• ই-পেপার

ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগে করণীয়

চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু : ১ দিনে ২ মৃত্যু, চলতি মাসেই আক্রান্ত ১৭০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু : ১ দিনে ২ মৃত্যু, চলতি মাসেই আক্রান্ত ১৭০৩

চলতি বছরে দেশে হাম ও হাম উপসর্গে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের পর এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যু শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্যে একজনের ঢাকায় এবং একজনের বরিশালে মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ৯৩ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৪, খুলনাতে ৫২ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জনের শনাক্ত হয়েছে ডেঙ্গু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চার হাজার ৯০০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনেই সবচেয়ে বেশি। জুনে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭০৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি মাসের শুরু থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার দুই মহানগর থেকে বারবার ডেঙ্গু মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে বলা হচ্ছে। গত ৭ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, 'ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।'

তিনি বলেন ডেঙ্গুকে কঠিন লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, 'আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।'

হাম ও উপসর্গে ৬৮০ মৃত্যু

হামের উপসর্গে নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮০ জন শিশু মারা গেছে।

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

হামের উপসর্গে নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩ শিশু হাসপাতালে এসেছে। রবিবার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮০ জন শিশু মারা গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১। এ সময়ে ৯৫৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৯ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৬ হাজার ৮৫৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৮৪৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

টাকায়াসু আর্টেরাইটিস : নীরব ধমনী রোগ

ডা. ফারজানা সুমি
টাকায়াসু আর্টেরাইটিস : নীরব ধমনী রোগ
সংগৃহীত ছবি

টাকায়াসু আর্টেরাইটিস বিরল হলেও এমন এক প্রদাহজনিত রোগ, যা মূলত দীর্ঘসময় ধরে শরীরের বড় রক্তনালী, বিশেষ করে মহাধমনী ও এর প্রধান শাখাগুলোকে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে। তাই একে ‘পালসলেস ডিজিজ’ও বলা হয়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে টাকায়াসু আর্টেরাইটিস বেশি দেখা যায়। তবে পুরুষরাও ঝুঁকির বাইরে নয়। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। রোগের শুরুতে সাধারণত অস্পষ্ট কিছু উপসর্গ দেখা যায়, যেমন—জ্বর, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, পেশিতে ব্যথা ইত্যাদি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালীগুলো সরু হয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে এবং মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, দৃষ্টিজনিত সমস্যা, বুকে ব্যথা বা হাত নাড়াতে অসুবিধা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কব্জিতে নাড়ির স্পন্দন দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকতে পারে। আর এই কারণে এই রোগকে ‘পালসলেস ডিজিজ’ বলা হয়।

টাকায়াসু আর্টেরাইটিসের নির্দিষ্ট ও সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে টাকায়াসু আর্টেরাইটিসকে একটি অটোইমিউন রোগ হিসেবে ধরা হয়, যেখানে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত রক্তনালীর দেয়ালে আক্রমণ করে। ফলস্বরূপ প্রদাহ ও শরীরে দাগ তৈরি হয়। বংশগত ও পরিবেশগত কারণেও এটি হয়ে থাকতে পারে। 

প্রাথমিক উপসর্গগুলো অন্যান্য রোগের মতো হওয়ায় অনেকসময় সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং সিটি ও এমআর এঞ্জিওগ্রাফি’র মতো ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তনালীর সংকোচন বা অ্যানিউরিজম শনাক্ত করে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর প্রধান চিকিৎসা হলো কর্টিকোস্টেরয়েড, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের প্রয়োজন হয়। যদি রক্তনালী গুরুতরভাবে সংকুচিত হয়ে যায়, তাহলে ভাস্কুলার সার্জারি বা স্টেন্ট বসানোর প্রয়োজন হতে পারে। সুস্থতার পরও রোগটি পুনরায় সক্রিয় হতে পারে, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

যদিও এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তবে সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মমাফিক চলাফেরা রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারে। দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিয়মিত ফলো-আপ এবং লাইফস্টাইলে পরিবর্তন, যেমন; রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, সঠিক খ্যাদাভ্যাস ইত্যাদি স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের জটিলতার মতো গুরুতর সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। 

টাকায়াসু আর্টেরাইটিস বিরল হলেও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোন তরুণ/তরুণী অজানা কারণে অতিরিক্ত ক্লান্তি, নাড়ির স্পন্দন না পাওয়া বা দুই হাতে রক্তচাপের অস্বাভাবিক পার্থক্য অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত অভিজ্ঞ রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসাই পারে জীবন রক্ষা করতে। 

লেখক :

কনসালট্যান্ট, রিউমাটোলজি,
এভারকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা।

হাম উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ছয়জন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৭ জন। শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৮৪ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১০ হাজার ৯৪৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০৪ জন ও আক্রান্ত ৪৯ হাজার ৭৮৩ জন।