ফ্রান্স ০-২ স্পেন
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর কিছুক্ষণ আগে টিভি ক্যামেরা ঘুরানো হলো এক ফরাসির শিশুর দিকে। মায়ের কোলে চড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সে।
ধারাভাষ্যকার তখনই বললেন, ‘ফ্রান্সকে আজ পুরোপুরি নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল স্পেন।’ আক্ষরিক অর্থেই তা-ই।
অপ্টার সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের কতশত বিশেষজ্ঞ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফ্রান্সকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু স্কোয়াড দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করা আর মাঠে খেলে জিতে আসা যে এক নয়, তা আবারো প্রমাণ করল স্পেন। ডালাসে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্প্যানিশদের কাছে পাত্তাই পেল না তারকায় ঠাসা ফরাসিরা।
পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারজাবালের পর পেদ্রো পোরোর গোলে ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী রবিবার রাতে নিউ জার্সিতে শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্পেন।
এর আগে একবারই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আসরে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা।
অন্য দিনগুলোতে এমবাপ্পে, দেম্বেলে এবং ওলিসে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু আজ স্পেনের জমাট রক্ষণের সামনে তারা যেন হয়ে পড়েছিলেন বোতলবন্দী। খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করা দূরে যাক, স্পেনের বক্সে ঢুকতেই বেগ পেতে হয়েছে তাদের।
এই ম্যাচ জিতলে জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়ত ফ্রান্স। কিন্তু আজ তাদেরই হারিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্ব রেকর্ডে ইতালিকে ছুঁয়ে ফেলল স্পেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন সবচেয়ে বেশি ম্যাচ না হারার রেকর্ড এখন যৌথভাবে ইতালি ও স্পেনের। স্প্যানিশদের আগে ইতালিয়ানরা এই কীর্তি গড়েছিল ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে।




