• ই-পেপার

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

সনদনির্ভর নয় কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার : ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সনদনির্ভর নয় কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রিধারী নয়, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান-উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অতীতের মতো কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ ও বাস্তব কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।

আজ রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই বাস্তবতা পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এমন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। তাই সময়োপযোগী, ক্যারিয়ারভিত্তিক ও দক্ষতাকেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

ববি হাজ্জাজ নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থায় এসব বিষয়কে আরো গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানল্লাহ, অত্র কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মো. মোখলেস উর রহমান এবং তেজগাঁও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ নবীন শিক্ষার্থীবৃন্দ।

মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলানগরে স্পারসোর কার্যালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান স্পারসোর কার্যালয় ঘুরে দেখেন।  তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্পারসোর চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এরপর স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ভাবন, গবেষণা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, স্বনির্ভর এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রয়োগে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিদ্যামান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিষয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

​এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন আয়ে কর দিতে হবে না

অনলাইন ডেস্ক
৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন আয়ে কর দিতে হবে না

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে বছরে ৬ লাখ টাকার কম বেতন বাবদ আয় (এক-তৃতীয়াংশ কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত) থাকলে কর দিতে হবে না। তবে রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ, এফডিআরের সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় করদাতাদের ওপর করের বোঝা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়মিত হারে কর দিয়ে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখানোর যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বাতিল হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে ব্যাংক হিসাব খোলায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) বাধ্যবাধকতাও বাতিল করা হচ্ছে। তা ছাড়া আগের মতোই থাকছে শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ আয়ের করহার। 

সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। মূল্যস্ফীতির কশাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে এ সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ল। 

এ বিষয়ে কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোয় নিম্ন-আয়ের সাধারণ করদাতারা সুফল পাবেন। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত করহারে পরিবর্তন না আনলে ব্যবসা, কৃষি, আর্থিক পরিসম্পদ বা বাড়ি ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে আয় করলে তাদের বাড়তি কর দিতে হবে। কেননা ন্যূনতম করহার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের বিনিয়োগের সীমা ১৫ থেকে ১০ শতাংশ করা এবং মেয়াদকাল পর্যন্ত ধারণের বাধ্যবাধকতার কারণে করের বোঝা বাড়তে পারে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নানা সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার এ সুযোগ বাতিল করে দেয়।