• ই-পেপার

ব্রেন ক্যান্সার চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে ভিটামিন বি১২, বলছে গবেষণা

২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। রবিবার (২৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৪১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১৬ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭১০ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৬১৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, যেসব শিশু পাবে এই ক্যাপসুল

অনলাইন ডেস্ক
সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, যেসব শিশু পাবে এই ক্যাপসুল
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে আজ রবিবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এ ছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলার জন্য আরো চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

টেকসই অঙ্গদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ চান সমাজকল্যাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
টেকসই অঙ্গদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ চান সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অঙ্গদান বহু মরণাপন্ন রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মৃত রোগীর কিডনি ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তাজা থাকে এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য জনগণের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

লাইভ ও ডিসিজড ডোনার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাজার হাজার কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হারুন-উর- রশিদের সভাপতিত্বে রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি, এশিয়ান সোসাইটি অব ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর কিউরি আন, অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্টার্ন সিডনি এলএইচডি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার স্থায়ী কমিশনার এমিরিটাস অধ্যাপক ইন সু্ং মুন, ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের এমডি অধ্যাপক হি ইয়ং শিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন।

দেশে বছরে মাত্র কয়েকশত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনার থেকে ট্রান্সপ্লান্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আর্থিক সংকটের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন বলেও তারা জানান।

বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরো সুলভ ও সহজলভ্য করতে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। এ সম্মেলন মৃত ডোনার থেকে কিডনি দানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং ট্রান্সপ্লান্টেশন সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিচ্ছেদ

অনলাইন ডেস্ক
আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিচ্ছেদ
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সাইদুল আশরাফ কুশাল দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন। শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা তার স্বামী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুশালের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানান।

ফেসবুক দেওয়া ওই পোস্টে কুশালকে ট্যাগ করে সুষমা রেজা লিখেছেন, অনেক ভেবেচিন্তে, দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর আমরা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের জানাচ্ছি।

তিনি লিখেছেন, ‘এত দিন ধরে যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, আমাদের পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এই সংবাদটি কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে—সেটা আমরা বুঝি। সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা চেয়েছি, খবরটি অন্য কোথাও থেকে নয়, আমাদের দুজনের কাছ থেকেই আপনারা শুনুন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’

খুব অল্প বয়সে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. সুষমা রেজা বলেন, ‘দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা একটি পরিবার গড়েছি, আমাদের সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আর জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছি। সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে সব সময়।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছি, আমাদের সম্পর্ক সেই জায়গাটিতে নেই, যেখান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম। সময়ের সাথে সাথে আমরা বদলেছি, সম্পর্কটাও বদলেছে। একটা সময় পরিবর্তনগুলো দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই আমাদের দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।’

ডা. সুষমা আরো বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, ছিল সংগ্রাম, ছিল সীমাবদ্ধতা, আবার ছিল অসংখ্য আশীর্বাদও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা আমাদের জীবনের যে মুহূর্তগুলো দেখেছেন, সেগুলো কখনোই একটি নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না। ওগুলো ছিল আমাদের জীবনের সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমরা আন্তরিকভাবে বেঁচেছি, ভালোবেসেছি এবং আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন সে জন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।’

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে একটি ব্যক্তিগত ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই অসংখ্য মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি অনুরোধ জানিয়েছে বলেছেন, ‘আমাদের জীবনের এই সময়টুকুকে অনুগ্রহ করে অনুমান, গুজব কিংবা বিচার-বিশ্লেষণের বিষয় করে তুলবেন না। প্রায় ২০ বছরের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছি আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং এক ধরনের শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।’

ডা. সুষমা রেজা এবং ডা. কুশাল চিকিৎসক দম্পতি মানসিক স্বাস্থ্য ও সঠিক লাইফ স্টাইলের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এ ছাড়া তারা দুজনে মিলে ‘লাইফ স্পিং’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা করতেন। নিজেদের জীবনের নানা সংগ্রামের গল্প সুন্দরভাবে তুলে ধরার কারণে মানুষ তাদেরকে ‘আইডিয়াল কাপল’ হিসেবেও গ্রহণ করে।