• ই-পেপার

ঢাকাসহ ১৭ জেলার জন্য দুঃসংবাদ

জুনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

অন্যান্য মাসের তুলনায় জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের বিষয়টি নজরে এসেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য মাসের তুলনায় জুন ২০২৬ মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিলক্ষিত হচ্ছে মর্মে জানা যায়। গ্রাহক হয়রানি লাঘবের নিমিত্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কম্পানিসমূহকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কম্পানিসমূহের সঙ্গে সরাসরি অথবা হটলাইনগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

হটলাইন সমূহ

বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা- ১৬৯৯৯
বিপিডিবি-এর কল সেন্টার- ১৬২০০
পবিবো-এর কল সেন্টার- ১৬৮৯৯
ডিপিডিসি লি.-এর কল সেন্টার-১৬১১৬
ডেসকো লি.-এর কল সেন্টার- ১৬১২০
নেসকো লি.-এর কল সেন্টার- ১৬৬০৩
ওজোপাডিকো লি.-এর কল সেন্টার- ১৬১১৭

৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোতায়েন হচ্ছে পাঁচ হাজার আনসার

অনলাইন ডেস্ক
৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোতায়েন হচ্ছে পাঁচ হাজার আনসার

দেশের ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে (বুধবার) থেকে এ মোতায়েন কার্যকর করার পাশাপাশি বাস্তবায়ন শেষে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও জনবান্ধব করতে নবগঠিত পাঁচটি উপজেলাসহ দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ১০ জন করে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

যেসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকেই আনসার সদস্য কর্মরত রয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সদস্যদের সম্বন্বয় করে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১০ জন আনসার সদস্য নিশ্চিত করতে হবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ হাজার আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় হবে। এ অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পরিবর্তে আনসার ও ভিডিপির নির্ধারিত বাজেট কোডে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনরাও আরও নিরাপদ পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে দেশে ফিরেছেন ১০৯ জন

অনলাইন ডেস্ক
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে দেশে ফিরেছেন ১০৯ জন

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ১০৯ জন দেশে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে জুন মাসে সেখান থেকে ফিরলেন ৫৮৩ বাংলাদেশি।  

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টি‌জি-৩৩৯ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এর মাধ্যমে গত চার দিনে দেশে ফিরেছেন ৩৬২ জন। শুধু জুন মাসেই কম্বোডিয়া থেকে ফিরেছেন মোট ৫৮৩ জন বাংলাদেশি।

দেশে ফিরে আসা প্রত্যেককে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলার এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। এ জন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে তিনি মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা পান। বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে বাংলাদেশি দালালরা। পরে তাকে আর কোনো বৈধ কাজের ভিসা দেওয়া হয়নি, বরং টাকার বিনিময়ে তাকে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে না পারলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরেই ছিল নির্যাতনের জন্য আলাদা টর্চার সেল। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারে ভয়াবহ এক রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জুন মাসে ৫৮৩ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই মানবপাচার চক্রের শিকার হয়েছেন। এরই মধ্যে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।

পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে, দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জুন মাসে দেশে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল। এর আগে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মায়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ৮ জন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরো ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। 

এ কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।

সীমান্ত পাহারার চেয়েও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্ত পাহারার চেয়েও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ফাইল ছবি

কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়ার থেকেও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নিরাপত্তার ধারণা গুণগতভাবে পাল্টে গেছে। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়ার থেকেও এখন সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত ধারণার মধ্য থেকে আনসার বাহিনীকে বের করে আনার চেষ্টা প্রশংসনীয়। প্রান্তিক কণ্ঠস্বরের আবির্ভাব গুজব প্রতিরোধসহ সঠিক তথ্য প্রবাহকে নিশ্চিত করবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে তথ্য এখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।