মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিখোঁজের ছয় দিন পর মারিহা মাহি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চন্দননগর এলাকায় একটি কাঠ বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত স্কুলছাত্রীর বাড়ি সিঙ্গাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামে। সে স্থানীয় সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
আটকরা হলেন- উপজেলার কানাইনগর গ্রামের রাজিব (ছদ্মনাম), বোন আয়েশা আক্তার (২১), রুমা আক্তার (৩৫), শাহরাইল গ্রামের মৃত ছালাম খানের ছেলে মাসুদ হোসেন (৩৫) আবুল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৫), স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০) ও আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা (৩৫)।
থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময়ে একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির ছাত্র রাজিব ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাহির আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে বিষয়টি সর্বমহলে জানাজানি হয়। পরে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা ভিত্তিতে গত ১৫ জুন ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পর উভয় শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামুলক স্থানান্তর সনদ (টিসি) দেওয়া হয়।
টিসি দেওয়ার পর রাজিব বাড়িতে ফিরলেও মাহি আর বাসায় ফেরেনি। এর পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি পরিবার। এঘটনায় নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
রবিবার (২২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চন্দননগর কবরস্থানের পাশে একটি কাঠ বাগানে তার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। নিচেই পড়েছিল তার ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ ও জুতা। মরদেহের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল এবং কোমরের নিচের অংশ মাটিতে পড়ে ছিল। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মাহির বলে সনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় থানা পুলিশ।
থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত স্কুলছাত্রীর একটি অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং বাকি অংশ নিচে পড়ে ছিল। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহত ছাত্রীর মা কামরুন্নাহার। তাদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ নিরাপদ হলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’





