প্রথম যখন ঢাকায় এসেছেন, সে সময় হাফপ্যান্ট পরতেন। আর এখন তাঁর তিন সন্তান। ঢাকায় এসে শুরুতে হোটেলে কাজ করেছেন। তারপর করেছেন বই বাঁধাইয়ের কাজ। হঠাৎ একদিন গুলিস্তানে নতুন টাকা বিক্রি করার ব্যাপারটি চোখে পড়ে। তারপর কয়েক দিন ধরে খোঁজখবর করেন। দেখেশুনে মনে হলো এই কাজ করে সংসার চালানো যাবে। তাই লেগে পড়লেন। পুঁজির অভাব ছিলই। কিন্তু হাল ধরে রেখেছিলেন। তারপর ১৫ বছর চলে গেল। ‘দুই ঈদে ভালোই ব্যবসা হয়। অন্য সময় ডাল-ভাত খাওয়া চলে,’ বলছিলেন মোবারক। আসছে ঈদ ৮ জুন দেড় লাখ টাকা সমমূল্যের নতুন টাকা কিনেছেন মোবারক হোসেন। নতুন টাকা কেনেন মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকা থেকে। বলছিলেন, রোজার শুরু থেকেই নতুন টাকার চাহিদা বাড়ে। আর ২০ রোজার পর থেকে তো কথাই নেই। এমনও হয় যে মানুষ লাইন দেয়। ভিড় থাকে চাঁদ রাত পর্যন্ত। ঈদের সময় মোবারকের নতুন টাকা বিক্রি করতে খুব ভালো লাগে। অন্য রকম আনন্দ। বললেন, ‘ছোটবেলায় ঈদে নতুন টাকা পেলে খুশি হয়ে যেতাম। আর ওইগুলা গুছাইয়াও রাখতাম। এখন আমার কাছ থেকে নতুন টাকা নিয়ে লোকে পোলাপান খুশি করে। ব্যাপারটা ভাবেন একবার।’ লাভ কথা ঈদের সময় প্রতিদিন যে পরিমাণ লাভ হয় তা দিয়ে গোশত-ভাত খাওয়া যায়। আর অন্য সময় ডাল-ভাত।’ একই নোট দিয়ে ১০০, ৫০০ বা হাজার টাকার বান্ডেল সাজানো হয়। ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নোটের চাহিদাই বেশি থাকে। বছরকয় আগেও দুই টাকার নোটের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। মোবারকের ঈদ ঢাকায়ই মোবারক হোসেন রোজার ঈদ করেন পরিবারের সঙ্গে। আর কোরবানির ঈদ করেন গ্রামের বাড়িতে। অন্যবারের মতো এবারও চাঁদরাত গভীর করে ফেলবেন নতুন নোট বিক্রি করে। বাসায় ফেরার পথে ঈদের বাজার করবেন। সকাল হলে নামাজে যাওয়ার আগে সাত বছরের ছোট ছেলেকে নতুন টাকার বান্ডেল দেখিয়ে বলবেন, ইচ্ছামতো নাও। ছেলের মুখে হাসি দেখে ঈদগাহে যাবেন। কোরবানির ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সময় সবার (ভাইস্তা-ভাস্তি, ভাইগনা-ভাগিনি) জন্য নতুন টাকার নোট নিয়ে যান সালামি দিতে। সরেজমিন শুক্রবার বিকেল ৪টা হবে। ছুটির দিন হলেও গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সামনের ভিড় চোখে পড়ার মতোই। নওরীন সুলতানা শিরিন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তাঁর সঙ্গে আলাপ করার সুযোগ পেলাম। বললেন, আব্বু ফোন করে বলেছে, বাড়ি যাওয়ার সময় যেন নতুন টাকা নিয়ে যাই। আজ এদিকে অন্য একটা কাজে এসেছিলাম। দেখলাম, এখানে নতুন টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাই নতুন টাকা কিনে নিচ্ছি।’ ৪৫ বছর বয়সী চাকরিজীবী আকরামুল ইসলাম বললেন, ‘ঈদে গ্রামের বাড়ি যাব। সেখানে অনেক ছোট ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের ঈদে সালামি দেব। সে জন্য আগে থেকেই নতুন টাকা কিনে রাখছি। ঈদে তারা বেশি টাকা পাওয়ার চেয়ে নতুন টাকা পেলে বেশি খুশি হয়। তাই প্রতিবারই ঈদে বাড়ি ফেরার আগে নতুন টাকা কিনে নিই।’ ছবি : আশিক আদনান