<p>সোহানী সিফা নামের এক নারী বলেছেন, একদিন আগে উচ্ছেদ চলছিল, একদিন পরে রাস্তায় একদম মেশিন দিয়ে দাগ কাটলেন। তাও আবার সরকারি রাস্তা সরকারি মেশিন দিয়ে, কেন? আপনি যদি ১২০ টাকা, ১৫০ টাকা কেজি চাল খেতে না চান, আপনাকে হকারকে পাঠাতে হবে গ্রামে, তার এলাকাতে কৃষি কাজ করতে। যে কৃষক ক্ষেতে কাজ করে তার তো কৃষি কাজটা অনেক কষ্ট, সে ঢাকায় এসে অটোরিকশা খুব সহজেই চালাচ্ছে।</p> <p>শনিবার (৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও’ শীর্ষক নিজের একক অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।</p> <p>সোহানী সিফা বলেন, আমি এখানে দাঁড়িয়েছি এই কারণে যে আমি আজকে ৬০ টাকা কেজি চাল খেতে পারছি। কিন্তু সামনে আমি ১২০ টাকা কেজি চাল খেতে পারব না। এখন একটা প্রশ্ন হতে পারে যে চালের সঙ্গে হকারের কী সম্পর্ক? আপনারা দেখেছেন যে সম্প্রতি সিলেটের সুনামগঞ্জে হাওর এলাকায় অসংখ্য ধান ডুবে গেছে এবং ধান ডোবার কারণে কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই যে ধান ডুবে যাচ্ছে, কেন ধান ডুবে যাচ্ছে? এর মূল সমস্যা হচ্ছে শ্রমিক সংকট। আমরা এখনো যান্ত্রিক হতে পারিনি। আমাদের যে অ্যাগ্রিকালচারাল সেক্টর আছে, এটাকে আমরা এখনো যান্ত্রিক করতে পারিনি। আমাদের এখনো মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। আপনি গ্রামে যান, যেয়ে দেখবেন, ওইখানে পুরুষ মানুষ নাই। কেন পুরুষ মানুষ নাই? তারা ঢাকায় এসে কেউ সবজি বিক্রি করছে, তারা ঢাকায় এসে কেউ ফল বিক্রি করছে, কেউ কাপড় বিক্রি করছে। কিন্তু ধান কাটার যখন সময় হয়, তখন শ্রমিক থাকে না। আমাদের শ্রমিকদের খুব খারাপভাবে ঢাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে।</p> <p>তিনি বলেন, যে কৃষক ক্ষেতে কাজ করে, তার তো কৃষি কাজটা অনেক কষ্ট। সে ঢাকায় এসে অটোরিকশা খুব সহজেই চালাচ্ছে। কৃষি কাজের চেয়ে অটোরিকশা চালানো বেশি সহজ তার হিসেবে। এই সহজটা কি আমরা মেনে নিতে পারি? আপনাকে যদি মশা কামড়ায়, তাহলে কি আপনি মশা মারবেন না? মশার তো অধিকার আছে রক্ত খাওয়ার। তা না হলে সে বাঁচবে কী করে? তাই বলে কি আপনি মশা মারবেন না? আপনার যে সেলফ প্রটেকশন এটার জন্য আপনাকে মশা মারতেই হবে। মশা মারা এখন তো বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। আপনাকে মশা মারতেই হবে। ঠিক একই ব্যাপার হচ্ছে হকার। হকার উচ্ছেদ করতেই হবে। আপনি যদি ১২০ টাকা, ১৫০ টাকা কেজি চাল খেতে না চান, আপনাকে হকার উচ্ছেদ করতেই হবে। আপনাকে হকারকে পাঠাতে হবে গ্রামে, তার এলাকাতে কৃষি কাজ করতে।</p>