• ই-পেপার

সাক্ষাৎকার - শেখ রবিউল আলম, মন্ত্রী

আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি

প্রবীণরা কি এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে মরবেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রবীণরা কি এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে মরবেন?

সম্প্রতি মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সি নূরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নূরজাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। লাশের ফুটেজেও নূরজাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, লাশ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখেছেন।

নূরজাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব (এই ঘটনার পর তাকে ওএসডি করা হয়েছে) এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। মা হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই অনেক যত্ন নিয়ে এই সন্তানদের বড় করেছিলেন। সেই সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। অথচ তাঁরা মায়ের প্রতি কোনো দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি, এটা বেদনাদায়ক। এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে মানুষ এত আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, নিজের মায়ের খোঁজও রাখতে চান না। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকজন প্রবীণের একাকী মৃত্যু আমাদের স্তম্ভিত করে। রাজধানীর পল্লবীর বাসা থেকে সেলিনা আফরোজা নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা যায়, তিনি কয়েক দিন আগে মারা যান। জানা গেছে, তার স্বামী ও দুই সন্তান কানাডা প্রবাসী। পারিবারিক কলহ থাকায় বাবার পৈতৃক ফ্ল্যাটে থাকতেন সেলিনা আফরোজা। ১২ বছর আগে তিনি কানাডা থেকে দেশে চলে আসেন এবং ওই বাসার একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। প্রবীণরা সমাজে কতটা অসহায়, এ ঘটনা দুটি নতুন করে আমাদের সামনে তুলে এনেছে। ঢাকায় এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি, দুঃখিত হয়েছি। কিন্তু গোটা দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বছর চারেক আগে মাদারীপুরে এক গোরস্থানে পড়ে ছিলেন এই প্রবীণ নারী। তাঁকে এমন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন তাঁর সন্তানরা। নারায়ণগঞ্জে অসুস্থ বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে যায় তাঁর সন্তানরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অসুস্থ বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় রেখে গেছেন ছেলে। সিরাজগঞ্জে অসুস্থ বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে যান সন্তানেরা। হাজার খবরের ভিড়ে এসব এখন গা-সওয়া খবর। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯, যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এখন দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দুই কোটির কিছু বেশি। এই প্রবীণদের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ কী করছে?

আমাদের সমাজে, প্রবীণদের জন্য কিছু নেই। নামমাত্র মুষ্টিমেয় কিছু প্রবীণের জন্য ভাতার ব্যবস্থা ছাড়া, আমাদের দেশে প্রবীণরা কিছু পান না। তাঁদের জন্য গণপরিবহনে আলাদা আসন নেই, হাসপাতালে আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, বিনোদনের ন্যূনতম সুযোগ নেই, পার্কে পৃথক জায়গা নেই। আছে শুধু অবহেলা, উপেক্ষা আর করুণা। প্রবীণরা যেন এই সমাজে পরিত্যক্ত আসবাবপত্রের মতো।

এ প্রবীণরা সবাই একটি সময় পর্যন্ত নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। আজ দেশের সেই প্রবীণরা সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে তাদের প্রদত্ত সেবার বিপরীতে সামাজিক সম্মান আর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রত্যাশা করেন। প্রবীণদের জীবনকে স্বস্তিদায়ক ও শান্তিপূর্ণ রাখা কালের দাবি। সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যয় না করেও সরকার সদিচ্ছার মাধ্যমে তাদের জন্য শান্তিপূর্ণ জীবনের অনেকখানি নিশ্চিত করতে পারে। দেশের প্রবীণরা আশা করেন না শুরুতেই সরকার তাদের জন্য উন্নত বিশ্বের মতো সুযোগসুবিধা দিতে উদ্যোগী হবে। তবে এটা আশা করেন, সরকারিভাবে প্রবীণদের যে সামান্য সুযোগসুবিধা বিদ্যমান আছে সে ব্যবস্থাটুকু সহজতর করা হবে।

প্রবীণদের সব থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে তাদের শরীর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন কলকবজা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিডনি-ফুসফুস-লিভার-হার্ট দুর্বল হয়ে যায়। দাঁত পড়ে যায়, চোখ ও কানের কার্যকারিতা কমতে থাকে। এতে করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি নানা শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। সরকার চাইলেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রবীণদের জন্য পৃথক চিকিৎসা সেবা চালু করতে পারে। এতে কোনো বাড়তি খরচ হবে না। এভাবে সরকার প্রাথমিকভাবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে কোষাগারের অর্থ ব্যয় না করেও প্রবীণদের জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। দেশের প্রবীণ জনগণের জন্য একটা নীতিমালা প্রণয়ন করে তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে আসতে পারে সরকার। হাসপাতাল, গণপরিবহন, সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, পাসপোর্ট, বহির্গমন, কর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি-টেলিফোনসহ অন্য বহু ক্ষেত্রে প্রবীণবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। প্রাথমিকভাবে এসব ক্ষেত্রে প্রবীণ ডেস্ক করা যেতে পারে যেখানে প্রবীণরা নিজেদের কাজে কিছুটা অগ্রাধিকার এবং নিরাপত্তা পাবেন। কিছু ক্ষেত্রে কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে, যে কোটার ভিত্তিতে তারা হাসপাতালে গেলে একটা সিট পাবেন, রেলের টিকিটটা নিশ্চিতভাবে পাবেন, বাসের টিকিট এবং সিট পাবেন, পাসপোর্ট জমা ও গ্রহণ করতে পারবেন, বিভিন্ন সেবার বিলটা সহজে জমা দিতে পারবেন, সেবা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লাগবে না। প্রাথমিকভাবে এসব সুবিধা প্রবীণদের প্রদান করার জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করা লাগবে না। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। পরবর্তী সময়ে সরকারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২০-৩০ শতাংশ রেয়াতের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইনের খসড়া করা হলেও আজও আলোর মুখ দেখেনি। বিএনপি সরকার এ আইনটি পর্যালোচনা করে নতুন করে তা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রবীণদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে মাত্র একটি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু বৃদ্ধাশ্রম মিলিয়ে খুব অল্প কিছু প্রবীণের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশে বৃদ্ধ বয়সে সেবা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীও নেই। যেটা ভবিষ্যতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই, এখনই এ বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন দেশের প্রবীণ বান্ধব নীতি ও কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করতে পারি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।  প্রবীণদের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো দেশ সুইজারল্যান্ড। ইউরোপের এই দেশটিতে প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও তাদের যথাযথ পরিবেশের ব্যাপারে সরকারি বিভিন্ন নীতিমালা ও কর্মসূচি রয়েছে। এখানে ৬০ বছরের একজন মানুষ আরও ২৫ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা রাখেন। প্রবীণদের সামাজিক সংযুক্তি এবং নাগরিক স্বাধীনতার দিক থেকে সুইজারল্যান্ডের স্থান শীর্ষে। দেশটিতে নাগরিকদের বয়স ৬৫ পেরোলেই তিনি সব সরকারি সেবা বিনামূল্যে পান। গণপরিহনে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। সবক্ষেত্রে প্রবীণদের দেওয়া হয় বিশেষ সুবিধা। সুইজারল্যান্ডে অসুস্থ প্রবীণদের জন্য বিশেষ কেয়ার গিভার দেওয়া হয় সরকারি খরচে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে তারা প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে সেবা প্রদান করেন। নরওয়েতেও প্রায় একই ধরনের সুবিধা রয়েছে। নরওয়েতে ওল্ড হোমগুলোতে আধুনিক সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যেন প্রবীণরা সেখানে আনন্দে সময় কাটাতে পারে।

জার্মানিতে প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। প্রবীণ ভাতার পাশাপাশি প্রবীণরা চাইলে অত্যাধুনিক ওল্ড হোমে থাকতে পারেন। সম্প্রতি জাপানে প্রবীণদের বিনোদনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কানাডাতে প্রবীণদের ভাতার পাশাপাশি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। প্রবীণদের একাকিত্ব দূর করতে কানাডাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশ প্রবীণদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এ ছাড়াও পার্কে প্রবীণদের জন্য রয়েছে আলাদা জায়গা। কিন্তু তারপরও উন্নত বিশ্বের প্রবীণদের মধ্যে একাকিত্ব বোধ বাড়ছে। জাপানে প্রবীণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। সন্তান এবং নিকটাত্মীয়দের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রবীণদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক অবসাদ।

সেদিক থেকে বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন এখনো অটুট। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব বন্ধন ধীরে ধীরে ঢিলে হয়ে যাচ্ছে। একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে প্রবীণেরা আরও বেশি একাকিত্বের যন্ত্রণা ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম না থাকায় এ দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক সমস্যায় প্রতিনিয়ত ভুগছেন।

পরিবার ও সমাজে তাঁরা অবহেলিত। পুষ্টিকর খাদ্য, চিকিৎসার সুবিধা, নাগরিক সুবিধা, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদাসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রতিনিয়ত তাঁরা মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন। আমাদের এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই জীবনধারণের মৌলিক সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত।

একটি প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে সরকার তার আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। প্রথম দরকার, সরকারের সদিচ্ছা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কিছু উদ্ভাবনী এবং অনবদ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রবীণদের নিয়েও কিছু করার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ বদলে দিতে পারে প্রবীণদের জীবন। দূর করতে পারে তাদের অসহায়ত্ব। হাসপাতালগুলোতে প্রবীণ কাউন্টার, গণপরিবহনে বিশেষ আসন, ব্যাংকে প্রবীণদের অগ্রাধিকার সেবা, পার্ক, রেস্তোরাঁয় প্রবীণদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা যায় সহজেই। এতে প্রবীণরা উপলব্ধি করবেন, রাষ্ট্র, সরকার এবং সমাজ তাদের কথা ভাবে, তাদের সম্মান দেয়। সরকার যদি প্রবীণদের সম্মান জানায় তাহলে প্রবীণরা সম্মানিত হবেন পরিবার ও সমাজে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঢাকাসহ ১৭ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকাসহ ১৭ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
ফাইল ছবি

ঢাকাসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

আজ রবিবার (৭ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ

প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে আজ সোমবার (৭ জুন)। এর মধ্যে ১১ জুন সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যা এমপিদের আলোচনা শেষে ৩০ জুন পাস হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি অধিবেশনে বাজেট পাস ছাড়াও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

এদিকে বাজেট অধিবেশন ঘিরে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ অধিবেশন আহ্বানের পর থেকে এই প্রস্তুতি শুরু হয়।

সূত্র জানায়, আজ বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হবে।

অধিবেশন সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গতকাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ সব ধরনের শোভাযাত্রা-বিক্ষোভ ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত অধিবেশনের কার্যসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে আজ অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রশ্নোত্তর তালিকাভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ‘জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১)’-এর আওতায় প্রাপ্ত নোটিসগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। এর বাইরে জ্বালানি বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গঠিত বিশেষ কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি অধিবেশনে বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন ও পাস ছাড়াও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা হবে। এ ছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনের কাজ শেষ করতে চান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাজেট আলোচনার আগেই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

চলতি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ থেকে ২৫ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। এই অধিবেশনে মোট বৈঠক দিবস ছিল ২৫টি। অধিবেশনে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন কার্যাবলি ছাড়াও প্রথম অধিবেশনে পাঁচটি স্থায়ী কমিটি এবং দুটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়।

বিপদ শুধু বাড়ছেই

অনলাইন ডেস্ক
বিপদ শুধু বাড়ছেই

বিপদ থেকে মুক্ত হতে পারছে না সরকার। পাহাড়সম বোঝা নিয়ে সরকার গঠন করার পর একটার পর একটা বিপদে পড়ছে। কোনো কোনো বিপদ  অন্তর্বর্তী সরকারের সৃষ্ট। কোনো কোনো বিপদ প্রাকৃতিক। আবার কোনো বিপদ বৈশ্বিক। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১১ দিনের মাথায় শুরু হয় আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। ১৫ মার্চ থেকে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৩ শিশু। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের দ্রব্যমূলের ওপর প্রভাব পড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ে নাভিশ্বাস মানুষের। হামের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের পরিস্থিতি। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ। ছিনতাইকারীর হাতে পথেঘাটে খুন হচ্ছে মানুষ। সামাজিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে অস্থিরতা দেশজুড়ে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সবকিছু মিলে বিপদ যেন বাড়ছেই। 

ভূরাজনীতির সংকট : বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট। একের পর এক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ধাক্কায় সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। একদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের বাজার, অন্যদিকে হাম ও ডেঙ্গুর মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। অর্থনীতির চাকা সচল করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণ। কোনোভাবেই এই ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না। নতুন ঋণের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকেও ঋণের সাড়া মিলছে না। সব মিলিয়ে আরও ঘনীভূত হচ্ছে সমস্যা।

দ্রব্যমূল্যের চরম কশাঘাত : আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। বাংলাদেশেও পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দামও। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল, ডাল, তেলসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্ধিত খরচের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ চরম বিপাকে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে না পেরে হিমশিম খাচ্ছে কোটি পরিবার।

স্বাস্থ্য খাতে জোড়া আঘাত- হাম ও ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি : অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দেশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়। ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মারা গেছে ৬১৩ শিশু। সরকারি হিসাবে ৬১৩ শিশুর মৃত্যুর কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় অনাগ্রহের বলি হতে হচ্ছে অবুঝ শিশুদের। হামের এই ভয়াবহতার মধ্যেই নতুন আতঙ্ক হিসেবে যোগ হয়েছে ডেঙ্গু। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুর এই জোড়া আক্রমণে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, আছে আগাম ঝুঁকিও। অন্তঃসত্ত্বা অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই শিশুরা যে রোগের থাবায় ভুগবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।

সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি : অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যসংকটের সমান্তরালে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে সামাজিক অস্থিরতা। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ঘটনা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে, যা সুশীল সমাজকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। শুধু শিশু ধর্ষণই নয়, নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন বিঘ্নিত। সড়ক-মহাসড়ক থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের আনাগোনা ও সহিংসতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামান্য মোবাইল বা টাকার জন্য ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা সত্ত্বেও অপরাধীদের এই দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।

সুখবর নেই অর্থনীতিতেও : আইএমএফের সঙ্গে চলমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির সর্বশেষ দুই কিস্তিু ছাড় করছে না। বরং নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংকট সামলাতে এডিবির কাছেও ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে সরকার। সেখানেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। একইভাবে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বাজেটে প্রাক্কলনের চেয়েও ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতি অগগ্রতির বড় বাধা খেলাপি ঋণ : দুর্বল ঋণ আদায় ও সুশাসনের অভাবের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাস পর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষে মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক পরিমাণ ঋণ পুনঃ তফসিলের ফলে গত বছরের শেষে খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৩১ শতাংশে নেমে এসেছিল। 

সংকটে ব্যবসায়ীরা : ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারসংকট, জ্বালানিসংকট, নিরাপত্তাহীনতা, মামলা-হামলাসহ নানান রকম সংকটে থাকা ব্যবসায়ীরা এখন অসহায়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে শিল্পমালিকরা অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা শিল্পকারখানা নিয়ে এখন চরমভাবে শঙ্কিত, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া নানা রকম সিদ্ধান্তের কারণে আমরা বর্তমানে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক লুট করা হয়েছে। ডলারসহ নানান সংকটে সবদিকে কেবলই শূন্যতা তৈরি করে রেখে গেছে শেখ হাসিনা সরকার। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই কমবেশি এই সমস্যার প্রভাব অনুভব করছে। ফলে ব্যবসা পরিচালনা, কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং লাভজনক অবস্থায় টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

রাজধানী ও বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন বিনিয়োগে অনীহা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অর্থসংকটে বেশি ভুগছেন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি করলে তাঁরা সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

পুশইনের চেষ্টা : দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত কয়েক দিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) অপচেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে এ ধরনের সম্ভাব্য ‘পুশইন’ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারিসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশইন করার প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন