• ই-পেপার

দক্ষ জনশক্তি গড়তে দেশে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঋণের ফাঁদে আটকা মানুষ

চিকিৎসা শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে নাভিশ্বাস সঞ্চয় নেই, আয় সীমিত, ব্যয় আকাশচুম্বী কেউ অসুস্থ হলে বিক্রি করতে হচ্ছে জমি আয়ব্যয়ের টানাপোড়েনে নিঃস্ব মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত

অনলাইন ডেস্ক
ঋণের ফাঁদে আটকা মানুষ
সংগৃহীত ছবি

জীবনযাত্রার ‘বিরতিহীন’ ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত আয় এবং সঞ্চয়ের অভাবে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশ ক্রমেই ঋণের ফাঁদে আটকে পড়ছে। পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে, সন্তানদের বিয়ে, শিক্ষা কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত খরচ মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করছেন, কেউবা সুদে টাকা ধার নিচ্ছেন কিংবা এনজিও ও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা মেটাতেই অনেক পরিবার ঋণে জর্জরিত হয়ে পথে বসে যাচ্ছে। অনেকে ঋণের বোঝা সইতে না পেরে আত্মগ্লানি থেকে আত্মহত্যার মতো সর্বনাশী পথও বেছে নিচ্ছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও যেসব পরিবার সামান্য হলেও সঞ্চয় করতে পারত, এখন তাদের বেশির ভাগই মাসিক আয় দিয়ে নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও বাড়েনি আয়। সীমিত আয় ও সীমাহীন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম সাধারণ মানুষ। সঞ্চয় তো দূরের কথা, এখন পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতেই গলদঘর্ম।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘দুই বছর আগে স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ধার করতে হয়। পরে সেই ঋণ শোধ করতে জমি বিক্রি করেছি। এখন আবার ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে।’ একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রুবিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘বেতন সামান্য বাড়লেও বাজারের খরচ আরো অনেক বেশি বেড়েছে। কোনো জরুরি খরচ এলেই আত্মীয়স্বজন বা এনজিওর কাছ থেকে ধার নিতে হয়। ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবার নতুন ঋণ নিতে হচ্ছে।’

ঢাকায় ধোলাইপাড়ের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলতাফ হোসেন জানান, ‘বেতন যা পাই, তা দিয়ে মাসের ২০ তারিখের পর আর চলা যায় না। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন আর কাঁচাবাজারের খরচ দিতেই পকেট খালি। সঞ্চয় করব কী, প্রতি মাসেই পরিচিতদের কাছ থেকে কিছু না কিছু ধার করতে হচ্ছে।’ অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ নানা কারণে ঋণের জালে আবদ্ধ হচ্ছে। অতিরিক্ত খরচের চাপে তাদের আপৎকালীন সঞ্চয় বা ডিপিএস ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অনেক পরিবারকে নীরবে ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসা, সন্তানের উচ্চশিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ-এই তিনটি খাতেই চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রয়োজন, পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তৃতিও জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন আর্থিক পরিকল্পনা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বিপদের মাত্রা রূপ নিচ্ছে চরম ট্র্যাজেডিতে। দেশের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারি হাসপাতালে সিট না পাওয়া বা ওষুধের বাড়তি দামের কারণে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারগুলো।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতি বছর শুধু চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। চড়া সুদে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আর শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আর্তনাদ যেন দেখারও কেউ নেই! কান্নাজড়িত কণ্ঠে পোশাক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রীর জরায়ু অপারেশনের জন্য ১ লাখ টাকার দরকার ছিল। কোনো সঞ্চয় না থাকায় গ্রামের সুদের কারবারির কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়েছে। এখন প্রতি মাসে যে সুদ দিতে হচ্ছে, তা আমার বেতনের অর্ধেক।’

বাঙালি সমাজে বিয়ে বা যেকোনো জরুরি সামাজিক অনুষ্ঠান এখন আনন্দের চেয়ে সীমাহীন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারে কারও বিয়ে মানেই পরিবারের কর্তার কাঁধে ‘ঋণের বোঝা’। লোকলজ্জা আর সামাজিক মর্যাদা রক্ষার তাগিদে সাধ্যের বাইরে গিয়ে খরচ করার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এই বাড়তি খরচ সামলাতে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের শেষ সম্বল চাষের জমি বা বসতভিটা বিক্রি করতে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে কন্যাসন্তানের বিয়ে কিংবা জরুরি কোনো পারিবারিক সংকট কাটাতে পানির দামে জমি বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার পর এসব পরিবারের উপার্জনের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেকেই রাতারাতি ‘পথের ফকির’ হয়ে যাচ্ছেন।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা এবং মানসিক অবসাদ আরো বাড়বে। ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গার চিত্র একই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (৯ জুন)

অনলাইন ডেস্ক
একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (৯ জুন)
ভ্যাটের জালে সব ব্যবসা

ভ্যাটের জালে সব ব্যবসা

নতুন বাজেট প্রায় চূড়ান্ত। বিএনপি জোট সরকার বিশাল বাজেট করছে, যেখানে রাজস্ব আয়েরও বিরাট লক্ষ্যমাত্রা। তা অর্জনে...

 

দৈনিক আয় ১১ লাখ টাকা ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ

দৈনিক আয় ১১ লাখ টাকা ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল চালুর পর থেকে গত ৯৪৫ দিনে (২০২৩ সালের ২৯...

 

আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরো ‘বুস্ট আপ’ করা হবে

আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরো ‘বুস্ট আপ’ করা হবে

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করতে তাঁদের আরো বুস্ট আপ করা হবে বলে জানিয়েছেন...

 

ওষুধের বিজ্ঞাপনে কড়াকড়িতে রুদ্ধ হচ্ছে ভোক্তা সচেতনতা

ওষুধের বিজ্ঞাপনে কড়াকড়িতে রুদ্ধ হচ্ছে ভোক্তা সচেতনতা

ওষুধ কেবল মুনাফা অর্জনের সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি অত্যাবশ্যকীয়...

 

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য,...

 

আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জামায়াতকে মেম্বার করতে আলোচনা

আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জামায়াতকে মেম্বার করতে আলোচনা

দি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার হিসেবে...

 

ওষুধের বিজ্ঞাপনের ছয় হাজার কোটি টাকা ডাক্তারের পকেটে

ওষুধের বিজ্ঞাপনের ছয় হাজার কোটি টাকা ডাক্তারের পকেটে

টেলিভিশনের পর্দায় ওষুধের বিজ্ঞাপন চলছে। উপকারিতার আকর্ষণীয় বর্ণনার সঙ্গে দ্রুতগতিতে উচ্চারিত হচ্ছে সম্ভাব্য...

 

ইশতেহার মেনে মানবসম্পদে জোর

ইশতেহার মেনে মানবসম্পদে জোর

সবার আগে বাংলাদেশ দর্শনকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট...

 

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন

রাজধানীতে ছুরি মেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পাবনা শহরে চরমপন্থী সদস্যসহ দুজনকে খুন করা...

 

পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি

পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি

সীমান্তে পুশ ইন বন্ধে এ পর্যন্ত ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা...

 

প্রকাশ্যে গুলি-ছিনতাই চলছেই

প্রকাশ্যে গুলি-ছিনতাই চলছেই

গুলি করে আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নিয়েছে ওরা। হাতে-পায়ে তিনটি গুলি লেগেছে। এখন চোখ বুজলেই মৃত্যুকে...

 

নেইমারের ছেলের আক্রমণভাগে মেসি-রোনালদো-এমবাপ্পেও!

নেইমারের ছেলের আক্রমণভাগে মেসি-রোনালদো-এমবাপ্পেও!

নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে আক্ষেপটা তাঁর ভক্ত-সমর্থকদেরই বেশি। সর্বকালের অন্যতম সেরা হয়ে ওঠার আভাস দিয়ে ক্যারিয়ার...

 

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং এক শিশুর হামে মৃত্যুর...

 

পশ্চিমবঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন যে মমতার দক্ষিণ হস্ত, সেই মমতাজির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গের সর্বেসর্বা।...

 

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং এক শিশুর হামে মৃত্যুর...

 

স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ

স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ

পৃথিবীর প্রথম সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সুখময় দাম্পত্য জীবন সবার কাম্য। নিম্নে সুখয়ম দাম্পত্য জীবন গড়তে...

 

থাইল্যান্ডে ব্যতিক্রমী ইসলামী জাদুঘর

থাইল্যান্ডে ব্যতিক্রমী ইসলামী জাদুঘর

মিউজিয়াম অব ইসলামিক কালচারাল হেরিটেজ অ্যান্ড আল-কোরআন লার্নিং সেন্টার থাইল্যান্ডের একটি গৌরবোজ্জ্বল...

 

প্রাপ্ত রিজিক ও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না থাকার ক্ষতি

প্রাপ্ত রিজিক ও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না থাকার ক্ষতি

তাকদির অনুযায়ী যখন কোনো কিছু সংঘটিত হয়, তখন তাকে বলা হয় তাকদিরের ফয়সালা। তাকদিরের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি...

 

যেকোনো আন্দোলনে নজরুলকে বেছে নিচ্ছে তরুণরা

যেকোনো আন্দোলনে নজরুলকে বেছে নিচ্ছে তরুণরা

প্রচার-প্রচারণায় আপনাকে সেভাবে পাওয়া যায় না। কেন? ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত জীবনকে আমি কখনো এক করতে চাইনি।...

 

মরিশাসে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

অনলাইন ডেস্ক
মরিশাসে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার
সংগৃহীত ছবি

মরিশাসে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশ দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলও) সাইডলাইনে আজ বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। মরিশাসে জনবল রপ্তানির বিষয়ে দুই দেশ দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশ থেকে মরিশাসে জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে মরিশাস সরকারকে অনুরোধ করেন। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, টেক্সটাইল শিল্প ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স এবং অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তি মরিশাসে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত। বৈঠক শেষে তিনি মরিশাসের শ্রম মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে মরিশাস সরকার অত্যন্ত আগ্রহী, বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। পুনরায় শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে মরিশাস সরকারের বিনিয়োগের গভীর আগ্রহের কথাও তিনি বৈঠকে প্রকাশ করেন।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব আমিনুল ইসলাম।

বাংলাদেশের জন্য ফের উন্মুক্ত হচ্ছে মরিশাসের শ্রমবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের জন্য ফের উন্মুক্ত হচ্ছে মরিশাসের শ্রমবাজার
সোমবার সকালে জেনেভায় মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মরিশাসের বন্ধ থাকা শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য ফের উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশটির শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিমের সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। শ্রমিক নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতেও মরিশাস বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় জেনেভাস্থ জাতিসংঘের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে অংশ নিতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থান করছেন। সেখানে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শিগগির স্বারক স্বাক্ষরের বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারি সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে মরিশাসের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পের জন্য দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।’ এ সময় দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া বাংলাদেশে শিগগির পাঠানোর আশ্বাস দেন দেশটির শ্রমমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে মরিশাস সরকারের আগ্রহের কথা জানান।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে মরিশাসে জনশক্তি প্রেরণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষর করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মরিশাস সরকারকে অনুরোধ করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘টেক্সটাইল শিল্প ছাড়াও অন্যান্য পেশা যেমন- চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স, অ্যাকাউন্টেন্ট ইত্যাদি দক্ষ জনশক্তি প্রেরণে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহের কথাও জানিয়েছে।’ এ সময় তিনি মরিশাসের শ্রম মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকাকে শুভেচ্ছা জানান আরিফুল হক চৌধুরী।

দক্ষ জনশক্তি গড়তে দেশে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর | কালের কণ্ঠ