• ই-পেপার

একটুও স্বাস্থ্যকর নয় বিস্কুট, হতে পারে ক্যান্সারও!

হামের উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৯২ জন এবং হামের উপসর্গে মোট ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৯৫১ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭৫ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৩ জন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন।

বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ
বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন
সংগৃহীত ছবি

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রক্ত। রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দিলে শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্তের বিকল্প শুধু রক্তই। অতি প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি কলকারখানায় তৈরি হয় না। মানুষের রক্তের প্রয়োজনে মানুষকেই রক্ত দিতে হয়। এক ব্যাগ রক্ত মৃত্যু পথযাত্রীর জীবন বাঁচাতে পারে।

সারা বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে ১০৮  কোটি ব্যাগ রক্ত সংগৃহীত হয়। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ স্বেচ্ছা রক্তদাতা আর ৫৯ শতাংশ আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব রক্তদাতা। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে শতভাগ স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছা রক্তদানের হার প্রতি ১ হাজারে ৪০ আর উন্নয়নশীল বিশ্বে ৪ জনেরও কম। বাংলাদেশে  বছরে ৫ থেকে ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার মাত্র ৩১ ভাগ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতার মাধ্যমে। বাকি রক্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেশাদার রক্তদাতা এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

হাত, পা অথবা চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও, রক্ত ছাড়া বাঁচার কথা কল্পনাও করা যায় না। মানবদেহে রক্ত তাই অপরিহার্য। দেহের কোষে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য ফিরিয়ে আনা, হরমোন, লবণ ও ভিটামিন পরিবহন, রোগপ্রতিরোধ, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই রক্তের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই কারো দেহে রক্তের অভাব ঘটলে তা প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে অন্যের রক্ত শিরার মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রবেশ করানো তথা রক্ত পরিসঞ্চালন হয়ে ওঠে অন্যতম উপায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজ পর্যন্ত রক্তের কোনো বিকল্প আবিষ্কার হয়নি। রক্তের অভাবে যখন কোনো মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন অন্য একজন মানুষের দান করা রক্তই তার জীবন বাঁচাতে পারে। তাই এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কি হতে পারে? অগণিত মুমূর্ষু রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে যারা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন তাদের  মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য জনগণকে রক্তদানে ও  নিরাপদ রক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতন করা এবং নতুন রক্তদাতা তৈরি করা। এ দিবস পালনের আরও উদ্দেশ্য দেশের জনগণকে প্রাণঘাতী রক্তবাহিত রোগ এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সি সহ অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য স্বেচ্ছা রক্তদান ও রক্তের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রতিবছরই এই দিবসের একটি প্রতিপাদ্য থাকে, এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানবতার এক ফোঁটা রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।’

রক্তদান দিবসের ইতিহাস : রক্তের বিভিন্ন গ্রুপের আবিষ্কারক ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত নোবেল বিজয়ী জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ডাক্তার হয়েও চিকিৎসাসেবার পথে না গিয়ে গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন বিভিন্ন রোগবালাই ও দুর্ঘটনার ফলে রক্তের ঘাটতি অহরহই লেগে থাকত। জটিল প্রক্রিয়া শেষে রক্ত দেওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী মারা যেত। চিকিৎসকরা কোনোভাবেই কূলকিনারা করতে পারছিলেন না। কোনো রোগীকে যে কারো রক্ত দেওয়া যায় না, এ চিন্তাধারা থেকে তিনি ১৯০০ সালে বিভিন্ন টাইপের ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার উন্মোচন করে দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিশাল অধ্যায়। ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন এই বিজ্ঞানী। ১৯৪৬ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন মহান এই বিজ্ঞানী গবেষক।

জন্মদিনে তাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ১৪ জুন উদযাপন করা হয় ‘বিশ্ব রক্তদান দিবস’। স্বেচ্ছায় এবং বিনামূল্যে রক্তদান করে যারা লাখ লাখ লোকের প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দিবসটি পালিত হয়। 

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’ এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গে প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস। ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়।

যে কারণে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন : রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে প্রয়োজনভেদে রোগীর শরীরে সম্পূর্ণ রক্ত বা রক্তের কোনো উপাদান যেমন লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা বা রক্তরস দেওয়া হয়।

(১) যে কোনো কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সাধারণত সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হয়— যেমন দুর্ঘটনা, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্তপাত, প্রস্রাবকালীন রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।

(২) জটিল বা বড় ধরনের অপারেশনে সম্পূর্ণ রক্তের প্রয়োজন হয়।

(৩) বিভিন্ন রকমের অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় সাধারণত লোহিত কণিকা দেওয়া হয়। যেমন থ্যালাসেমিয়াসহ অন্যান্য হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা  ইত্যাদি। অবশ্য খরচের কথা বিবেচনা করে এসব রোগীকেও সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হয়।

(৪) হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরে অণুচক্রিকা দেওয়া হয়।

(৫) রক্তরস দেওয়া হয় হিমোফিলিয়া ও অন্যান্য কোয়াগুলেশন ডিজঅর্ডারে এবং আগুনে পোড়া রোগীকে।

রক্ত পরিসঞ্চালনে কী জটিলতা হয় : জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় এই রক্ত পরিসঞ্চালন আবার কখনো কখনো তৈরি করতে পারে জটিলতা।
(১) রক্তবাহিত রোগের সংক্রমণ একটি প্রধান সমস্যা। হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু সহজেই রক্তের মাধ্যমে রক্তগ্রহীতার দেহে প্রবেশ করতে পারে। এ পরিস্থিতির মূল কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তটি জীবাণুমুক্ত কিনা তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা। অনুমোদনবিহীন ব্লাডব্যাংক গুলোতেই এসব রক্ত বিক্রি করা হয়। আর তা আসে মূলত নেশা আসক্ত পেশাদার রক্তদানকারীদের থেকে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত বা ভেজাল রক্তও এসব ব্লাডব্যাংক থেকেই আসে।

(২) ভুলক্রমে এক গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীকে দিলে রক্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ ধরনের ঘটনা কম হলেও একেবারেই হয় না তা নয়। এসব ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহকারী ও পরীক্ষাকারী ব্লাডব্যাংক, চিকিৎসক অথবা নার্স যে কারো ভুল বা অসতর্কতাই দায়ী। রোগী সাধারণত বুকে, পিঠে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করেন। চিকিৎসক দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়।

(৩) এ ছাড়া যে কোনো পরিসঞ্চালনেই কাঁপুনি ও জ্বর আসা এবং অ্যালার্জি জাতীয় ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে।

(৪) যাদের কিছুদিন পরপর রক্ত নিতে হয় তাদের দেহে লৌহের আধিক্যসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

(৫) অনেক সময় অধিক রক্ত দ্রুত প্রবেশ করলে বৃদ্ধ অথবা হৃদরোগীর হার্ট ফেইলিউর জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
রোগী বা তার আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন রক্ত পরিসঞ্চালনের আগেই যখন রক্ত খুঁজতে থাকেন। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ব্লাডব্যাংক গড়ে উঠলেও নিরাপদ রক্ত এখনো দুর্লভ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত প্রয়োজন হলে তা হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। এ ছাড়া যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয় তাদের বেশির ভাগ সময় যায় রক্তের খোঁজে। দুর্লভ গ্রুপের রক্ত হলে তো কথাই নেই। রক্ত যে কারোরই যে কোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে, এ কথা মনে রেখে আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি তবে রক্ত পরিসঞ্চালনের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

আমাদের যেসব উদ্যোগ নিতে হবে :
(১) নিজের ও আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা।

(২) নিকটস্থ ব্লাডব্যাংকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর জেনে রাখা।

(৩) শুধু নিবন্ধনকৃত ব্লাডব্যাংকে রক্তদান ও গ্রহণ করা।

(৪) পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না কেনা।

(৫) নিজে নিয়মিত রক্ত দান করা ও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

(৬) রক্তবাহিত রোগে সংক্রমিত হলে রক্ত দান না করা।

রক্ত নেওয়ার আগে সতর্কতা :
(১) রক্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন রক্তের গ্রুপ এবং ক্রস ম্যাচিং ঠিক আছে কিনা দেখে নেওয়া।

(২) অপরিচিত পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না নেওয়া। পেশাদার রক্তদাতারা অনেকেই মাদকাসক্ত, দেহে বহন করে হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী ও সংক্রামক ব্যাধির জীবাণু।

(৩) সবচেয়ে ভালো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত সুস্থসবল লোকের রক্ত নেওয়া।

(৪) স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে রক্তদাতার হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।
মনে রাখা প্রয়োজন, রক্তের অভাব ও অনিরাপদ রক্ত দুটোই জীবনের জন্য সমান হুমকি। তাই রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত নয়, বরং ‘নিরাপদ রক্ত’। জেনে রাখুন যে কোনো সুস্থ সাবালক ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন।

ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। আমাদের ভালো কাজ, ভালো চিন্তা, মহৎ উদ্যোগ মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এরূপ একটি কল্যাণকর কাজ হলো ‘রক্তদান।’ স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পায়, নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে।


 

সকালে খেলে ভালো, রাতে কেন নয় কার্বোহাইড্রেট?

অনলাইন ডেস্ক
সকালে খেলে ভালো, রাতে কেন নয় কার্বোহাইড্রেট?
প্রতীকী ছবি

আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর সক্রিয় হয় এবং রাতে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। এই শরীরঘড়ি আমাদের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) ২০২৫ সালের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ (১৩.৯ মিলিয়ন) প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, যা দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১৩.২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি খাবার গ্রহণের সঠিক সময়ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরের ঘড়ি কিভাবে কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করে?

কার্বোহাইড্রেট খেলে তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। সকালে শরীর ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে, ফলে গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করে এবং শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু রাতে একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বেড়ে যেতে পারে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

কেন রাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি ক্ষতিকর হতে পারে?

রাত ৮টার পর ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়।
রাতে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে আসে।
শারীরিক নড়াচড়া কম থাকায় অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্তে শর্করার ওঠানামা শক্তি ও ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়,সকালে খাওয়া কার্বোহাইড্রেট শরীর তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু একই খাবার রাতে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বৃদ্ধি পায়।

প্রিডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এর অর্থ কী?

যদি অনিয়মিত সময়ে বা বারবার রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে। এতে প্রিডায়াবেটিস থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তাই প্রিডায়াবেটিস থাকলে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়

বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার আদর্শ সময় হলো:

 সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত

 সন্ধ্যার পর ও গভীর রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলা ভালো।

এছাড়া কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত (ফাইবার) খাবার খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সময় ঠিক না হলে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

রাতে বারবার ক্ষুধা লাগা বা খাবারের আকাঙ্ক্ষা
ঘুমের সমস্যা
সকালে ক্লান্ত বা ঝিমঝিম অনুভব করা
খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা
দীর্ঘমেয়াদে অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়া
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহজ কিছু অভ্যাস
সকালের নাশতায় তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করুন।
রাতের খাবার সম্ভব হলে সন্ধ্যা ৭–৮টার মধ্যে শেষ করুন।
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
রাতের খাবারের পর অতিরিক্ত মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ নাশতা এড়িয়ে চলুন।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন ?

প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
স্থূলতা (ওবেসিটি) আছে এমন ব্যক্তি
মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি
রাতের শিফটে কাজ করেন এমন কর্মীরা

উল্লেখ্য, শরীর সকালে কার্বোহাইড্রেট বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে দিনের প্রথম ভাগে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এবং রাতে তা কমিয়ে আনা উপকারী হতে পারে।

৮৯ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৪৩ জনের

নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮৯ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৪৩ জনের
হামে আক্রান্ত এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাইল ছবি/কালের কণ্ঠ

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৪৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের। নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২ জন।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭ জন। অন্যদিকে গত এক দিনে হাম আক্রান্ত রোগী ১২৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৬ জনে। মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৮৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরো একজন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে সারা দেশে আরো ১ হাজার ১৫৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৫১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯২ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৪৩ শিশু।

একটুও স্বাস্থ্যকর নয় বিস্কুট, হতে পারে ক্যান্সারও! | কালের কণ্ঠ