kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

Probasher kanna

প্রবাসে ভালো থাকার একটি দিন ঈদ

মো. আবদুল কাদের, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া    

১৫ জুন, ২০১৮ ১৪:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবাসে ভালো থাকার একটি দিন ঈদ

প্রবাসে ভালো থাকার একটি দিন ঈদের দিন। একমাস সিয়াম সাধনার পর প্রবাসীরা ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন এই দিনটিতে। ক্ষুদ্র জীবন থেকে একে একে ৪টি ঈদ কেটে গেলেও ভিসাগত জটিলতা, আর্থিক সমস্যা অথবা মালিকপক্ষের অবহেলায় ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করা হয়নি পরিবার পরিজনের সাথে।

ঈদের দিন নিত্য নতুন জামা কাপড় পরিধান করলেও ভাবনার জগত থেকে আজও হারাতে পারিনি। মায়ের হাতের রান্না, এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে ছোটাছুটি এসব এখন শুধুই স্মৃতি।

ঈদের দিন তাই খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সেমাই, পোলাওসহ নানা রকমের খাবার রান্না শেষে পাশাপাশি থাকা একজন অন্যজনের দাওয়াতী মেহমান হিসেবে বাসায় আসে। ঘরোয়া পরিবেশে কতই না মজা হয় তখন। যা এক সময়ে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি হয়ে রয়।

ঈদের নামাজে যাওয়ার আগ মুহূর্তে বাবা মায়ের সাথে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় আর তাদের দোয়া নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা। মালয়েশিয়ার প্রতিটি মসজিদে সকাল থেকেই দেশীয় পোশাকে বাংলাদেশিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকে পুরো মসজিদ। নামাজ শেষে বাংলাদেশিদের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি দেখে স্থানীয়দের মাঝেও এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রাও মুগ্ধ হয়।

তবে, অনেক প্রবাসী ঈদের জামাত শেষ করেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে দূর দুরান্তে থাকা আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা করার জন্য। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যান একে অন্যের কাছে। ঈদের ছুটির এই সামান্য সময়টুকুতেই শুরু হয় খোশগল্প, একে অন্যের সাথে শেয়ার করে সুখ দুঃখের কথা। প্রবাসে আধুনিকায়নের যুগে সব থাকা সত্ত্বেও এখানে পাওয়া যায় না সেই লাল সবুজের সুজলা, সুফলা শস্য, শ্যামলের বাংলাদেশ। নেই মনের মতন প্রতিবেশীও। খণ্ড খণ্ড হৃদয়ের চাওয়াগুলো প্রবাসের এতো চাকচিক্যের মাঝেও মন ভরে না। ফিরে যেতে মন চায় মাটির টানে স্বদেশের আঙিনায়।

সময়টা ক্ষণিকের জন্য হলেও মুহূর্তগুলো চিহ্নিত করে রাখে একে অন্যের। সেইসব স্মৃতিগুলো লেখা হয়ে যায় অনুগল্পে।

তবে,অনেক প্রবাসির ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঈদের নামাজ শেষে দেশে ফোন করার পর বুকের ভেতর চাপা কষ্টের যন্ত্রণা যেন আরও বেড়ে যায় দ্বিগুণ। পরিবারকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট আর যন্ত্রণার বুকফাটা আর্তনাদ বুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। এরপর দুপুর গড়িয়ে পুবের সূর্যটা পশ্চিমে হেলতে শুরু করলে বিছানা ছেড়ে দু’একজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে সামান্য আনন্দের প্রত্যাশায় ছুটে চলেন অজানা গন্তব্যে। এভাবেই কাটে অনেক প্রবাসীর ঈদ নামের নিঃসঙ্গ বেদনার দিনটি।

সবশেষে দেশ বিদেশের সকলের জন্য একটাই প্রতিশ্রুতি থাকলো, ভোগে নয় ত্যাগের মহিমায় পবিত্ৰ ঈদ উদযাপন হোক এই হোক সকলের প্রত্যাশা। সবাইকে ঈদের নিরন্তর শুভেচ্ছা ও সবার ঈদ কাটুক অনেক আনন্দে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা