ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পবিত্র হজ পালন শেষে মোট ৬২টি ফিরতি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ২৫ হাজার ৩৭৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এছাড়া এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৪৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৪ জন এবং মদিনায় ১১ জন ইন্তেকাল করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পর্যন্ত এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হজ-পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৫০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২২ হাজার ৮৭৭ জন রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৮৯৬ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ৯ হাজার ৭৩০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে দেশে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরব ছেড়েছেন আরো ৫১ জন হজযাত্রী।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ মে।
বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা শুরু হয় ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট যায় ২১ মে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত হাজিদের চিকিৎসা ও সেবাদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ হজ মিশনের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ৫৫ হাজার ২৮৬টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৫ হাজার ১০০টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
হজ বুলেটিনে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২৫১ জন হজযাত্রী। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জন হাজি ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন, বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীদের দেশে ফেরার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দিনের বেলায় দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত করে ময়লা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বুধবার (৩ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা থেকে এক জরুরি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঢাকা মহানগরী নিশ্চিত করার জন্য মহানগরীর যাবতীয় ময়লা ও বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ করা দরকার। ঢাকা মহানগরীতে দিনের বেলায় সাধারণত জনসাধারণের ব্যাপক সমাগম ঘটে। তাই অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দিনের বেলায় দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগপূর্বক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এমতাবস্থায় ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকল্পে ময়লা ও বর্জ্য অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে দিনের বেলায় দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এ নির্দেশনার অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারের যুগ্মসচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ), স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর একান্ত সচিব, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল আগস্টে ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরমধ্যে স্থানীয় সরকার আইন-বিধি সংস্কার করা হবে। সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুতে হতে পারে স্থানীয় সরকারের অন্তত একটি নির্বাচন।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বৈঠক হয়। জুন-জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অগাস্ট থেকে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করা এবং যাতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে ভোট নেওয়া সম্ভব হয়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
কয়েক ধাপে হলেও কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করলেও এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন এখনো কোনো স্থানীয় সরকারের ভোট করেনি। এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচন করবে এ কমিশন।
সংস্কার কাজ গুছিয়ে কোন নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে বসবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই যথাসময়ে ভোট শুরু হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্বাচন করতে হলে অগাস্টে আমাদের তফসিল করতে হবে। সাধারণত এক থেকে দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা দিতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতিমূলক কাজের মধ্যে আইন-বিধি সংস্কার, নির্বাচনি সরঞ্জামের মজুদ, চাহিদাসহ আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো মাস তিনেকের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকারের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরে সিটি নির্বাচন দিয়ে শুরু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ নিয়ে কি করা যায় আলোচনা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘কোন নির্বাচন আগে হবে তা নির্ভর করছে (সরকারের সঙ্গে) আলোচনা সাপেক্ষে। অক্টোবর-মার্চ পর্যন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়; এরমধ্যে বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় সরকারের সব স্তরে করতে হবে; বর্ষার সময়টা দেখে তফসিল করতে হবে আমাদের।’