• ই-পেপার

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

ফাউলের পর ফাউল করেও এত কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা!

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাউলের পর ফাউল করেও এত কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা!

একের পর এক ফাউল, প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে বাজেভাবে ট্যাকল, জার্সি টেনে ধরা—এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়ের এমন দৃশ্যের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। 

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিনেই আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও মেসিকে কোনো কার্ড না দেখানো হয়নি।

এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সাভের শালগারকে নিজেদের অর্ধে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবু রেফারি ফাউল না ধরে খেলা চালিয়ে যেতে দেন। সেখান থেকেই আক্রমণ গড়ে তুলে গোল করেন মেসি। 

আর গত রাতে মিসরের সঙ্গে সুবিধা পাওয়ার দৃশ্যগুলো তো তরতাজাই। 

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই যে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা এত ফাউল করছেন, তবু তাদের খুব একটা খুঁত খুঁজে পাচ্ছেন না রেফারি। আলবিসেলেস্তেদের কার্ড দেখিয়ে সতর্কও করা হচ্ছে না তেমন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো মেসি-মার্তিনেজদের প্রতিপক্ষরাই কার্ড দেখছেন!

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত যে পাঁচ ম্যাচ খেলেছে, এর চারটিতেই প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেরা বেশি ফাউল করেছে। 
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১২টি, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১৩টি, মিসরের বিপক্ষে ১৩টি এমনকি নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষেও ১৩টি ফাউল করেছে। একমাত্র কম ফাউল করেছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বেশ পিছিয়ে থাকা দল জর্ডানের বিপক্ষে (৭টি)। 

ক্রীড়াভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম বোলাভিআইপি দিয়েছে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। বিশ্বকাপে যে আট দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, তাদের মধ্যে ফাউলপ্রতি সবচেয়ে কম কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দল প্রতি ১৯.৭ ফাউলে কার্ড দেখেছে একটি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি কার্ড দেখানো হয়েছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। সবই হলুদ কার্ড; লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়নি কাউকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের কার্ড দেখার অনুপাতে সবচেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের প্রতি ৭.৭ ফাউলে একবার কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেছেন রেফারিরা। 

সংখ্যার হিসেবে শেষ আটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ২টি কার্ড দেখেছে নরওয়ে। ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া নরওয়ে ফাউলও করেছে অনেক কম। পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র ৪৮টি। আর্লিং হালান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডদের খেলার ধরন ও মাঠে শৃঙ্খলা বা রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া নিয়েও কারো কোনো অভিযোগ নেই। 

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের কার্ড দেখার অনুপাত

ইংল্যান্ড ⟩ প্রতি ৭.৭ ফাউলে এক কার্ড
মরক্কো ⟩ প্রতি ১০.২ ফাউলে এক কার্ড
সুইজারল্যান্ড ⟩ প্রতি ১১.৫ ফাউলে এক কার্ড
ফ্রান্স ⟩ প্রতি ১২.৩ ফাউলে এক কার্ড
বেলজিয়াম ⟩ প্রতি ১৫ ফাউলে এক কার্ড
স্পেন ⟩ প্রতি ১৮.৩ ফাউলে এক কার্ড
আর্জেন্টিনা ⟩ প্রতি ১৯.৭ ফাউলে এক কার্ড
নরওয়ে ⟩ প্রতি ২৪ ফাউলে এক কার্ড

রেফারিং নিয়ে কথা না বলতে চাপ সালাহকে

ক্রীড়া ডেস্ক
রেফারিং নিয়ে কথা না বলতে চাপ সালাহকে
ছবি : কেডিসি গ্লোবাল

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর। ম্যাচজুড়ে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিসর কোচ হোসাম হাসান ও বেশ কয়েকজন ফুটবলার। তখন নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর একটি মন্তব্য নেটদুনিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

যেই মন্তব্যে ফিফার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মোহামেদ সালাহ বলেন, ‘রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না, বললে সমস্যায় পড়ব। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচে সব সিদ্ধান্ত যদি আপনার বিপক্ষে যায়, সেটা সত্যিই হতাশাজনক। ফুটবলের জন্য এটি দুঃখজনক।’

তবে এটি ফেসবুক, রেডিট, এক্স, থ্রেডসে ছড়িয়ে পড়েছিল কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি বা কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই স্টোরি করেনি।

এই ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা। অভিযোগে তিনি ম্যাচ পরিচালনায় রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। মিসরের দাবি, রেফারি ও তাঁর সহকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ম্যাচের সব কিছু চাপিয়ে এখন আলোচনায় রেফারিং বিতর্ক। তবে তার পরও ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে মেসির অতিমানবীয় খেলায় ম্যাচে ফিরে জয় রূপকথার গল্পের মতোই ইতিহাস হয়ে থাকবে।

ইংলিশ ক্লাবে যোগ দিলেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্পেনের তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিশ ক্লাবে যোগ দিলেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্পেনের তারকা
ছবি : গোলডটকম

দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্পেনের নারী দলের মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুটেলাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে লন্ডন সিটি লায়নেস। তিন বছরের চুক্তিতে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন দুইবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে এই ক্লাবে যোগ দেন।

নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা এবং স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার বার্সেলোনার দীর্ঘ ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমালেন। গত মে মাসে বার্সেলোনা ছাড়ার পর বিশ্বের প্রায় সব শীর্ষ ক্লাবই তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন লন্ডন সিটি ক্লাবকে। খবর বিবিসি

৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বার্সেলোনার হয়ে ১০টি লিগ শিরোপাসহ ৩৮টি ট্রফি জিতেছেন। এই চুক্তিটি উইমেনস সুপার লিগ (ডব্লিউএসএল) তথা বিশ্ব নারী ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

লন্ডন সিটির মার্কিন ধনকুবের মালিক মিশেল ক্যাংয়ের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক সিটিতে পুটেলাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় পুটেলাস বলেন, `‘লন্ডন সিটি লায়নেসের সঙ্গে এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’

চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ বা আর্সেনালের মতো বড় কোনো পুরুষ ক্লাবের ছায়ায় না থেকে, সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং শুধু নারীদের জন্য নিবেদিত একটি ক্লাবের হয়ে ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি।  ক্লাবটির মালিক মিশেল ক্যাং-এর নারী ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নেওয়ার অনন্য পরিকল্পনা  আকৃষ্ট করেছে পুটেলাসকে।

পুটেলাস আরো বলেন, ‘মাঠের বাইরে, যুব ফুটবল উন্নয়নের প্রতি আমার যে ভালোবাসা রয়েছে, তা বজায় রেখে ইংল্যান্ডে এবং বিশ্বমঞ্চে নারী ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মিশেলের সাথে কাজ করতে আমি সমানভাবে উচ্ছ্বসিত।’

পুটেলাস তার শেষ মৌসুমে অধিনায়ক হিসেবে বার্সেলোনাকে চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন। অন্যদিকে লন্ডন সিটি তাদের প্রথম ডব্লিউএসএল মৌসুমে ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করে।

দায়িত্বরত অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবি মিসরের

ক্রীড়া ডেস্ক
দায়িত্বরত অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবি মিসরের
ছবি : প্রেস ওয়্যার

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ম্যাচের দায়িত্বে থাকা রেফারি ও অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার এবং তার অফিশিয়াল দলের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ এনে ফিফার কাছে এই আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে মিসর।

দ্বিতীয়ার্ধে মিসর যখন ১-০ গোলে এগিয়ে। তখন মোস্তফা জিকো আরেকটি গোল করেন। তবে ভিএআরের সহায়তায় আক্রমণের শুরুতে মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার মার্তিনেসকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়।

অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করার কয়েক সেকেন্ড আগে মিসরও মনে করেছিল আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এরিয়ায় মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে রেফারি সেটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করেননি।

ইএফএর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য ভুল এবং কিছু ফুটেজ পর্যালোচনা না করার জেদের কারণে রেফারি এবং ম্যাচে দায়িত্বরত সব অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।

এই ভুলগুলো তদন্তের পর রেফারি এবং পুরো অফিশিয়ালদের বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিও তুলেছে বিবৃতিতে ইএফএ।