• ই-পেপার

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের আভাস

সংসদ ভবনের ছাদে চুইয়ে পড়ে পানি, নিজের কক্ষেও বাটি পাতেন ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ ভবনের ছাদে চুইয়ে পড়ে পানি, নিজের কক্ষেও বাটি পাতেন ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদ ভবনের মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। এ সময় বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, বৃষ্টির দিনে তাঁর নিজের কক্ষের ছাদ থেকেও পানি পড়ে। তাই তাঁকেও বাটি পেতে ঘরের মধ্যে পানি আটকে রাখতে হয়।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন হুইপ জি কে গউছ। 

তিনি বলেন, সংসদ ভবনের ওপরের তলায় থাকা মসজিদে অসংখ্য সংসদ সদস্য জামাতে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু বর্তমানে মসজিদের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। পানি আটকাতে সেখানে সারিবদ্ধভাবে বালতি রাখা হয়েছে। যে সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়, সেই সংসদ ভবনের মসজিদের এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি তাঁরও জানা আছে। তিনি বলেন, ‘কষ্টের কথা কাকে বলব। বৃষ্টির দিনে আমি যখন নিজের ঘরে ঘুমাতে যাই, তখন আমার ঘরের ছাদেও পানি পড়ে। তাই আমাকেও বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখতে হয়।’

ডেপুটি স্পিকারের এ মন্তব্যে সংসদ কক্ষে কিছুক্ষণ হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভবনের যেসব স্থানে পানি পড়ছে, সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, চিফ হুইপ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। মন্ত্রী যদি এ বিষয়ে কিছু বলেন, তাহলে সবাই আশ্বস্ত হবেন এবং বৃষ্টির দিনে অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।

জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। সংসদ ভবনের যেসব স্থানে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, সেগুলো সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।'

একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে দেশে ‘একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই’ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী এলাকা নেই। সংবিধান অনুযায়ী তাদের কার্যপরিধি পুরো বাংলাদেশ। 

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করলে তার জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বক্তব্যে দুটি সংসদীয় আসনকে তার ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পরে ওই এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে যে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, বরং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যই সেখানে সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ বিষয়ে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। শুধু বিরোধী দলের বিজয়ী আসনগুলোতেই কেন এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে ভিন্ন ধরনের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে কি? এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে না পড়লেও বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং অতিরিক্ত ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারণ আসনের সদস্যদের জন্য সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি সমগ্র বাংলাদেশ। তারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নন। তাই কোনো সদস্য যদি নিজেকে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করেন, সেটি সঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ পান, তা দেশের যেকোনো এলাকায় উপ-বরাদ্দ দিতে পারেন। বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী এলাকা বা অতিরিক্ত দায়িত্বের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর অনুরোধ, সৌদি রাষ্ট্রদূতের ইতিবাচক আশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর অনুরোধ, সৌদি রাষ্ট্রদূতের ইতিবাচক আশ্বাস
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সৌদি আরবের আরোপিত হজ ফ্লাইট-সংক্রান্ত কর ও চার্জ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়া।

আজ সোমবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দপ্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ়, গতিশীল ও বহুমাত্রিকভাবে সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে বেসামরিক বিমান চলাচল, পর্যটন এবং হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সৌদি সরকারের আরোপিত হজ ফ্লাইট-সংক্রান্ত কর ও চার্জ হ্রাস করা হলে তা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রীর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে উপকারী হবে। এ বিষয়ে তিনি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে সৌদি রাষ্ট্রদূত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য আবাসনের ক্যাটাগরি ‘ডি’ সুবিধা না থাকায় প্রতি যাত্রীর আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তিনি বাংলাদেশি হজযাত্রীদের স্বার্থে ক্যাটাগরি ‘ডি’ পুনর্বহালে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবার মানোন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং হজের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সৌদি সরকার আন্তরিক। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণে কাজ করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
 

বৃষ্টি আর কত দিন? জানাল অধিদপ্তর

অনলাইন ডেস্ক
বৃষ্টি আর কত দিন? জানাল অধিদপ্তর
সংগৃহীত ছবি

দেশে কয়েক দিন ধরে টানা ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন বৃষ্টিপাত আরো কয়েক দিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। 

পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঢাকা মহানগরে ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে আবাহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বিক্ষিপ্তভাবে সারা দেশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাত আরো অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে।’

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৬৪, সিলেট বিভাগে ১৩, খুলনায় ২৭৪, বরিশালে ৮৭, ময়মনসিংহে ১০০, চট্টগ্রামে ৭৯০, রাজশাহীতে ২০৪ এবং রংপুর বিভাগে ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করেছে আবহাওয়া অফিস। এর মধ্যে ঢাকা শহরে সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রের্কড করা হয়েছে।

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের আভাস | কালের কণ্ঠ