নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতি বছর একটি যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। তবে জেআরপি ২০২৬-এর বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যা খুবই উদ্বেগজনক খবর।
বুধবার (১০ জুন) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তারা।
আরো পড়ুন
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু
সিসিএনএফ-এর প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন স্থানীয় এনজিও ‘প্রতিশ্রুতি’র আঞ্জুমান আরা, কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন, মো. শাহিনুর ইসলাম ও তাহরিমা আফরোজ টুম্পা, কক্সবাজার পর্যটন শিল্প ও সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেওয়াজ মো. সেলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কবির, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার ইয়ুথ ফোরামের নাসিমা আখতার, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের জাহানারা ইসলাম এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের মমতাজ উদ্দিন বাহারী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জেআরপি বাস্তবায়ন থেকে স্থানীয় এনজিওদের বাদ দেওয়া গ্র্যান্ড বার্গেইনের অধীনে গৃহীত স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যার স্বাক্ষরকারী ইউএনএইচসিআর (জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার)। ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তারা বলেন, জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধির বক্তব্যের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়নি, অথচ আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতির আলোকে জেআরপিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক এনজিও, জাতিসংঘ সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় অংশীজনদের অধিকতর অন্তর্ভুক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম চৌধুরী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সরকার ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে নাফ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান।