• ই-পেপার

রাষ্ট্রপতি

পবিত্র আশুরার শিক্ষা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায়

পদ্মা সেতুর চার বছর

টোল আদায় ৩৩৯২ কোটি : ৩৫ বছরের লক্ষ্য থাকলেও উঠে যাবে ২২ বছরেই

নিশাত বিজয়
টোল আদায় ৩৩৯২ কোটি : ৩৫ বছরের লক্ষ্য থাকলেও উঠে যাবে ২২ বছরেই

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর চার বছর পূর্ণ হওয়ার সময়েই লাভের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের ২৬ জুন যান চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে সেতুটির টোল থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকার বেশি। এ সময় সেতুটি ব্যবহার করেছে আড়াই কোটিরও বেশি যানবাহন।

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেতু উদ্বোধনের পর ২০২২ সালে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৪০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে আদায় হয় ৮১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৮৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে ৮৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৪৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চার বছরে মোট আদায় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকায়।

এদিকে, চলতি বছরের ঈদুল আজহায় এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড গড়েছে পদ্মা সেতু। গত ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতু ব্যবহার করে। ওইদিন টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষের সূত্র বলছে, সরকার সেতু নির্মাণের সময় যে সমীক্ষা করেছিল, সেসময় ৩৫ বছরের মধ্যে খরচ ওঠার প্রক্কলন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে যে গতিতে টোল আদায় চলছে পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ খরচ উঠতে আর লাগবে সর্বোচ্চ ১৮ বছর। ২০৪৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে। ২০২২ সালের জুনে সেতু উদ্বোধনের পর থেকে হিসাব করলে মোট ২২ বছরেই উঠে যাবে বিশাল এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়।

সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে আর্থিক দিকের পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলাই এ সেতুর সবচেয়ে বড় অর্জন।

লাভের পথে পদ্মা সেতু প্রকল্প

সরকারের স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ অর্থবিভাগের কাছে থেকে ঋণ নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে। ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দিয়েছিল সরকার।

সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কিস্তিতে গড়ে ১৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি ঋণ পরিশোধ শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৬ কিস্তিতে ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা সরকারকে পরিশোধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

ঋণ পরিশোধ, সরকারের ভ্যাট পরিশোধ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মিটিয়ে যমুনা সেতুর পরে সেতু কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় প্রকল্প হিসেবে লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে সরকার। ঋণ পরিশোধ ছাড়াও ৫০৮ কোটি টাকার মতো সরকারকে ভ্যাট পরিশোধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতুর টোল থেকে বাকিটা রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আলতাফ হোসেন শেখ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছে। এ পর্যন্ত ১৬টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। এর বাইরে মোট টোল আদায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আছে। তবে যে গতিতে টোল আদায় বাড়ছে, আমরা ব্রেক ইভেন্টে পৌঁছে যাবো।

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশবিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশবিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশবিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা টেস বি ব্রেসনান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে টেস বি. ব্রেসনান বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত জাতিসংঘ ও বিদেশি  অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম ও দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ দমন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান গভীর সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অদূর ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার বলেন, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই ২০২৬ লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)-এর আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাজ্য প্রেরিত ‘ইউকে লেটার’ এর প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান।

বৈঠকে অভিবাসন অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং তা পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করা হয়। মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

ইসলামে বিভেদ, হানাহানি ও বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
ইসলামে বিভেদ, হানাহানি ও বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।

আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন, আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরো নিবেদিত করি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিক্ষা ধারণ করে।’

তিনি বলেন, ‘কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।’

মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণার উৎস জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তার পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদাতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে।’

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একই সঙ্গে কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনায় শাহাদাতবরণকারী তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া তিনি এই শোকাবহ দিনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।