• ই-পেপার

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

পে স্কেলের হিসাব মেলাতে হিমশিম, আসছে বড় পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলের হিসাব মেলাতে হিমশিম, আসছে বড় পরিবর্তন
ছবি: কালের কণ্ঠ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নানা বাধার মুখে পড়ছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামো—সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি। এর মধ্যেই প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শুধু গ্রেড নয়, কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব চাহিদাকেও গুরুত্ব দিয়ে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির এ নতুন নীতিমালার পেছনে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরো বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
সংগৃহীত ছবি

জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি লাভকারী অমুক্তিযোদ্ধা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণকারী ভুয়া সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। 

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে এনসিপিদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ওয়ারিশরা জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে। শুধু কোটার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত নয়, যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সুবিধাভোগীরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

আখতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ৭৯ হাজার অমুক্তিযোদ্ধার তথ্যও চূড়ান্ত বা নির্ভুল নয়; প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই ধরনের বিতর্কের জেরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও তৎকালীন সরকার মামলা করেছিল।’

আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমাদের সরকার মুক্তিযুদ্ধের সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

সংসদে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার কথা বললেন রেহানা আক্তার রানু

অনলাইন ডেস্ক
সংসদে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার কথা বললেন রেহানা আক্তার রানু
সংগৃহীত ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ব্যাংক ‘লুটেরা এবং ব্যাংকখেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার’ দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বক্তব্য পরিষ্কার, যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, ওই সমস্ত ব্যাংক ডাকাত-ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ক্ষমা নেই। কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক ফিরিয়ে এনে তাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে এই টাকা আদায় করতে হবে।”  

বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

নোটিশে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং মালিকপক্ষের অর্থপাচারের কারণে আজ লাখ লাখ আমানতকারী তাদের টাকা তুলতে পারছে না, এই টাকা বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন বাঁচানোর মূলধন, কষ্টে অর্জিত টাকা কারো পেনশনের সঞ্চয়, কারো সারা জীবনের কষ্টার্জিত আয় বিশ্বাস করে ব্যাংকে রেখেছিল, ব্যাংক মানুষের আস্থার জায়গা, ব্যাংক থেকে টাকা লুট হলে মানুষ কোথায় যাবে। মানুষ যদি ব্যাংকে টাকা না রাখে বিনিয়োগ কমে যাবে, অর্থের প্রবাহ থেমে যাবে, দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে।”  

নোটিশে তিনি আরো বলেন, ‘একজন মানুষের টাকা ব্যাংকে আছে টাকা তুলতে পারছে না বলে সে চিকিৎসা করতে পারছে না। টাকার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা না করাতে পেরে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন। লুটেরা মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবনযাপন করছে। এই মানুষগুলো বর্তমান সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের কান্না, তাদের আর্তনাদ এই রাষ্ট্রের কাছে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ সমস্ত লুটেরা এবং ব্যাংকখেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ 

নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, একটি নির্বাচিত সরকার এই ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ বর্ণিত হয়েছে। এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক কেন্দ্র একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটা রেজুলেশন কৌশলের অধীনে গৃহীত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এই একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের বিধানের আওতায় নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আমানতকারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা হতে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। রেজুলেশনের আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম মোতাবেক আমানতের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পাচ্ছে।”  

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইন্যান্স কম্পানিগুলোর আমানতকারীরা ইতিপূর্বে আমানত সুরক্ষা আইনের আওতাভুক্ত ছিল না। বর্তমানে সরকার তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকদের আমানত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পাঁচটি ব্যাংকের বিনিয়োগ অনিয়মসমূহে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেন্সিক অডিট চলমান রয়েছে। যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে। 

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।’

‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৮ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, আমাদের এই জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণ করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমায় এবং পরিবেশকে নির্মল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনা মূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা সহজ হবে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরো সুদৃঢ় হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের জন্য যেমন প্রয়োজন সমৃদ্ধ দেশ ও শক্তিশালী অর্থনীতি, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বন। সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সবুজ বন পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

তারেক রহমান বলেন, একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে বন ও বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বাড়ির আনাচকানাচে, পতিত ও প্রান্তিক জমিতে, খাল ও নদীর পাড়ে, বাঁধে, সড়ক ও সড়কদ্বীপে, বাড়ির ছাদে এবং শহর-বন্দর নির্বিশেষে উপযুক্ত প্রতিটি স্থানে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রমে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, বৃক্ষমেলা দেশে সবুজায়ন আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষরোপণে দেশবাসীকে আরো উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ বছরও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমি আশা করি, দেশবাসী বৃক্ষমেলা থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভ করবে। আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করি এবং তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করি।

এ বছর যারা ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ অর্জন করেছেন, আমি অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সাফল্য কামনা করেন।