• ই-পেপার

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (২২ জুন)

মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই

মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত একটি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি মোট দুইটি দ্বি-পাক্ষিক দলিল বিনিময় হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীরকার্যালয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পের্যায়ের বৈঠকে এসব সমঝোতা ও দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী উপ প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী দাতো সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে দলিল বিনিময় করেন।

সন্ধ্যার মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠক

শ্রম-বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
শ্রম-বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা
তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ায় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মালেশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় জনশক্তি, প্রযুক্তি, জ্বালানি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বাণিজ্যসহ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

পরে তাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালেশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দু’দেশের সরকার প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে গুরুত্ব পেল যেসব বিষয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে গুরুত্ব পেল যেসব বিষয়

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।

আজ সোমবার (২২ জুন) পুত্রজোয়ায় কাল সাড়ে ১০টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

এছাড়া বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালেশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, Regional Comprehensive Economic Partnership-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন ( counter-terrorism) বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের সরকার প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি, আরো বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। আমি অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একমত যে নিয়োগ স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য মধ্যবর্তী এবং কম খরচ হওয়া উচিত।’

এসময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং মায়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই  প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চায়। আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দিতে আগ্রহী আমরা। আমি তার আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করি।’

এর আগে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় একান্ত এই বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একান্ত বৈঠকে বসার আগে পরিদর্শন বইতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একান্ত বৈঠকের পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়। বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।

বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ,জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী পাঠানো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র সচিব।