• ই-পেপার

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি

আ. লীগের ফিরে আসার আতঙ্কে অনেকের হাত-পা কাঁপছে : রনি

অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগের ফিরে আসার আতঙ্কে অনেকের হাত-পা কাঁপছে : রনি
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যে ভাবসাব দেখাচ্ছেন, যে প্রটোকল দেখাচ্ছেন এবং তাকে কেন্দ্র করে দেশ ও দেশের বাইরে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া যা কিছু করছে, ফলে আমরা দেশে বসে কোনো অবস্থাতেই শেখ হাসিনার এ মুভমেন্টকে বাদ দিতে পারছি না। যত কথাই বলি না কেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের আতঙ্ক আমাদেরকে তাড়া করছে। যতই প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করি না কেন, আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আমাদের অনেকের ‘ফিরে আসা আতঙ্কে’ হাত-পা কাঁপছে, এটি বাস্তবতা।

রবিবার (৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ কিন্তু বন্ধ নেই। আগস্ট মাসের ৫ তারিখ বোধহয় তারা মুখ বন্ধ রেখেছিল বা ৬ তারিখে বন্ধ রেখেছিল। ৭-৮ তারিখ থেকে তাদের দ্ধিধা আসছে। যে যার মতো করে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে তারা বলে যাচ্ছে এবং একের পর এক তারা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে—কমিটি গঠন, ঝটিকা মিছিল, অফিস চালু করা, পালিয়ে যাওয়া, ভোট দেওয়া, জামায়াতকে সাপোর্ট করা, বিএনপিকে সাপোর্ট করা, জামায়াত-বিএনপির মধ্যে গন্ডগোল লাগিয়ে দেওয়া, রাজনীতিতে চাণক্য নীতি যা কিছু আছে, সবকিছু একটার পর একটা আওয়ামী লীগ করে যাচ্ছে, দেশের ভেতরে থেকে, দেশের বাইরে থেকে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত লোক বাংলাদেশের মধ্যে পালিয়ে আছেন, বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন আর বিরাট অংশ যারা এই পরিবেশ পরিস্থিতিতে ট্রেড অ্যান্ড কমার্স বলতে গেলে এখনো ৬০% আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ন্ত্রণ করছে। কন্ট্রাক্টরি, সরকারি কাজকর্ম সবই তাদের লাইসেন্সে হচ্ছে। তারা বিএনপির লোককে পার্টনার নিয়ে, বিএনপির লোককে ঘুষ দিচ্ছে, বিএনপির লোকের চাঁদাবাজির যে চাহিদা সেটা পূর্ণ করছে, কিন্তু মূল চাবিকাঠি আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ফুড সিকিউরিটি আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতে, আমদানি বাণিজ্য তাদের হাতে, রপ্তানি বাণিজ্য তাদের হাতে, আমলাতন্ত্র তাদের হাতে, যে যা-ই বলুক না কেন। উপরে শুধু প্রধান পোস্টগুলো সিআইডির প্রধান, ডিবির প্রধান, এসবির প্রধান, আইজি- বিএনপি স্যাটিসফায়েড। কিন্তু পুরো চেনটা এমনভাবে তৈরি করা আছে, এই চেনটি যদি ভাঙতে যান পুরো কলাপস করবে সিস্টেমটি।

আ. লীগকে দমন করতে গেলে কী হতে পারে, জানালেন সাবির মুস্তাফা

অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগকে দমন করতে গেলে কী হতে পারে, জানালেন সাবির মুস্তাফা
সংগৃহীত ছবি

বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী করলে কী হয়, বিএনপি সরকার অবশ্যই তা জানে। তারা বলতে পারে না যে আমরা জানতাম না। তারা যদি মনে করে যে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন নেই, আওয়ামী লীগ দুর্বল, সে জন্য আমি তাকে একেবারে পিটিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব, তাহলে তারা খুব ভুল করবে। কারণ তারা মাটির সঙ্গে মিশে ছিল। এখন মাটি থেকে তারা উঠছে আস্তে আস্তে।

শনিবার (৬ জুন) ‘মানচিত্র’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।

সাবির মুস্তাফা বলেন, এখন যদি তারা (বিএনপি সরকার) মনে করে যে আবার তাদের পিটিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে, তাহলে আমার মনে হয় যে ওই সেই পরিস্থিতি আর নেই, ২০২৪ সালে যে পরিস্থিতি ছিল, সেই পরিস্থিতি আর নেই। সেই ধরনের পরিস্থিতিও হুট করে চাইলেই সৃষ্টি করতে পারবেন না। কাজেই আওয়ামী লীগকে আপনি দমন করার একটা নীতি হাতে নিতে পারেন। কিন্তু সেটার পরিণাম দীর্ঘ মেয়াদ বলব না, মধ্য মেয়াদেই সুখকর হবে না। কারো জন্য সুখকর হবে না।একটা অস্থিতিশীলতা, একটা সংঘাতের পটভূমি আস্তে আস্তে তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এই পটভূমি মানে এই ঘটনা, এই পরিস্থিতি যাতে সংঘাতের দিকে না যায়, সে জন্য সরকারকে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যবস্থাটা কী হতে পারে? হয় দমননীতি, সেটা আরো বেশি সংঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। না হয় তাদের এই দমননীতি থেকে সরে আসে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা সমঝোতা করে তাদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা। এখন এটা সরকারের ওপর নির্ভর করবে, বলটা সরকারের কোর্টে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপের হুমকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের

অনলাইন ডেস্ক
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপের হুমকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৬ জুন) রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট হাইওয়ের থেকে দাউদপুর ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ডিম হাতে এই হুমকি দেন।

একুশে টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘আজকে রূপগঞ্জের মাটিতে নাকি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগমন করবে। এ কারণে আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ডিম হাতে তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দাউদপুর ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রাস্তায় আছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

তাদের আরো বলতে শোনা যায়, ‘এনসিপি তুই রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়। এনসিপি তুই রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়। জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়। পাটোয়ারীর চামড়া তুলে নেব আমরা। হই হই রই রই, জামায়াত-শিবির গেলি কই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ তারা এসব স্লোগান দিতে থাকেন।

হাদি হত্যা মামলায় জাবের কেন বাদী? প্রশ্ন বোনের

অনলাইন ডেস্ক
হাদি হত্যা মামলায় জাবের কেন বাদী? প্রশ্ন বোনের
আব্দুল্লাহ আল জাবের ও মাসুমা হাদি। ছবি : সংগৃহীত

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তার অভিযোগ, হাদি হত্যা মামলার বাদী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে।

শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সেসময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন তিনি। মামলার বাদীর স্বাক্ষর নেওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

মাসুমা হাদি লিখেছেন, আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অবধি আমি মুখ খুলিনি। শুধু আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কিভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম। 

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনামাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিই এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা ওসমান গণিকে (শরীফ ওসমান হাদি) ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।

তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আমার প্রশ্ন প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বোঝানো হয় যে, ওমরের (ওসমান হাদির ভাই) কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না। উল্লেখ্য যে, এধ রনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে। 

তিনি আরো বলেন, আমি জানতে চাই, ওই মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা যে কী, সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতে। ওমরের গায়ে, পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নেবে সেই দিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে। 

তিনি বলেন, মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদী হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভারকেয়ারে তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয় এবং ওসমান হাদির সব মেডিক্যালের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিক্যালের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে। ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লাখ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিরে আমরা হারাইতে দেব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গণি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোণো ত্রুটি রাখব না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় ওসমান গণির মেডিক্যালের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সঙ্গে এভারকেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই। 

তিনি বলেন, আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এইজন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কিভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না-ই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি | কালের কণ্ঠ