• ই-পেপার

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেন ১৮৪ অফিসার ক্যাডেট

অনলাইন ডেস্ক
সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেন ১৮৪ অফিসার ক্যাডেট

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান নবীন অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেন, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হলো। তিনি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কমিশনপ্রাপ্ত ১৮৪ জন অফিসারের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে সোর্ড অব অনার এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর শ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স অর্জন করেন।

পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

এদিকে কুচকাওয়াজ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে ১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি নতুন এ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এছাড়াও বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল ও এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ (VfGB) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. হাসানাত এম. হুসাইন। এ সময় উভয়ের সঙ্গে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’-এর প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের কল্যাণে আরো কার্যকর নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি-দাওয়া অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা চান।

একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং দেশে বিনিয়োগ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরো সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন।

স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’

জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এর মাধ্যমে সংসদকক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের অবসান ঘটল।

স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য আপত্তি ও মতামত তুলে ধরেছিলেন। সে কারণে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ, সংসদকক্ষ ত্যাগ কিংবা নিজ আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ থাকলেও কিভাবে তা করতে হবে, সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। অতীতে বিধিতে থাকা ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেদিন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদকক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানান। তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

বাজেট আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা

টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাসমূহ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, গ্রিড আধুনিকীকরণ, শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, গৃহস্থালি ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রণোদনার সুযোগ বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা : টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ড্রিম রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

সভায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু জলবায়ু বা পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য যে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

এ ছাড়া একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা বৃদ্ধি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধরা’র সদস্যসচিব শরীফ জামিল বলেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এম. এস. সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেলকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশগত সুবিধাগুলোর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বাধা দূরীকরণ এবং যুবসমাজ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরো বক্তব্য দেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, বুয়েটের অধ্যাপক (অব.) ড. ইজাজ হোসেন, স্রেডা’র পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জ্বালানি ও পরিবেশ) তানজিনা দিলশাদ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুক প্রমুখ।