• ই-পেপার

টোকিও অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়ালেন ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক!

ফাইনালে যেতে যেসব দলের মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে যেতে যেসব দলের মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পর্দা নামছে আজ। এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে গ্রুপ পর্বের সব হিসাব-নিকাশ। ইতোমধ্যেই নকআউটের ৩২ দলের সমীকরণ প্রায় চূড়ান্ত। এর মাঝেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই দাপটের সঙ্গে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর গ্রুপ সেরা হওয়ার সুবাদে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা পেয়ে গেছে তাদের নকআউট পর্বের সম্ভাব্য রোডম্যাপও।

শেষ ৩২-এর প্রথম লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ, বিশ্বমঞ্চের নবাগত দল কেপ ভার্দে। আপাতদৃষ্টিতে সহজ প্রতিপক্ষ মনে হলেও, উরুগুয়ে ও স্পেনের মতো বিশ্বফুটবলের দুই পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে নকআউটে উঠে আসা কেপ ভার্দে কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে মায়াজাল বুনে চমকে দিতে পারে।

নবাগত দলটির বাধা টপকাতে পারলে শেষ ষোলোর মঞ্চে লিওনেল মেসিদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে অস্ট্রেলিয়া কিংবা মিসর। যদি সকারুজদের (অস্ট্রেলিয়া) বিপক্ষে দেখা হয়, তবে ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে যাবেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিতে। গত আসরেও ঠিক এই পর্বেই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল; যেখানে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

বিশ্বজয়ের এই মিশন আরেকটু সামনে আগালেই কোয়ার্টার ফাইনাল। শেষ আটের টিকিট পেলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষ দল। কলম্বিয়া ও পর্তুগালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ শেষে চূড়ান্ত হবে সেই নাম। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে পড়ার সুযোগ রয়েছে সুইজারল্যান্ডের, যারা ইতোমধ্যেই এই ব্রাকেডে অবস্থান নিশ্চিত করে ফেলেছে।

আসল রোমাঞ্চ আর স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা অপেক্ষা করছে সেমিফাইনালে। ফাইনালে ওঠার সেই মহাসংগ্রামে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবা হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড! ফুটবলবিশ্ব তাই বুক বেঁধে আছে সেমিফাইনালে আরও একটি অতিপ্রত্যাশিত ‘সুপারক্লাসিকো’ দেখার জন্য।

আর সব বাধা পেরিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পা রাখতে পারলে, শিরোপা ধরে রাখার শেষ যুদ্ধে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা পেতে পারে অন্য ব্র্যাকেটের শীর্ষ চার পরাশক্তি— ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস কিংবা জার্মানির যেকোনো একটিকে। 

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া-ঘানাও গেল নকআউটে

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া-ঘানাও গেল নকআউটে

বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে শেষ মুহূর্তের নাটকিয়তা বেশ ভালই জমে উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে হাসি মুখেই মাঠ ছাড়ল ফেবারিট ইংল্যান্ড।

পানামার বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলেছে ইংল্যান্ড। মাঠের দখল ও আক্রমণে থ্রি লায়ন্সরা পুরোপুরি দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে কাজের কাজ গোলটি অধরাই রয়ে যায় হ্যারি কেইনদের। অপর ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া জালের দেখা পাওয়ায় শঙ্কা জাগে কেইনদের শীর্ষস্থান হারানোর।

তবে দ্বিতীয়ার্ধেই ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্সরা। ডালাসের মাঠে ম্যাচের ৬২ মিনিটে বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন জুড বেলিংহাম। এর পাঁচ মিনিটের মাথায় বেলিংহামের বাড়ানো এক নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন।

এতেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

এরপর ম্যাচে আর কেউ জালের দেখা না পাওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের দল। এতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।

গ্রুপের অপর ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে যাচ্ছেন মদরিচরা। অপর দিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করা ঘানাও যাচ্ছে শেষ ৩২-এ। গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে উপরের দিকে থাকায় নতুন নিয়মে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

বিশ্বকাপে গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে জালের দেখা পেয়েছেন থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আর এই গোলের সঙ্গেই অনন্য এক কীর্তিতে নিজের নাম লেখালেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

ডালাসের মাঠে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে জুড বেলিংহামের বাড়ানো এক নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন। আর এই এক গোলেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মহাকাব্য লিখলেন তিনি।

এই গোলটির মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন কেইন। এতোদিন ১০টি গোল নিয়ে এই রেকর্ডের চূড়ায় বসেছিলেন কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার। আজ লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে কেইনের গোলসংখ্যা এখন ১১টি।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার আগে যা বললেন কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার আগে যা বললেন কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক
ছবি : রয়টার্স

দিনকয়েক আগেও ফুটবল দুনিয়ায় তার নামটা কজনই বা জানত! অথচ আজ একবিংশ শতাব্দীর ফুটবল বিশ্বমঞ্চে তিনি এক জীবন্ত রূপকথার নায়ক। মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন কেড়েছেন আলো, তেমনি নেটদুনিয়ায় তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এখন অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখের ঘর। তিনি আর কেউ নন, পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী ভোজিনহা। তার অতিমানবীয় বিশ্বস্ত গ্লাভসে ভর করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসেই শেষ ৩২-এর টিকিট কেটেছে কেপ ভার্দে।

বিশ্বমঞ্চের গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে আর সৌদি আরবের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আর সেখানে শেষ ৩২-এর মঞ্চে এই পুঁচকে দলটির প্রতিপক্ষ খোদ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা! কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সমীকরণ ছিল অলীক কল্পনা, আজ তা এক রূঢ় বাস্তব। এই পুরো পরাবাস্তব জার্নিটা খোদ ভোজিনহার কাছেও এক অন্তহীন স্বপ্নের মতো।

সৌদি আরবের বিপক্ষে মহানাটকীয় ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত ভোজিনহা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাটা আমাদের ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম দারুণ একটা ঘটনা হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামাটা দুনিয়ার যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক পরম স্বপ্ন।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্বসেরা স্পেনের সাথে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল কেপ ভার্দে, আর সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন এই ভোজিনহাই। এরপরই আলোর গতিতে ছড়িয়ে পড়ে তার জীবনের এক আবেগঘন গল্প। ঠিক সময়ে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করতে না পারায় ভোজিনহার মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আটকে গিয়েছিল। অথচ ভাগ্যের কী অদ্ভুত খেলা, সেই মা-ই এবার গ্যালারিতে বসে চোখের সামনে ছেলেকে বিশ্বমঞ্চে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে দেখছেন।

সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনহা। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই সম্ভবত কখনো এমন অবিশ্বাস্য কিছু কল্পনা করিনি। তবে আমরা মনেপ্রাণে জানতাম, দল হিসেবে আমরা কতটা শক্তিশালী। বিশ্বকাপে আসার সময় হয়তো অনেকেই ভেবেছিল আমরা একটা ম্যাচও জিততে পারব না। কিন্তু আমাদের এই স্কোয়াডটা দুর্দান্ত, এখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো সামর্থ্যবান ফুটবলাররা আছেন।’

মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। বাছাইপর্বে পরাক্রমশালী ক্যামেরুনকে বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে তারা টিকিট পেয়েছিল বিশ্বকাপের। আর আজ সেই পুঁচকে দেশটিই বিশ্বের সেরা ৩২টি দলের একটি!

ভোজিনহা বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে পেরেছি, দেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা কতটা গভীর। আমরা মাঠে শুধু কজন খেলোয়াড়কে রিপ্রেজেন্ট করছি না, দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি কেপ ভার্দিয়ান মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। আয়তনে বা জনসংখ্যায় আমরা হয়তো ছোট একটা দেশ হতে পারি, কিন্তু আমাদের বুকভরা সাহস আর একটা বড় হৃদয় আছে। আর দিনশেষে আমরা লড়াই করতে জানি।’

টোকিও অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়ালেন ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক! | কালের কণ্ঠ