• ই-পেপার

সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে ফিরলেন আরো ৭৮ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে ফিরলেন আরো ৭৮ বাংলাদেশি

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরো ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে গত চার দিনে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

আজ বুধবার (১৭ জুন) বুধবার রাতে থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩৩৯) একটা ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।

আগের তিন দিনের মতো গতকাল রাতে ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সঙ্গে মিলে জরুরি সহায়তা ও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা করেছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম নিয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। এটি মানবপাচারের ভয়াবহ এক ধরন। ভালো চাকরির কথা বলে বিদেশে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্কাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

তিনি জানান, কম্বোডিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তিন দিন মিলে ২২১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার। ফেরত আসা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মামলা করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুরো ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন কর্মী চাকরি নিয়ে কম্বোডিয়া যান। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার কর্মী চাকরি না পেয়ে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সবাইকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তাকে দালাল বলেছিলেন কম্বোডিয়াতে সরাসরি কোম্পানিতে চাকরি হবে। সাড়ে পাচ লাখ টাকা নিয়ে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে কম্বোডিয়া পাঠায়। কিন্তু কম্বোডিয়া বিমানবন্দর থেকে তাকে এক মাসের ভিজিট ভিসায় প্রবেশের অনুমতি দেন। এরপর আর ভিসা দেয়নি দালালরা। তিনি আরো জানান, সেখানে কোনো কোম্পানিই খুঁজে পায়নি। সেখানে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা টাকার বিনিময়ে তাকে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেন।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের শারীরিক নির্যাতন করে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজ করতে না চাইলে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনসহ বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সম্প্রতি স্ক্যাম সেন্টার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করলে চাইনিজরা পালিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।

এর আগে গত ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ আর, ১৭ জুন ৭৮ ভুক্তভোগী শূন্য হাতে দেশে ফেরত আসেন। এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মায়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে জোরপূর্বক মায়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।

ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার, কলসেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে (ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ইত্যাদি) প্রচার চলে। এরপর তাদের সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক জিম্মি করে স্ক্যামের কাজে নিয়োজিত করা হয়। কাজেই থাইল্যান্ড, মায়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে‌‌।

সন্ধ্যার মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। 

বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন খাতে ভাতা পুনর্নির্ধারণ, পরিপত্র জারি

অনলাইন ডেস্ক
বিভিন্ন খাতে ভাতা পুনর্নির্ধারণ, পরিপত্র জারি
ফাইল ছবি

অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্ম) আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার বিভিন্ন খাতের সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি শাখা-২ থেকে গতকাল মঙ্গলবার জারি করা পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

এতে বলা হয়, সরকার পরিচালন বাজেটের আওতায় অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্ম) আয়োজিত সেমিনার বা কর্মশালার জন্য সম্মানির নতুন হার নির্ধারণ করেছে। জারির তারিখ থেকেই এ পরিপত্র কার্যকর হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সেমিনার বা কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকের সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
সেমিনার বা কর্মশালার সঞ্চালক পাবেন ৪ হাজার টাকা। একই হারে অর্থাৎ জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ তিন আলোচককে সম্মানি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য সম্মানির হার জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাতে সর্বোচ্চ দুজনকে সম্মানি দেওয়া যাবে। 

অন্যদিকে সেমিনার বা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে ১ হাজার টাকা করে সম্মানি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

পরিপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, অনলাইনে আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার খাতভিত্তিক সম্মানির হার সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট জারি করা ২২৯ নম্বর স্মারকটি বাতিল করা হয়েছে।

ফলে নতুন পরিপত্র অনুযায়ী ভবিষ্যতে সকল অনলাইন সেমিনার ও কর্মশালার সম্মানি দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনভিত্তিক সরকারি সভা, সেমিনার ও কর্মশালার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সম্মানির হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না প্রবাসীরা

অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না প্রবাসীরা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধিতে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।

সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ইসি বলেছে, প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো, তা সংগ্রহ ও যাচাই করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হবে। টিবিএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

কমিশন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য আচরণবিধির খসড়া তৈরি করেছে। গত ১০ জুন এসব খসড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে ৩০ জুনের মধ্যে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে।

রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে এমন কোনো বিধান নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে ভোটের সুযোগ না রাখা যথাযথ হবে না। তারা বাংলাদেশের নাগরিক ও ভোটার। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সমাধান বের করা উচিত। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জের কারণে প্রবাসীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আইনে স্পষ্ট বিধান না থাকলেও বিষয়টি নীতিগত। প্রবাসীদের সব নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন বিধিমালা বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালু করতে পারে। সরকার চাইলে আইনও সংশোধন করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।’

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য নতুন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। ইসির এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদেরকে বাইরে রাখা বৈষম্যমূলক।’