বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সেই দেশে অবস্থানরত ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে (প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়) সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রবাসে যারা ব্যবসা, চাকরি বা অন্য খাতে সফল, তাদের খুঁজে বের করে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।’
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর রেনেসাঁস ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার ডায়ালগ : এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক এই আলোচনার যৌথ আয়োজন করে আরভিং এডুকেশন এবং প্রবাসী সেবা লিমিটেড। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার’ (বিজেকেসি)।
জাপানে কর্মী প্রেরণে নেপাল, ফিলিপাইন বা চীনের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা শেষ সময়ে শুরু করেছি। তবে নেপালের কর্মী প্রেরণের সফলতাটি আমাদের জন্য একটি মডেল হতে পারে। এ বিষয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও চিঠি দিয়ে ধারণা দিয়েছেন।’
বিগত সময়ের সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘পূর্বে বিভিন্ন সময় যে সরকার আসে, তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় যারা থাকে, তাদেরই দূতাবাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। যার ফলে ওই দেশে থাকা বিভিন্ন খাতের সফল মানুষদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কম থাকে। আমরা এখন চাকরি ও ব্যবসায় সফল প্রবাসীদের খুঁজে বের করে এসব কাজে যুক্ত করার চিন্তা করছি।’
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ১০ থেকে ১৩ লাখ লোক বিদেশে যান, যার ৮০ শতাংশেরই গন্তব্য মিডল ইস্ট। এই একমুখী নির্ভরতা আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি। যেকোনো একটি দেশের নীতি পরিবর্তন হলেই লাখ লাখ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকিতে পড়বে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধাও বেশিদিন থাকবে না। জাপানসহ ইউরোপের দেশগুলো এখন দক্ষ জনশক্তি খুঁজছে, এখনই প্রস্তুতি না নিলে এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।’
গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ভাষা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি কাঠামোগত শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান করিডর গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
বক্তারা বলেন, ‘জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভাষা দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সনদায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজেকেসির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন তাজরিয়া রিশতা রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজেকেসির নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতিমা।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক তার প্রবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশের ৪ কোটি ৬০ লাখ তরুণ এবং প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রায় ৬ লাখ ৪৭ হাজার গ্র্যাজুয়েট দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। জাপানে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বিজেকেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার (বিজেকেসি) দেশের প্রথম সমন্বিত জাপান-অভিমুখী ক্যারিয়ার ইকোসিস্টেম হিসেবে যাত্রা শুরু করল। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ এবং ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত সব ধরনের সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে।




