• ই-পেপার

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি, প্রজ্ঞাপন জারি

সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান কোস্ট গার্ডের

মোবারক আজাদ, মোংলা (বাগেরহাট) থেকে
সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান কোস্ট গার্ডের

সুন্দরবনের ডাকাত, জলদস্যু, বনদস্যু, চাঁদাবাজসহ সব সন্ত্রাসী বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কোস্টগার্ড।   সম্প্রতি ও সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের জাহাজের ওপর হামলার প্রেক্ষিতে কোস্ট গার্ড মোংলা স্টেশন জোনাল কমান্ডার পশ্চিম জোনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ  মেসবাউল ইসলাম আজ শুক্রবার সকালে এক ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাগেরহাটের মোংলায় জয় মনি ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন ওই এলাকা বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপনের পর দস্যুদের কাছে রসদ, অস্ত্র, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি তারা মেনে নিতে পারছে না।

বাহিনীটি জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার জয় মনি ঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আইন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা ও পেশাদারির সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।”

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যু ও জলদস্যু নির্মূল, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মংলা বন্দরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে তাঁদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কোণঠাসা দস্যু বাহিনী : দাবি কোস্ট গার্ডের

কোস্ট গার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের কারণে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে দস্যুরা এখন আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তাদের চলাচল, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা কমে এসেছে।’

এই চাপের মুখেই সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনের সব সক্রিয় ডাকাত ও দস্যুদের অপরাধের পথ পরিহার করে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে কেউ যদি এ আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আত্মসমর্পণ করেও কেন ফিরছে কেউ কেউ

সম্প্রতি পুনরায় আত্মসমর্পণ করা সুমন বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে পুনর্বাসন-সংক্রান্ত নানা সমস্যা। কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুমন বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। সমাজও তাদের সহজভাবে গ্রহণ করতে চায় না। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যার কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধের পথে ফিরে যায়।

তবে এবার আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।

মৌসুম এলেই বাড়ে জলদস্যুতা

কোস্ট গার্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুন্দরবনে সারা বছর সমানভাবে দস্যুতা হয় না। ইলিশ ধরার মৌসুম, মাছ আহরণ মৌসুম এবং মধু সংগ্রহের সময় দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বকেন, এসব সময়ে বিপুলসংখ্যক জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তাদের লক্ষ্য করেই অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করে দস্যুরা। বর্তমানে সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত রয়েছে। ফলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও কমে এসেছে। তবে মৌসুম শুরু হলে দস্যুরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে।

ছয় থেকে আটটি বাহিনী এখনো সক্রিয়

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে ছয় থেকে আটটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রতিটি বাহিনীতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ কিংবা ১২ জন সদস্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ছোট ছোট উপদল বা ‘ক্লোন’ বাহিনী তৈরি হয়। এসব বাহিনী মূলত জেলে ও মৌয়ালদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

সরু খালই তাদের আশ্রয়

সুন্দরবনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এখনো দস্যুদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বনজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সরু খাল ও ন্যারো চ্যানেলকে আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে দস্যুরা। জোয়ারের সময় যেসব পথে নৌকা চলাচল করে, ভাটার সময় সেগুলোর অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে বড় বোট বা জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।

তবে বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব দুর্গম এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মান্দারবাড়িয়া ও সাতক্ষীরা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সীমিত জনবল, তবু দিন-রাত টহল সুন্দরবনের বিশাল আয়তনের তুলনায় কোস্ট গার্ডের জনবল এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম।

মেসবাউল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগও থাকে না। দস্যুরা মাঝেমধ্যে এসব সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে ফাঁকা আউটপোস্টে হামলার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত অতিরিক্ত সদস্য পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক টহল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে দস্যুরা আগের মতো সংগঠিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ভুক্তভোগীদের নীরবতা বড় চ্যালেঞ্জ দস্যুতা দমনে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে ভুক্তভোগীদের নীরবতাকে দায়ী করছেন কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, অনেক জেলে অপহরণ বা মুক্তিপণের শিকার হলেও ভয়ে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান না। প্রশাসনের দেওয়া ১৬০-সহ বিভিন্ন সরকারি নম্বর থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অভিযোগ করা হয় না। এই যোগাযোগ ঘাটতির সুযোগ নেয় দস্যুরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় জেলেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দস্যুদের প্রতিরোধ এবং ধরতে সহায়তা করেছেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।

মুক্তিপণের টাকা হাতবদল হয় ডাঙ্গায়

অপহরণের ঘটনা বনের ভেতরে ঘটলেও মুক্তিপণের টাকা অনেক সময় মোংলা, বরগুনা, পাথরঘাটা কিংবা খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাতবদল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো মুক্তিপণের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে একাধিক সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বনের ভেতরের দস্যুদের পাশাপাশি স্থলভাগে থাকা সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরোক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।

স্থানীয় অস্ত্র দিয়েই আতঙ্ক

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, দস্যুদের হাতে থাকা অধিকাংশ অস্ত্রই স্থানীয়ভাবে তৈরি। পাইপগান, একনলা ও দোনলা বন্দুক বেশি দেখা যায়। এমনকি খেলনা পিস্তল ব্যবহার করেও জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। তবে আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত কোস্ট গার্ডের কারণে তারা এখন আগের মতো সুবিধা করতে পারছে না।

অস্ত্র যাচাইয়ে কঠোরতা

আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের জমা দেওয়া অস্ত্রের বিষয়ে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, কেউ যাতে একটি অস্ত্র জমা দিয়ে পেছনে আরো কয়েকটি অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি তাদের কাছে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও নজর

জলদস্যু দমনের পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও কোস্ট গার্ড কাজ করছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত তিন মাসের পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধ, বন্যপ্রাণী শিকার প্রতিরোধ এবং বনজ সম্পদ পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।

মোংলা বন্দরের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব

সুন্দরবনের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কোস্ট গার্ড কাজ করছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্দর চ্যানেলে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুটে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে বন্দর কার্যক্রম সচল, নিরাপদ ও গতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন, উপকূলীয় অঞ্চল, সমুদ্রসীমা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীটি বদ্ধপরিকর। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেট একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ বাজেট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়েছে, তা আমরা দিয়েছি। কতটা সফল হয়েছি, তা দেশের মানুষ মূল্যায়ন করবে।

এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন ছিল। একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নতুন সরকারের অধীনে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করেছি। কেউই এই বাজেটের আওতার বাইরে নেই বলে আমি মনে করি না।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যারা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন, তাদেরও বাজেটের আওতায় আনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন।

সবশেষে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, এবং সরকার সেই নীতিতেই অগ্রসর হচ্ছে।

সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল—মনে করে বিজিবি

বিবিসি বাংলা
সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল—মনে করে বিজিবি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় গত কিছুদিন ধরেই ‘পুশ ইন’ বা ‘পুশ ব্যাক’ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বারবার পতাকা বৈঠক, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা তো ঘটেছেই। একাধিকবার ধাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইন করানোর একটি প্যাটার্ন খুঁজে বের করেছে বিজিবি কর্মকর্তারা। পুশ ইনের আগে ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটিকে ‘সিগন্যাল’ ধরে সতর্ক অবস্থান নেন বিজিবি কর্মকর্তারা।

বিজিবির রবাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, মে মাসের শেষদিক থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে পুশ ইন এবং পুশ ব্যাক উত্তেজনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে অন্তত ২০০ জন মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর সীমান্ত সড়ক রয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়ার বিভিন্ন জায়গায় গেট রয়েছে। সীমান্ত সড়ক দিয়ে রাতে বড় গাড়িতে করে মানুষ নিয়ে গিয়ে, লাইট বন্ধ করে, কোনো একটি গেট খুলে দিয়ে মানুষ বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় তারা।’

প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রেই বিএসএফের এই পুশ ইন করার প্যাটার্ন বা ঘটনাপ্রবাহটা একইরকম জানিয়ে তিনি বলেন ‘প্রতিটি পুশ ইনের আগেই ওই এলাকায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়, এটি সবচেয়ে বড় সিগন্যাল।’ 

মে মাসের শেষদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সংলগ্ন সীমান্তের ভারত অংশে কয়েকশ মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে বিজিবির। এ ঘটনার পরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সব অঞ্চলেই নজরদারি বৃদ্ধি করে বিজিবি।

ঝিনাইদহ, যশোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেয় বিজিবি। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসানের দাবি, সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ এই নজরদারি আর টহলের কাজে বিজিবিকে সহায়তা না করলে ‘পুশ ইন’ ঠেকানো সম্ভব হতো না বিজিবির পক্ষে।

তিনি জানান, স্থানীয় স্কুলে, মসজিদে, এলাকার বাজারে গিয়ে বিজিবি নিয়মিত মাইকিং করে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জানানো হয়, সীমান্তে সেসব লক্ষণগুলো দেখা গেলে বুঝতে হবে পুশ ইন হতে পারে।

গত ৩ জুন বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে একজন চৌকিদারের কাছ থেকে পুশ ইনের তথ্য পায় বিজিবি। চৌকিদার জানান, বিজিবি কয়েকদিন আগে থেকে তাকে সীমান্তের লাইট বন্ধ হওয়া বা রাতে সীমান্তের ওপারে গাড়ি চলাচলের শব্দ শুনলে সতর্ক থাকার জন্য বলে।

বিজিবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি বিএসএফ। তবে বিজিবির সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠকে তারা একাধিকবার এই পুশ ইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে বলছেন বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

অনলাইন ডেস্ক
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মগবাজারে হাসপাতালটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল।

তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মগবাজার শাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা আমরা সঠিকভাবে পালন করব। এক্ষেত্রে রোগীদের কোনো প্রকার ক্ষতি যে না হয়; সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি এবং খেয়াল রাখব, ইনশাআল্লাহ।

হাসপাতালটির পরিচালক বলেছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করব। আশা করব, জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকার জনস্বার্থে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখতে আমাদের অনুমতি দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে ওয়ার্ডে যে ছয়টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে; সেই ওয়ার্ড আমরা বন্ধ রেখেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ওয়ার্ডের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করব।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের যে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। সে কাজে রোগীদের যাতে কোনো প্রকারের ক্ষতি না হয়। আমরা সে বিষয়ে খেয়াল রাখছি। তাদের পাশে আমরা সবসময়ই ছিলাম এবং এখনো আছি।