• ই-পেপার

আবাসন খাতে প্রত্যাশিত নীতিসহায়তা নেই, নির্মাণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা : রিহ্যাব সভাপতি

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে : মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সব মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে : মাহদী আমিন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে জনবান্ধব, জনকল্যাণমুখী ও ভিশনারি বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‌‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার বহু বছর পর আজ একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে। এই বাজেটে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে; এটাই আমাদের বিশ্বাস।’ 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাজেটে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন- এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বাজেটে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল, মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। অতীতে বাজেট ঘোষণার সঙ্গে-সঙ্গে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেত। এবারের জনবান্ধব বাজেটে সেই সমস্যা সমাধান হবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরে আরও সমতাভিত্তিক ও সার্বজনীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে পৌঁছে দিতে হার্ট, কিডনি, চোখসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবাকে যতটা সম্ভব সুলভ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও বীমা সহজলভ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু নতুন থ্রাস্ট সেক্টরকে চিহ্নিত করে বন্ডেড সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে। এই বাজেট শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের নয়; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পলিসি সাপোর্টের পাশাপাশি, তৃণমূলের একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয়কে ধারণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে গ্রাহকদের সুরক্ষা ও ঋণ প্রদানে দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করা, যাতে দেশের জনগণের অর্থ সরাসরি উৎপাদনশীল খাত ও জনসাধারণের উন্নয়নে অধিকতর কাজে লাগে। একই সঙ্গে লেনদেন বৃদ্ধি, ইনফরমাল ইকোনমিকে ধীরে-ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির একটি টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায়, সেটাকে মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে আমরা সবাই যদি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিই, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের আস্থাকে পুঁজি করে এই বাজেট সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে চলমান অভিযাত্রাকে বেগবান করবে।

ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অনলাইন ডেস্ক
ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ঋণনির্ভর বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ থেকে বাজেট অধিবেশনে থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাজেটের মূল সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

তিনি আরো বলেন, মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে, সেজন্য বিভিন্ন বরাদ্দ উল্লেখ আছে। যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একই সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক নীতি কাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক কাঠামো সেটা অত্যন্ত দুর্বল। আর্থিক কাঠামো যেটা করা হয়েছে তার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক বিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাটা সেই জন্য কারণ, অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ধরনের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে উদারীকরণ, মানবিক অর্থনীতি গঠন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিগতভাবে শক্তিশালী এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ভিত্তি যথেষ্ট দৃঢ় নয় বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে বাজেটের মূল সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

তিনি বলেন, সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়।

চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিবৃতি

বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেছেন, একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রোগীর পরিবার ও স্বজনদের শোক, কষ্ট ও আবেগ আমরা সম্মান করি। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ওই শোক বা ক্ষোভকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর ওপর শারীরিক হামলা, অপমান, ভাঙচুর বা হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

চিকিৎসাসেবাকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন সীমিত জনবল, সীমিত সম্পদ, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শারীরিক অথবা মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। কিন্তু রিপোর্টিং রেট ছিল মাত্র ২৭.৮ শতাংশ অর্থাৎ অধিকাংশ ঘটনা জানানোই হয় না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই ধরনের নিপীড়নের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ তদন্তের সুযোগ আছে, জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে, প্রয়োজনে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পথও খোলা আছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন চিকিৎসক বা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়; এটি পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীর সেবা পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এই ধরনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মানসিকভাবে ভীত, অনিরাপদ ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীর চিকিৎসাসেবার ওপর এবং রোগীদেরকে বিদেশমুখী করবে। তাই স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সব সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বরাদ্দ সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বরাদ্দ সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপির সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি বলা হয়েছিল ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই দুই কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বাজেটে এমন প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার গত ১৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্য চাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিদেরও এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণ প্রতি বছর একবার দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি আরও ১০ ধরনের বহুমুখী সুবিধা পাবেন। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বাবদ এক হাজার ৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং চলতি অর্থ বছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে 'ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি' চালু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি সারা দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের 'মা' বা 'নারী প্রধান' সদস্যের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা সরাসরি মোবাইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে। এ হার বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার হার অপেক্ষা প্রায় তিন গুণ।

২০৩০ সালের মধ্যে এ কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করতে চাই। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪ জন পরিবারের নারী প্রধানকে এ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য বাজেটে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা,  বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।