• ই-পেপার

ঢাবিতে তিতুমীর

এবারের বাজেটকে সংখ্যার দৃষ্টিতে না দেখে মূল দর্শন বোঝা জরুরি

৩১ লাখ টাকা শিক্ষাবৃত্তি পাবেন কুবির ৪০২ শিক্ষার্থী

কুবি প্রতিনিধি
৩১ লাখ টাকা শিক্ষাবৃত্তি পাবেন কুবির ৪০২ শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেধাবৃত্তি, অসচ্ছল মেধাবী এবং স্পোর্টস ক্যাটাগরিতে ৪০২ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে মোট ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষাবৃত্তির জন্য প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এর আওতায় শিক্ষাবৃত্তি পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগ থেকে মেধাবৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে ২০৮ জনকে। এই ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের মধ্যে ফলাফলে প্রথম স্থান অধিকারী ৬৮ জন শিক্ষার্থী ৮ হাজার ৫০০ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ৬৭ জন শিক্ষার্থী ৮ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ৭৩ জন শিক্ষার্থী পাবেন ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং মার্কেটিং বিভাগে ১৪ জন করে, আইন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এবং ইংরেজি বিভাগে ১৩ জন, গণিত বিভাগে ১২ জন, অ্যাকাউন্টিং, প্রত্নতত্ত্ব, অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগে ১১ জন, রসায়ন, সিএসই, আইসিটি এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১০ জন এবং পদার্থ বিজ্ঞান, ফার্মেসি, বাংলা, লোক প্রশাসন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৯ জন করে পাবেন মেধাবৃত্তি।

এ ছাড়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী ক্যাটাগরিতে ১৮২ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে প্রত্যেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। 

এদিকে খেলাধুলায় স্বীকৃতি হিসেবে ১২ জন শিক্ষার্থীকে স্পোর্টস শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এদের প্রত্যেকে পাবেন ৮ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট এক লাখ দুই হাজার টাকা। এরমধ্যে গণিত, পরিসংখ্যান, রসায়ন, ইংরেজি, বাংলা, অর্থনীতি, লোক প্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, এআইএস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা, মার্কেটিং, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এবং আইন বিভাগে ১০ জন করে। পদার্থ বিজ্ঞান ও সিএসই বিভাগে ৯ জন, ফার্মেসি, প্রত্নতত্ত্ব ও আইসিটি বিভাগে ৮ জন করে পাবেন অসচ্ছল মেধাবৃত্তি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেধাবৃত্তি, অসচ্ছল মেধাবী, স্টাইপেন্ড এবং স্পোর্টস স্কলারশিপ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। বৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অসচ্ছলতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের একাডেমিক ফলাফল ও সিজিপিএকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাছুটির পরও কর্মস্থলে যোগদান না করায়

গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৬ জন শিক্ষককে এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে আরো একজনসহ ১৭ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/১০ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অননুমোদিতভাবে শিক্ষাছুটিতে বিদেশে অবস্থান করা এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিকবার পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা হলেন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার এবং প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অফিস আদেশে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের ছুটিকালীন আহরিত সমুদয় অর্থ বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গোবিপ্রবির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাহবুবুল আলমের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি
চাকরিচ্যুত সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুন। সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গৃহীত অর্থও তাকে ফেরত দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/৬ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। পরে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে তিনি সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত।

এ বিষয়ে ফাতেমা খাতুনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাবিতে যুব কর্মসংস্থান নিয়ে দিনব্যাপী সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবিতে যুব কর্মসংস্থান নিয়ে দিনব্যাপী সেমিনার
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কেন্দ্রে যুব কর্মসংস্থানকে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক ড. সেলিম জাহান। তিনি বলেন, বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ হলেও বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই কর্মসংস্থানের পরিমাণগত অর্জনের পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারজেনারেশনাল ডায়ালগ : পাথওয়েজ ফর ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ এই দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করে।

পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু হাসানাত মোহাম্মদ কিশোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্র উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক শাফায়েত সুলতান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্সসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের কর্মবাজারে তারা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে। এ ধরনের আন্তঃপ্রজন্ম সংলাপ থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে এবং সরকারের কাছে তা উপস্থাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. উম্মে বুশরা ফাতেহা সুলতানা এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ। বক্তারা দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।