• ই-পেপার

হামে মৃত্যু ছাড়াল ৬৫০

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অন্য শাখার কার্যক্রমে বাধা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অন্য শাখার কার্যক্রমে বাধা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসনে। ছবি : সংগৃহীত

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলেও আদ্-দ্বীনের অন্যান্য শাখার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে হাম রোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত নতুন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন উদ্বোধন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মগবাজার শাখার বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একই ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত অন্য হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে, যদি তারা বিদ্যমান নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে।

শিশু মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অক্সিজেন সংকট ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে কয়েকটি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ছিল।

মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবহেলা বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। রোগীর জীবন নিয়ে দায়িত্বহীন আচরণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আসতেই হবে। সরকার এ ধরনের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার সামগ্রিক মান নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সেবার মান এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই অনুষ্ঠানে হাম প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে।

হাম ও উপসর্গে আরো ৪ প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে আরো ৪ প্রাণহানি
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন উপসর্গ নিয়ে আর একজন হামের আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৬৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরো ৯৭২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত মোট ৮৬ হাজার ৯২৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১০ হাজার ৩৮৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭১ হাজার ৪৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন।

হামের উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৯২ জন এবং হামের উপসর্গে মোট ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৯৫১ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭৫ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৩ জন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন।

বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ
বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন
সংগৃহীত ছবি

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রক্ত। রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দিলে শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্তের বিকল্প শুধু রক্তই। অতি প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি কলকারখানায় তৈরি হয় না। মানুষের রক্তের প্রয়োজনে মানুষকেই রক্ত দিতে হয়। এক ব্যাগ রক্ত মৃত্যু পথযাত্রীর জীবন বাঁচাতে পারে।

সারা বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে ১০৮  কোটি ব্যাগ রক্ত সংগৃহীত হয়। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ স্বেচ্ছা রক্তদাতা আর ৫৯ শতাংশ আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব রক্তদাতা। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে শতভাগ স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছা রক্তদানের হার প্রতি ১ হাজারে ৪০ আর উন্নয়নশীল বিশ্বে ৪ জনেরও কম। বাংলাদেশে  বছরে ৫ থেকে ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার মাত্র ৩১ ভাগ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতার মাধ্যমে। বাকি রক্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেশাদার রক্তদাতা এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

হাত, পা অথবা চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও, রক্ত ছাড়া বাঁচার কথা কল্পনাও করা যায় না। মানবদেহে রক্ত তাই অপরিহার্য। দেহের কোষে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য ফিরিয়ে আনা, হরমোন, লবণ ও ভিটামিন পরিবহন, রোগপ্রতিরোধ, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই রক্তের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই কারো দেহে রক্তের অভাব ঘটলে তা প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে অন্যের রক্ত শিরার মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রবেশ করানো তথা রক্ত পরিসঞ্চালন হয়ে ওঠে অন্যতম উপায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজ পর্যন্ত রক্তের কোনো বিকল্প আবিষ্কার হয়নি। রক্তের অভাবে যখন কোনো মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন অন্য একজন মানুষের দান করা রক্তই তার জীবন বাঁচাতে পারে। তাই এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কি হতে পারে? অগণিত মুমূর্ষু রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে যারা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন তাদের  মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য জনগণকে রক্তদানে ও  নিরাপদ রক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতন করা এবং নতুন রক্তদাতা তৈরি করা। এ দিবস পালনের আরও উদ্দেশ্য দেশের জনগণকে প্রাণঘাতী রক্তবাহিত রোগ এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সি সহ অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য স্বেচ্ছা রক্তদান ও রক্তের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রতিবছরই এই দিবসের একটি প্রতিপাদ্য থাকে, এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানবতার এক ফোঁটা রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।’

রক্তদান দিবসের ইতিহাস : রক্তের বিভিন্ন গ্রুপের আবিষ্কারক ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত নোবেল বিজয়ী জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ডাক্তার হয়েও চিকিৎসাসেবার পথে না গিয়ে গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন বিভিন্ন রোগবালাই ও দুর্ঘটনার ফলে রক্তের ঘাটতি অহরহই লেগে থাকত। জটিল প্রক্রিয়া শেষে রক্ত দেওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী মারা যেত। চিকিৎসকরা কোনোভাবেই কূলকিনারা করতে পারছিলেন না। কোনো রোগীকে যে কারো রক্ত দেওয়া যায় না, এ চিন্তাধারা থেকে তিনি ১৯০০ সালে বিভিন্ন টাইপের ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার উন্মোচন করে দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিশাল অধ্যায়। ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন এই বিজ্ঞানী। ১৯৪৬ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন মহান এই বিজ্ঞানী গবেষক।

জন্মদিনে তাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ১৪ জুন উদযাপন করা হয় ‘বিশ্ব রক্তদান দিবস’। স্বেচ্ছায় এবং বিনামূল্যে রক্তদান করে যারা লাখ লাখ লোকের প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দিবসটি পালিত হয়। 

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’ এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গে প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস। ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়।

যে কারণে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন : রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে প্রয়োজনভেদে রোগীর শরীরে সম্পূর্ণ রক্ত বা রক্তের কোনো উপাদান যেমন লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা বা রক্তরস দেওয়া হয়।

(১) যে কোনো কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সাধারণত সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হয়— যেমন দুর্ঘটনা, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্তপাত, প্রস্রাবকালীন রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।

(২) জটিল বা বড় ধরনের অপারেশনে সম্পূর্ণ রক্তের প্রয়োজন হয়।

(৩) বিভিন্ন রকমের অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় সাধারণত লোহিত কণিকা দেওয়া হয়। যেমন থ্যালাসেমিয়াসহ অন্যান্য হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা  ইত্যাদি। অবশ্য খরচের কথা বিবেচনা করে এসব রোগীকেও সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হয়।

(৪) হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরে অণুচক্রিকা দেওয়া হয়।

(৫) রক্তরস দেওয়া হয় হিমোফিলিয়া ও অন্যান্য কোয়াগুলেশন ডিজঅর্ডারে এবং আগুনে পোড়া রোগীকে।

রক্ত পরিসঞ্চালনে কী জটিলতা হয় : জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় এই রক্ত পরিসঞ্চালন আবার কখনো কখনো তৈরি করতে পারে জটিলতা।
(১) রক্তবাহিত রোগের সংক্রমণ একটি প্রধান সমস্যা। হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু সহজেই রক্তের মাধ্যমে রক্তগ্রহীতার দেহে প্রবেশ করতে পারে। এ পরিস্থিতির মূল কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তটি জীবাণুমুক্ত কিনা তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা। অনুমোদনবিহীন ব্লাডব্যাংক গুলোতেই এসব রক্ত বিক্রি করা হয়। আর তা আসে মূলত নেশা আসক্ত পেশাদার রক্তদানকারীদের থেকে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত বা ভেজাল রক্তও এসব ব্লাডব্যাংক থেকেই আসে।

(২) ভুলক্রমে এক গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীকে দিলে রক্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ ধরনের ঘটনা কম হলেও একেবারেই হয় না তা নয়। এসব ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহকারী ও পরীক্ষাকারী ব্লাডব্যাংক, চিকিৎসক অথবা নার্স যে কারো ভুল বা অসতর্কতাই দায়ী। রোগী সাধারণত বুকে, পিঠে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করেন। চিকিৎসক দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়।

(৩) এ ছাড়া যে কোনো পরিসঞ্চালনেই কাঁপুনি ও জ্বর আসা এবং অ্যালার্জি জাতীয় ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে।

(৪) যাদের কিছুদিন পরপর রক্ত নিতে হয় তাদের দেহে লৌহের আধিক্যসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

(৫) অনেক সময় অধিক রক্ত দ্রুত প্রবেশ করলে বৃদ্ধ অথবা হৃদরোগীর হার্ট ফেইলিউর জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
রোগী বা তার আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন রক্ত পরিসঞ্চালনের আগেই যখন রক্ত খুঁজতে থাকেন। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ব্লাডব্যাংক গড়ে উঠলেও নিরাপদ রক্ত এখনো দুর্লভ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত প্রয়োজন হলে তা হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। এ ছাড়া যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয় তাদের বেশির ভাগ সময় যায় রক্তের খোঁজে। দুর্লভ গ্রুপের রক্ত হলে তো কথাই নেই। রক্ত যে কারোরই যে কোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে, এ কথা মনে রেখে আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি তবে রক্ত পরিসঞ্চালনের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

আমাদের যেসব উদ্যোগ নিতে হবে :
(১) নিজের ও আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা।

(২) নিকটস্থ ব্লাডব্যাংকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর জেনে রাখা।

(৩) শুধু নিবন্ধনকৃত ব্লাডব্যাংকে রক্তদান ও গ্রহণ করা।

(৪) পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না কেনা।

(৫) নিজে নিয়মিত রক্ত দান করা ও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

(৬) রক্তবাহিত রোগে সংক্রমিত হলে রক্ত দান না করা।

রক্ত নেওয়ার আগে সতর্কতা :
(১) রক্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন রক্তের গ্রুপ এবং ক্রস ম্যাচিং ঠিক আছে কিনা দেখে নেওয়া।

(২) অপরিচিত পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না নেওয়া। পেশাদার রক্তদাতারা অনেকেই মাদকাসক্ত, দেহে বহন করে হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী ও সংক্রামক ব্যাধির জীবাণু।

(৩) সবচেয়ে ভালো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত সুস্থসবল লোকের রক্ত নেওয়া।

(৪) স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে রক্তদাতার হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।
মনে রাখা প্রয়োজন, রক্তের অভাব ও অনিরাপদ রক্ত দুটোই জীবনের জন্য সমান হুমকি। তাই রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত নয়, বরং ‘নিরাপদ রক্ত’। জেনে রাখুন যে কোনো সুস্থ সাবালক ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন।

ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। আমাদের ভালো কাজ, ভালো চিন্তা, মহৎ উদ্যোগ মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এরূপ একটি কল্যাণকর কাজ হলো ‘রক্তদান।’ স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পায়, নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে।