• ই-পেপার

আইভিএফ বিভ্রাট: জৈবিকভাবে নিজের নয় এমন শিশুকে বড় করবেন মার্কিন দম্পতি

লক্ষ্যমাত্রার গতি ও উচ্চতায় সফলভাবে উড়ল নাসার এক্স-৫৯

অনলাইন ডেস্ক
লক্ষ্যমাত্রার গতি ও উচ্চতায় সফলভাবে উড়ল নাসার এক্স-৫৯
সংগৃহীত ছবি

শব্দের গতির চেয়েও দ্রুতগতিতে উড়ে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-এর পরীক্ষামূলক বিমান এক্স-৫৯। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১২ জুন বিমানটি ম্যাক ১.৪ গতিতে এবং প্রায় ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে।

নাসার মতে, এই উড্ডয়ন তাদের কুয়েস্ট কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

এর কয়েক দিন আগেই এক্স-৫৯ প্রথমবারের মতো শব্দের গতিকে অতিক্রম করে ম্যাক ১.১ গতিতে উড়েছিল। সর্বশেষ পরীক্ষায় বিমানটির গতি আরো বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকৌশলীরা বিমানটির কর্মক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরো বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছেন।

নাসার কুয়েস্ট কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শব্দের গতির চেয়ে দ্রুতগতির বিমান থেকে তৈরি হওয়া প্রচলিত সনিক বুমের শব্দ কমিয়ে আনা। সাধারণত কোনো বিমান শব্দের গতিকে অতিক্রম করলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের মতো একটি শব্দ তৈরি হয়, যাকে সনিক বুম বলা হয়। এই শব্দের কারণে জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে অতিদ্রুতগতির বিমান চলাচলে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই এক্স-৫৯ বিমানটির নকশা বিশেষভাবে করা হয়েছে। বিমানটির দীর্ঘ ও সরু কাঠামোসহ বেশ কিছু নতুন নকশাগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নাসার দাবি, এসব পরিবর্তনের ফলে প্রচলিত সনিক বুমের পরিবর্তে অনেক কম তীব্রতার একটি শব্দ তৈরি হবে। সংস্থাটি এই শব্দকে 'সনিক থাম্প'নামে উল্লেখ করছে।

বর্তমান পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলোতে এক্স-৫৯ এর সঙ্গে নাসার একটি এফ-১৫ গবেষণা বিমানও অংশ নিচ্ছে। এফ-১৫ বিমান থেকে সাধারণ ধরনের সনিক বুম তৈরি হয়। ফলে পরীক্ষার সময় এক্স-৫৯ থেকে উৎপন্ন যেকোনো শব্দ সেই বড় শব্দের আড়ালে চলে যায়। এতে গবেষকেরা শব্দ নিয়ে চিন্তা না করে মূলত বিমানটির গতি, উচ্চতা এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

নাসা জানিয়েছে, ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোতে এফ-১৫ বিমানে স্থাপন করা বিশেষ শক-পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে এক্স-৫৯ থেকে তৈরি হওয়া শক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য এবং শব্দের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসএক্স-৫৯ এর উড্ডয়ন পরীক্ষা চলবে। এরপর বিমানটি নতুন একটি ধাপে প্রবেশ করবে, যাকে শব্দ-যাচাই বা অ্যাকোস্টিক ভ্যালিডেশন পর্যায় বলা হয়।

এই পর্যায়ে গবেষকেরা বাস্তবে তৈরি হওয়া শব্দ পরিমাপ করবেন এবং বিমানটির নকশা তৈরির সময় যে পূর্বাভাস ও হিসাব করা হয়েছিল, তার সঙ্গে সেই ফলাফল মিলিয়ে দেখবেন। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, ভবিষ্যতে কম শব্দে অতিদ্রুতগতির বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের প্রযুক্তি কতটা বাস্তবসম্মত হতে পারে।


 


 

মার্কিন-ইরান চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিলের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন-ইরান চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিলের পরিকল্পনা
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বড় ধরনের বিনিয়োগ তহবিল পাবে ইরান। এ চুক্তির অধীনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছে, এই তহবিল উভয় পক্ষকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু ওয়াশিংটন ও তেহরান শুক্রবার চুক্তিটি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই পরিকল্পনাটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এই তহবিলের কথা আগে জানানো হলেও রয়টার্স প্রথমবারের মতো প্রকাশ করছে, অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি খাতের তহবিল দ্বারা গঠিত হবে।

মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা রবিবার বলেছেন, তারা তাদের যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি কাঠামোগত চুক্তি করতে সম্মত হয়েছেন। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। এই কাঠামোর আওতায় ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করা এবং বিশ্বের তেল ও গ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।

বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল

মার্কিন-ইরান কাঠামো চুক্তির অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলটি কোনো ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি নয়। এটি হবে সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন কম্পানি এতে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে।

তহবিলের অর্থ জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ করা হবে। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা, শোধনাগার, বিমানবন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজেও অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও গ্যাস মজুদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে রয়েছে। নতুন তহবিলটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আলোচনা থেকে আলাদা একটি উদ্যোগ। তবে একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই তহবিল গঠন বা কার্যকর করা হবে না। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আগামী ৬০ দিনের আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করবে।

সূত্রটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল গঠন করা হবে। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে তহবিলের প্রশাসকরা ইরান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও পরিধি নির্ধারণ করবেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণ এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নেয়, তাহলে দেশটি এই পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পেতে পারে।

সূত্রের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তহবিলটি কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

লেবাননে ইসরায়েলের উচ্ছেদ অভিযান ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে ইসরায়েলের উচ্ছেদ অভিযান ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
ছবি : রয়টার্স

লেবাননে বেসামরিক মানুষকে ব্যাপকভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, এই ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে জোর করে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিজ বাড়ি ও এলাকায় ফিরে যাওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি বেআইনি স্থানান্তরের শামিল এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ ধরনের উচ্ছেদ নির্দেশ জারির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলি বলেন, পুরো সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কোনো সমাধান হতে পারে না। তার মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর উচিত অবিলম্বে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়া।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক দিন পরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকা বেসামরিক মানুষের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

সংস্থাটি আরো জানায়, ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর এই নিষিদ্ধ এলাকার পরিমাণ আরো বাড়ানো হয়। পরে লেবাননের প্রায় ছয় শতাংশ ভূখণ্ডকে ‘ফরোয়ার্ড ডিফেন্স’ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এমন কয়েকটি গ্রামে মানুষকে ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন।

এদিকে লেবাননের কর্মকর্তাদের দাবি, দুই মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরো তীব্র হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৫০ জনেরও বেশি। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা সব পক্ষের দায়িত্ব। লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

পিরিয়ড ট্যাক্স প্রত্যাহার, পাকিস্তানে সামাজিক ট্যাবু ভাঙার লড়াই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পিরিয়ড ট্যাক্স প্রত্যাহার, পাকিস্তানে সামাজিক ট্যাবু ভাঙার লড়াই
সংগৃহীত ছবি

রক্ষণশীল পাকিস্তানে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পিরিয়ড যেন নিষিদ্ধ বিষয়। এ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনাটাই লজ্জার বিষয়, যেন অপরাধ। অধিকারকর্মীরা সামাজিক এই ট্যাবু ভাঙার চেষ্টা করছেন বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু সামাজিক ট্যাবুর বিশাল এই অচলায়তন ভাঙা এক দিনের কাজ নয়। দিনের পর দিন আঘাত হানলে পাহাড়েরও ঘুম ভাঙে।

দুই তরুণ আইনজীবীর আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে সরকারের টনক কিছুটা হলেও নড়েছে। ‘পিরিয়ড ট্যাক্স’ নামে পরিচিত স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

নারীদের পিরিয়ড একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে সঠিক নিয়ম মানলে ও স্বাস্থ্যকর স্যানিটারি পণ্য ব্যবহার করলে নারীরা পিরিয়ডকালীনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র বা সংসারে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। 

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাত্র ১২ শতাংশ নারী বাণিজ্যিক স্যানিটারি পণ্য ব্যবহার করেন। বাকি অধিকাংশ নারী কাপড়ের টুকরা বা অস্বাস্থ্যকর ঘরোয়া সামগ্রী ব্যবহার করেন। যা তাদের জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং অনেক সময় নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। স্যানিটারি পণ্য ব্যবহারের এই অতিনিম্নহারের মূল কারণ এর অতি উচ্চমূল্য। এত দিন স্যানিটারি পণ্যকে রাখা হয়েছিল বিলাস পণ্যের তালিকায়।

দুই তরুণ আইনজীবীর সরকারের বিরুদ্ধে করা এক মামলার সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক পরিসরে আলোচনা শুরু হয়। গত বছরের অক্টোবরে ২৯ বছর বয়সী আহসান জাহাঙ্গীর খান এবং ২৫ বছর বয়সী মাহনুর ওমর নামের দুই আইনজীবী তথাকথিত ‘পিরিয়ড ট্যাক্স’ প্রত্যাহার করতে এবং স্যানিটারি পণ্যকে বিলাসপণ্যের বদলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। 

মামলার আবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে স্থানীয়ভাবে তৈরি স্যানিটারি পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর এবং আমদানি করা স্যানিটারি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে। ইউনিসেফের মতে, অন্যান্য স্থানীয় করের সঙ্গে যোগ হয়ে পাকিস্তানের নারীদের পিরিয়ড পণ্যের ওপর মোট ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়, যা সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়। দুই আইনজীবীর লড়াইটা ছিল এখানেই। তাদের দাবি, সরকার যেন স্যানিটারি পণ্যের দাম কমিয়ে তা নারীদের জন্য সহজলভ্য করেন।

তাদের মতে, এই কর আরোপের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবহেলা করেছে, যা জনজীবনে তাদের পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। এটি সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন, যা লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।

দুই আইনজীবীর মামলার পর আদালত সরকারের কাছে এর জবাব চায়। আদালতের কাছে দেওয়া জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্যানিটারি পণ্যের ওপর করহার অতিরিক্ত বা বৈষম্যমূলক নয়। কারণ এই কর কাঠামো রাষ্ট্রের রাজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা দিয়ে নারীদের সুবিধাসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজে অর্থায়ন করা হয়।
বছরের শুরুতে আদালতের কাছে দেওয়া জবাবে স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত করকে অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক মনে না করলেও দৃশ্যত সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনায় স্যানিটারি পণ্যের ওপর থেকে ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।

গত শুক্রবার পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, এ ধরনের পণ্যগুলো নারীদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য অপরিহার্য।
বিক্রয় কর প্রত্যাহারের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও, মামলার আবেদনকারী দুই আইনজীবী স্যানিটারি প্যাড তৈরির কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্কসহ স্যানিটারি পণ্যের ওপর থাকা করব্যবস্থাটি পুরোপুরি বিলোপের দাবি জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর খান বলেন, এই মামলাটি স্যানিটারি পণ্যের ওপর থাকা করব্যবস্থার অযৌক্তিকতাকে সবার সামনে তুলে ধরেছে। তিনি আরো বলেন, ‘যদি এই সাংবিধানিক পিটিশনটি না করা হতো, তবে সরকার হয়তো কখনোই অনুধাবন করতে পারত না যে বিক্রয় কর নেওয়াটাও ভুল ছিল।’

অধিকার কর্মীরা বলছেন, ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহার করলেও তা হয়তো সাধারণ নারীদের নাগালে আসবে না। পাকিস্তানের প্রায় ৪৫ ভাগ মানুষ বৈশ্বিক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, যাদের দৈনিক আয় ১ হাজার ১৭৫ পাকিস্তানি রুপি। এক প্যাকেট স্যানিটারি প্যাড কিনতে এক দিনের আয়ের তিন ভাগের এক ভাগ খরচ হয়ে যাবে।

তারপরও দুই আইনজীবীর মামলা, সরকারের বোধোদয়ের সূত্রে নারীদের পিরিয়ড ও পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে জনপরিসরে যে আলোচনা হচ্ছে, তার গুরুত্ব অনেক। পিরিয়ড নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে, কুসংস্কার দূর করতে এবং এই লড়াইকে এগিয়ে নিতে এই আলোচনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকার স্যানিটারি পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহার করলেও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। সরকারের জবাবের পর মামলাটি এখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের জন্য প্রস্তুত। ওমর ও খানের মামলাটি সফল হলে, আদালত স্যানিটারি পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কর—কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্কসহ—অথবা আমদানি করা স্যানিটারি পণ্যের ওপর থেকে সব কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে পারে।

আবেদনকারী দুই আইনজীবী বলছেন, চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।