল্যান্ড ⟩ প্রতি ৭.৭ ফাউলে এক কার্ড
মরক্কো ⟩ প্রতি ১০.২ ফাউলে এক কার্ড
সুইজারল্যান্ড ⟩ প্রতি ১১.৫ ফাউলে এক কার্ড
ফ্রান্স ⟩ প্রতি ১২.৩ ফাউলে এক কার্ড
বেলজিয়াম ⟩ প্রতি ১৫ ফাউলে এক কার্ড
স্পেন ⟩ প্রতি ১৮.৩ ফাউলে এক কার্ড
আর্জেন্টিনা ⟩ প্রতি ১৯.৭ ফাউলে এক কার্ড
নরওয়ে ⟩ প্রতি ২৪ ফাউলে এক কার্ড

রেফারিং নিয়ে কথা না বলতে চাপ সালাহকে

ক্রীড়া ডেস্ক
রেফারিং নিয়ে কথা না বলতে চাপ সালাহকে
ছবি : কেডিসি গ্লোবাল

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর। ম্যাচজুড়ে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিসর কোচ হোসাম হাসান ও বেশ কয়েকজন ফুটবলার। তখন নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর একটি মন্তব্য নেটদুনিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

যেই মন্তব্যে ফিফার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মোহামেদ সালাহ বলেন, ‘রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না, বললে সমস্যায় পড়ব। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচে সব সিদ্ধান্ত যদি আপনার বিপক্ষে যায়, সেটা সত্যিই হতাশাজনক। ফুটবলের জন্য এটি দুঃখজনক।’

তবে এটি ফেসবুক, রেডিট, এক্স, থ্রেডসে ছড়িয়ে পড়েছিল কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি বা কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই স্টোরি করেনি।

এই ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা। অভিযোগে তিনি ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। মিসরের দাবি, রেফারি ও তাঁর সহকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ম্যাচের সব কিছু চাপিয়ে এখন আলোচনায় রেফারিং বিতর্ক। তবে তার পরও ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে মেসির অতিমানবীয় খেলায় ম্যাচে ফিরে জয় রূপকথার গল্পের মতোই ইতিহাস হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশে এসে উচ্চতার কারণেই বিপদে পড়েছে অজিরা! | কালের কণ্ঠ