• ই-পেপার

বছরে ৯ হাজার নারী ক্যান্সার আক্রান্ত, অর্ধেকের মৃত্যু

৩ বছর পর বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে চালু হলো সিজারিয়ান অপারেশন

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৩ বছর পর বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে চালু হলো সিজারিয়ান অপারেশন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে প্রথম সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দরিয়াদৌলত গ্রামের সোমাইয়া আক্তার (২৫) একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এতে উপজেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে ৩১ শয্যার এ হাসপাতাল চালু হয়। পরে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০০ সালে এখানে প্রসূতি সেবা চালু হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকলেও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবে গত তিন বছর সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। তবে স্বাভাবিক প্রসব সেবা চালু ছিল।

গত সপ্তাহে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান এবং গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুস্মিতা সাহা যোগ দেন। তারাই সোমবার সফলভাবে প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন।

বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা নাসির আহমেদ বলেন, “বাঞ্ছারামপুর জেলার একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। চারদিকে নদী থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় গর্ভবতী নারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাদের ঢাকা, নরসিংদী বা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো। এখন সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”

সমাজসেবী ফাতমা বেগম বলেন, “উপজেলায় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন হয়। সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। অনেক রোগী দালালদের হয়রানিরও শিকার হতেন। সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট কমবে।”

প্রবাসী জুয়েল রানার স্ত্রী সোমাইয়া আক্তার ও তার স্বজনরা জানান, কোনো টাকা ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। ওষুধের জন্যও আলাদা টাকা দিতে হয়নি। গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আজ একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এ সেবা পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, ‘অপারেশনের সব ধরনের সরঞ্জাম থাকলেও অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। এখন থেকে নিয়মিত সিজারিয়ান ও স্বাভাবিক—দুই ধরনের প্রসব সেবা দেওয়া হবে। তবে রোগীকে এক দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এতে যেসব রোগীকে বাইরে যেতে হতো, তারা এখন এখানেই চিকিৎসা পাবেন।’

ডেঙ্গুতে এক দিনেই ৫ প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গুতে এক দিনেই ৫ প্রাণহানি
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গত এক দিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশন এলাকার, একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। 

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৯২৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ জনসহ এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫ হাজার ৪৫৫ জন।

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬২৩ জনে। সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার চারজন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৮৫১ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রেন ক্যান্সার চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে ভিটামিন বি১২, বলছে গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
ব্রেন ক্যান্সার চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে ভিটামিন বি১২, বলছে গবেষণা
ছবি : রয়টার্স

মস্তিষ্কের ক্যান্সার ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’ নিরাময়ে একটি সম্ভাব্য নতুন পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। অনকোসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাইট্রিক অক্সাইড সার্ভিসেস, এলএলসি ও ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ফাউন্ডেশন টাউসিগ ক্যান্সার সেন্টার-এর গবেষক জোসেফ এ. বাউয়ারের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

সাধারণত গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত রোগীরা অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির পরও ১৫ মাসের বেশি বেঁচে থাকেন না। এর প্রধান কারণ হলো মস্তিষ্কের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক ক্যান্সারের ওষুধকে টিউমার টিস্যু পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয়। তবে নতুন এই পদ্ধতিতে ভিটামিন বি১২-এর একটি পরিবর্তিত রূপ ব্যবহারের মাধ্যমে এই বাধা দূর করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষকরা নাইট্রোসিলকোবালামিন নামের একটি বিশেষ যৌগ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন, যা ভিটামিন বি১২-এর একটি রূপান্তরিত রূপ এবং এটি নাইট্রিক অক্সাইড নিঃসরণ করে। প্রাণীদের ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই যৌগটি সফলভাবে রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা অতিক্রম করে সরাসরি গ্লিওব্লাস্টোমা টিউমারের ভেতর জমা হতে পারে।

গবেষণায় প্রাপ্ত মূল সাফল্যগুলো হলো এই যৌগটি টিউমারের ভেতরে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে। পরীক্ষার পর দেখা গেছে, সাধারণ টিস্যুতে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা দ্রুত কমে গেলেও টিউমার টিস্যুতে তা অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় ছিল। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচলিত ক্যান্সার থেরাপির সাথে যখন নাইট্রোসিলকোবালামিন মিশ্রিত করা হয়, তখন তা একক চিকিৎসার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে টিউমার কোষের বৃদ্ধি দমন করতে পারে।

গবেষকদের মতে, গ্লিওব্লাস্টোমা ক্যান্সার সাধারণত যেসব জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, নাইট্রোসিলকোবালামিন সেগুলোকে ভাঙতে সাহায্য করে। এটি ক্যান্সার কোষগুলোকে চিকিৎসার প্রতি আরো বেশি সংবেদনশীল করে তোলে, ফলে সাধারণ ওষুধও টিউমারের ওপর কার্যকরভাবে কাজ শুরু করে। গবেষকরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, এটি একটি প্রাথমিক গবেষণা। মানুষের ওপর এই চিকিৎসা পদ্ধতি বাস্তবে প্রয়োগ করার আগে আরো দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা, সঠিক ডোজ নির্ধারণ ও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হবে।

তবে সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বড় মাইলফলক। রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা ভেদ করার ক্ষমতাসম্পন্ন এই কৌশলটি আগামী দিনে নিউরো-অনকোলজির ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কঠিন ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্পূর্ণ নতুন এবং কার্যকর একটি পথ দেখাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।