সিয়াটলে রেফারির কিক অফ বাঁশি শেষ হতেই বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার আক্রমণ। শুরুর ৩ মিনিটে একটি নয় দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে সে যাত্রায় কাতারকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাডা।
তবে এরমেন্ডিন দেমিরওভিচ ও ইভান সুনজিকের শট দারুণ দক্ষতায় শুরুতে ঠেকিয়ে দিলেও কাতারের হার এড়াতে পারেননি আবুনাডা। ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে ৩-১ ব্যবধানের হার দেখেছে তারা। এ হারে বিশ্বকাপের পথচলাও থেমেছে তাদের। বিদায়বেলা তাদের সঙ্গী হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ে পাওয়া ১ পয়েন্ট।
বিপরীতে আজকের জয়ে বিশ্বকাপ ভাগ্যে টিকে রইল বসনিয়ার। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা তৃতীয়। অন্যদিকে কানাডার বিপক্ষে জয় পাওয়া সুইজাল্যান্ড ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। তাদের সঙ্গী হিসেবে শেষ ৩২ জায়গা পেয়েছে ৪ পয়েন্ট পাওয়া কানাডা। বসনিয়া-কানাডার পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হয়েছে কানাডা।
ম্যাচের শুরুতে কাতারের গোলরক্ষক আবুনাডা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও ২৯ মিনিটে কেরিম আলাজবেগোভিচকে থামাতে পারলেন না। আসলে বক্সের বাইরে থেকে কেরিমের চোখ ধাঁধানো শটটি প্রতিহত করার কোনো উপায়ই ছিল না কাতারের গোলরক্ষকের।
গোলমুখ খুলতেই দ্বিতীয় লিড নিতে সময় লাগল না বসনিয়াকে। তবে ৩৪ মিনিটে পাওয়া গোলটি আত্মঘাতী। এডিন জেকোর ভলি শট ব্লক করার জন্য সুলতান আল ব্রেক পা দাঁড়ালে হালকা স্পর্শ হওয়ায় বল জালে জড়ায়। বলের গতি পথ বদলে যাওয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েও আর ঠেকাতে পারেননি আবুনাডা। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ৩৮ মিনিটে ডেকোর বাঁ পায়ের শটটি দূরের পোস্টে না লাগত।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়া কাতার ম্যাচে ফেরে ৪২ মিনিটে। এডমিলসন জুনিয়রের পাসে দারুণ এক ফিনিশিং করেন হাসান আল হাইদুস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে সমতা ফেরানো গোলটি করেন কাতারের অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার সুযোগও পেয়েছিল তারা।
কিন্তু ভাগ্য পাশে ছিল না কাতারের। পেদ্রো মিগুয়েলের শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে বিট করলেও দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এতে হতাশা নিয়েই ২-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় তারা।
বিরতির পর সমতায় ফিরতে মরিয়া কাতারকে ৮১ মিনিটে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন এরমিন মাহমিচ। সতীর্থ স্টেফান রেডেলজিচের পাস থেকে গোলটি করেন বদলি নামা মিডফিল্ডার। তার শেষ পেরেকেই ৩-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপের নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা।
আজকের জয়ে তাদের পয়েন্ট দুই ম্যাচে ৪। সমান পয়েন্ট স্বাগতিক কানাডার হলেও গোল ব্যবধানে তারা ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে সুযোগ পেয়েছে। সুইসদের পয়েন্ট ৭।




