• ই-পেপার

দায়িত্ব কমল প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির

সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জুলাই মাস শেষ হতে চলল। চলতি মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটি না থাকলেও আসছে আগস্ট মাসে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন তারা। তবে চার দিনের এই ছুটি কাটানোর জন্য পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে একদিনের ঐচ্ছিক ছুটি সমন্বয় করতে হবে।

প্রথম দফায় ৪ দিনের ছুটি

আগস্টের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর পরের দিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা থাকবে।

তবে ওই দিন এক দিনের নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি নিলেই পরবর্তী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের ছুটি

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগস্ট মাসের ২৬ তারিখ (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত আছে। তবে এ ক্ষেত্রে চাঁদ দেখার ওপর তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ভরশীল।

যেভাবে মিলবে ৪ দিনের ছুটি

আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটির পর দিন ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)। এর পরের দুদিন ২৮ ও ২৯ (শুক্র ও শনিবার) যথাক্রমে সাপ্তাহিক ছুটি।

এক্ষেত্রে কেবল একদিনের অর্থাৎ ২৭ আগস্ট ছুটি নিলেই মোট চার দিনের টানা ছুটি উপভোগ করতে পারবেন চাকরিজীবীরা।

যাদের জন্য এই ছুটি প্রযোজ্য

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ বেসরকারি অফিসে সাধারণত ছুটি পালন করা হয়। তবে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হয় না।

এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগ, হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন, জরুরি যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।

অন্যদিকে, ওই সময় ব্যাংক খোলা বা বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রম চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

পুলিশে আরো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশে আরো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

পুলিশ বাহিনীতে আরো ১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদনের জন্য এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেডে ১০ হাজার কনস্টেবলের পদ সৃষ্টি করা হবে। এসব পদে ধাপে ধাপে ৮ হাজার ৫০০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫০০ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবলের সংখ্যা বেড়ে হবে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৮। বর্তমানে মঞ্জুরীকৃত কনস্টেবল পদের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮। বর্তমানে কনস্টেবল থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পর্যন্ত ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পর্যায়ে, সিভিল পদসহ, মোট মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পুলিশ ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু নঈম বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পদগুলো সৃষ্টি হবে এবং এরপর নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

এর আগে গত ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো পেশাদার ও কার্যকর করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি আধুনিক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করছে। এরপর ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক চিঠির মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি জানায়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠায়।

গত ২৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ ৮টি রেঞ্জের অধীনে ৬৪টি জেলা পুলিশ, ৮টি মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিআইডি, এসবি, শিল্পপুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এমআরটি, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, টিডিএস, পিটিসি, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও পুলিশ স্টাফ কলেজসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, জনবল সংকটের কারণে ঘটনাস্থলে সময়মতো পুলিশ উপস্থিতি, নিয়মিত টহল, কার্যকর আইন প্রয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের কর্মঘণ্টা ও ছুটিভিত্তিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে পুলিশের কর্মপরিধি ও জনসাধারণের প্রত্যাশা বাড়লেও সেই অনুপাতে জনবল বৃদ্ধি পায়নি।

এতে আরো বলা হয়, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই, এমআরটি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও এপিবিএনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হলেও প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী জনবল অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবে পুলিশ-জনসংখ্যা অনুপাতের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে মঞ্জুরীকৃত পুলিশ পদের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০ হওয়ায় দেশে পুলিশ-জনসংখ্যার অনুপাত ৮৬৬:১। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী শান্তিকালে আদর্শ অনুপাত ৪০০:১ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের অনুপাতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবে দাবি করা হয়, স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইয়ার বুক অব বাংলাদেশ ২০২৩ অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে বর্তমান জনবলকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। 

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ১০ হাজার নতুন পদ অনুমোদনের পর নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস এবং প্রশিক্ষণ শেষ করতে আরো ছয় মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হবে।

পে স্কেল ২ বছর পেছানোর পরামর্শ আইএমএফের, যা জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেল ২ বছর পেছানোর পরামর্শ আইএমএফের, যা জানা গেল
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে নবম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে। পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন বেতন কাঠামো অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের বিষয়টি সামনে এনে এ পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। তবে এখনই সেই সুপারিশ মেনে নেওয়ার পক্ষে নয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি  গভীরভাবে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের উপযোগী কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নবম পে স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই সংস্থাটি পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে।

জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। নভেম্বরে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরে নবম পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এড়াতে এর আগেই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রবিবার অনুষ্ঠিত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সচিব কমিটির সুপারিশ, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে নতুন পে স্কেলের ব্যয় ও রাজস্ব সক্ষমতার বিষয়গুলো উঠে এলে প্রধানমন্ত্রী তা আরো বিশ্লেষণ করে সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

অর্থ বিভাগ জানায়, নবম পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, যা চলতি বা আগামী সপ্তাহের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন থেকে সরছে না; তবে অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে একযোগের বদলে ধাপে ধাপে এটি কার্যকরের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে।

২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া অষ্টম পে স্কেলের পর এক দশকেরও বেশি সময় মূল বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন হয়নি। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাবৃদ্ধিসহ প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েক লাখ পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অধীনে রয়েছে এবং আরো ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন অবস্থায়, রাজস্ব সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা না করে বড় ধরনের পুনরাবৃত্তি ব্যয় (পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়) না বাড়াতে সরকারকে সতর্ক পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।

মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি। এ কারণে সরকার ক্রীড়াকে শুধু শরীরচর্চা, বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এরপর সারা দেশে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজনের প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এ আয়োজন একটি কার্যকর ও টেকসই ভিত্তি রচনা করবে। দেশের ক্রীড়া বিকাশে এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

তিনি আরো বলেন, আজকের শিশু-কিশোর তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠছে। তার বিশ্বাস, এ কর্মসূচি ভবিষ্যতের জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’কে আরো সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করতে আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে। এতে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০ হবে। একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।

পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সব খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

দায়িত্ব কমল প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির | কালের কণ্ঠ