• ই-পেপার

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে : শিল্পমন্ত্রী

আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের ভেতরে ‘বেকারি কারখানা’ পরিচালনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের ভেতরে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ, বেকারির ময়লা ও জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দূষণ সাম্প্রতিক নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার পেছনেও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের গাফিলতি, সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবের কারণে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে কীভাবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে বেকারি পরিচালনা ও বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার আড়ালে এমন বাণিজ্যিক মানসিকতা মেনে নেওয়া যায় না। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা খাতে কোনও ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অবহেলা সরকার বরদাস্ত করবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, গত মে মাসে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চরম অবহেলার কারণে ছয়টি পরিবার সন্তান হারিয়েছে। হাইপারক্যাপনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসার সময় এসি বন্ধ ছিল, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপোর্ট ছিল না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদেরও পাওয়া যায়নি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পরদিন নিজে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এত বড় ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত শিশুদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং হাসপাতালের ভেতরে বেকারি কারখানা, প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ এবং জলাবদ্ধ পরিবেশ বজায় রেখেছে। এসব থেকে নির্গত দূষণ হাসপাতালের পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং তা শিশু মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হাসপাতাল চত্বরে যেভাবে দাহ্য প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে সামান্য অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব অনিয়ম ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সরকারি তদারকিতে নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপকে ‘দলীয়করণ’ বা ‘মাথা কেটে ফেলা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের জীবন রক্ষায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দেশের সব হাসপাতালকে কঠোর শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।

সংসদে বিরোধী দলের এক সদস্যের বক্তব্যের জবাবে পবিত্র কোরআনের সূরা নজমের আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ওহির ভিত্তিতেই কথা বলেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ ধরনের বক্তব্য চরম শিরকের শামিল এবং যারা এমন কথা বলেন, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলনই এবারের বাজেট। তিনি দাবি করেন, এই বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন অনুধাবনের সক্ষমতা সবার নেই।

অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর সময়ও বিরোধিতা হয়েছিল। কিন্তু এখন ভ্যাট ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায় না। বর্তমান রাজস্ব বাজেটের গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরো স্পষ্ট হবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একভাবে দেখার কোনো সুযোগ : ত্রাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একভাবে দেখার কোনো সুযোগ : ত্রাণমন্ত্রী

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে একভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ছিল একটি স্বাধীন দেশ গঠনের জন্য, আর জুলাই মাসে যা হয়েছে তা ছিল একটি স্বৈরাচারবিরোধী স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন। দুটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব ভিন্ন হলেও সব সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই যেন কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসংগতি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদে তিনি একজন শহীদের সন্তান হিসেবে নিজের আবেগ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আমার নিজের বাবা শহীদ হয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছে এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত গিয়েছে। অথচ তাদের অনেকেরই আজও কোনো গেজেট নেই, ইতিহাসে তাদের নাম সেভাবে লেখা হয় না। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের তালিকা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনাকে মেলানো সমীচীন হবে না, কারণ দুটির লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা।’

তবে জুলাই আন্দোলনে নিজেরা ও তাদের দল সরাসরি যুক্ত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেও পূর্ণ সম্মান করি।’

তিনি বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে রাজপথে নিহত ও আহতদের অবদানের কথা স্মরণ করে বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন। সম্প্রতি এক শোকার্ত মায়ের তার কাছে আসার স্মৃতিচারণা করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘১৭ বছরের লড়াইয়ে মিছিল করা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে ওই মায়ের সন্তান নিহত হয়েছে। জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা করা হলেও এই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের তালিকা কোথায়? তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে না পারলে তা হবে চরম এক বৈষম্য।’

তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ও আহত হয়েছে, তাদেরও অবিলম্বে গেজেটভুক্ত করা হোক। এই বৈষম্যগুলো দূর করতে পারলেই একটি সঠিক, সুন্দর ও সাম্যের বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে উচ্ছ্বসিত কুমিল্লার শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে উচ্ছ্বসিত কুমিল্লার শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৫ শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষক প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। রবিবার (২৮ জুন) সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ শিক্ষা সফর প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্মরণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ী ও স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের শুভেচ্ছা বিনিময়। তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। স্মরণীয় মুহূর্ত এভাবে ধারণ করতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন এবং এটিকে তাদের সংসদ সফরের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, নীলকান্ত সরকারি কলেজ, নাথেরপেটুয়া ডিগ্রি কলেজ এবং শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজ।

জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রথমে এলডি হল পরিদর্শন করেন। এরপর বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনের নান্দনিক স্থাপত্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তারা চলমান বাজেট অধিবেশন সরাসরি উপভোগ করেন। পাশাপাশি সংসদের উত্তর ও দক্ষিণ প্লাজা, মনোরম ক্রিসেন্ট লেক, অধিবেশন কক্ষ এবং সমৃদ্ধ সংসদ গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

সফরকালে তারা মনোহরগঞ্জের কৃতী সন্তান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন। সংসদ ভবনে আয়োজিত ব্রিফিং সেশনে জাতীয় সংসদ ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে শিক্ষার্থীরা গভীর আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত ‘শুভেচ্ছা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন কেবল একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে রাষ্ট্র পরিচালনা, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে এ ধরনের শিক্ষা সফরের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সততা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান।

সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

অনেক শিক্ষার্থী জানান, এত দিন তারা সংসদ ভবন সম্পর্কে শুধু পাঠ্যপুস্তক, সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জেনেছেন, এখন বাস্তবে সংসদ ভবনে এসে ঘুরে দেখার সুযোগ তাদের কাছে আজীবন মনে রাখার মতো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য এই সফর ভবিষ্যৎ জীবনে দেশ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে জানার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে এবং বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সফররত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যকে সরাসরি দেখার সুযোগ পান।

পে স্কেল বাস্তবায়নে ৫ সিদ্ধান্ত, কমতে পারে ভাতা

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেল বাস্তবায়নে ৫ সিদ্ধান্ত, কমতে পারে ভাতা
ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে এই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি মূল বেতন বাড়ানো ও বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। 

প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন মাত্র দুই ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

আর্থিক চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।

পে-স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সে জন্য আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশনের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল করার কারিগরি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।


জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগলেও, ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর গণ্য হবে এবং পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে সেই অর্থ প্রদান করা হবে।

তবে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি ভাতা সমন্বয় বা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা। বর্তমানে কর্মস্থল ও অঞ্চলভেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে একই হারে বাড়িভাড়া ভাতা বহাল রাখলে সরকারি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এজন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এই ভাতার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ অথবা সর্বোচ্চ একটি সীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষা সহায়ক ভাতাও পুনর্বিবেচনার আওতায় এসেছে। বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য যে শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়া হয়, সেটির ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ বা ভাতা কাঠামোয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানিয়েছে, যাতায়াত ভাতা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এবং অন্যান্য কিছু ভাতা সমন্বয়ের পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক বা কম ব্যবহৃত ভাতা বিলুপ্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।