• ই-পেপার

গায়েবি মামলার সংস্কৃতি ব্যবসায়ী সমাজে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে : হোসেন জিল্লুর রহমান

হজ শেষে ফিরেছেন ৬০৫৮৮ জন বাংলাদেশি, মারা গেছেন ৫৪

অনলাইন ডেস্ক
হজ শেষে ফিরেছেন ৬০৫৮৮ জন বাংলাদেশি, মারা গেছেন ৫৪

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৫২ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৬ হাজার ২৬৯ জন।

এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৪ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ১৯ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৬৮ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ২১ হাজার ৪৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৩ জন হাজি।

হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৫২ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৭৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৪টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন।

হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

দূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

অনলাইন ডেস্ক
দূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলায় বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। যার বায়ুমান স্কোর ১৮৪। তবে একই সময়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র‍্যাংকিংয়ে ঢাকার স্কোর ১৫৫। এ স্কোর বায়ুর মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে, যা সাধারণ মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এ স্কোর অনুযায়ী বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান তিন নম্বরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং শিল্পকারখানার নির্গমন দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

এদিকে, একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে থাকা জাকার্তার স্কোর ১৮৪। এ ছাড়া ১৫৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং। ১৫৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ১৫৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসা এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কামপালার স্কোর ১৪৭।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসাবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

সরকারের পেছনে কার ছায়া?

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের পেছনে কার ছায়া?

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের বয়স চার মাস হয়েছে। কিন্তু এই চার মাসে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো সরকারের ভিতরের একটা মহল বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারের ভালো চেষ্টাগুলো বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না একটি মহল। তারা যেন তারেক রহমানের নতুন ধারার রাজনীতির বদলে পুরোনো প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া। প্রধানমন্ত্রী চাইছেন অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করতে। কিন্তু সরকারের ভিতরে একটি শক্তি সেই বিভক্তির ধারাতেই রাজনীতি করতে চাইছে। গত মঙ্গলবার বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে। আসুন নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল (সফল) হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট (মানসিকতা) নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই আকাঙ্ক্ষা কী মাঠে বাস্তবায়িত হচ্ছে? না। বিএনপির অনেকের মধ্যে এখনো প্রতিশোধের রাজনীতির মানসিকতা প্রবল। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধ হয়নি। কেউ যদি অন্যায় করে, কারও বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে সেটা দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, আদালতের, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, প্রতিহিংসার নিকৃষ্ট প্রকাশ। তারেক রহমানের প্রত্যাশিত রাজনীতি বিএনপির সর্বস্তরে দৃশ্যমান নয়। মে মাসে বাংলাদেশে মব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) নামে একটি সংগঠন। এই সংখ্যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ধরনের অন্তত ৬৯টি ঘটনায় আরও ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি। তাদের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে মব সহিংসতায় ২১ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অথচ শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন নেই। তারেক রহমান এবং তাঁর সরকার আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন শুরু থেকেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই পুরোনো সংস্কৃতি। সর্বোচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলা দায়ের করে আবার গ্রেপ্তারের অনাকাক্সিক্ষত রীতি চালু আছে এখনো।

প্রধানমন্ত্রী বারবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। বেসরকারি খাতকে সচল করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। বেসরকারি খাতের মনোবল ও আস্থা ফেরাতে সরকারে উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বেসরকারি খাতকে সচল করতে হলে প্রথমে এই খাতের ক্ষত সারাতে হবে। গত দেড় বছরে ইউনূস সরকার দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় কবর রচনা করেছে। বিভিন্ন কলকারখানা মব হামলার শিকার হয়েছে। অনেক শিল্পকারখানায় আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে নতুন বাজেটে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী নিজে একজন ব্যবসায়ী ও শিল্প-উদ্যোক্তা। তিনি ভালো করেই জানেন, কেবল টাকা দিয়েই বন্ধ কলকারখানা চালু করা যায় না। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য চাই উপযুক্ত এবং সহায়ক পরিবেশ। ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে বেসরকারি খাতের মনোবল ভেঙে গেছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতের ইমেজ নষ্ট করার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা করেছিল। মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়াবে না।

কিন্তু সরকারের ভেতরের একটি চক্র বেসরকারি খাতে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে দিচ্ছে না।

দায়িত্ব গ্রহণের পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এসব মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। ইউনূস সরকার এসব মামলা করে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। কেন চার মাসেও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হলো না? কারা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না?

ইউনূস সরকার বহু শিল্প-উদ্যোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেআইনিভাবে জব্দ করেছিল। বিচারের আগে শাস্তি নজিরবিহীন এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছিলেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

বর্তমানে আমরা একটি বৈশ্বিক যুগে বসবাস করি। এখন শুধু দেশে বসে ব্যবসাবাণিজ্য করা অসম্ভব। ইউনূস সরকার গায়ের জোরে বহু ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিদেশভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এ ধরনের আদেশ কেবল আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন নয়, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা। কারণ সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কেবল মামলা আছে এই যুক্তিতে কোনো নাগরিকের ওপর বিদেশভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। ড. ইউনূস সংবিধান, আইন, আদালতের রায় কিছুই মানতেন না। কিন্তু বর্তমান সরকার তো জনগণের নির্বাচিত সরকার। সবাই আশা করে এই সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। সরকার বারবার আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা বলছে। তাহলে কেন এই বেআইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না?

বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য টাকা দিলেই হবে না। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মিথ্যা মামলা, বিদেশভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করে। যা ইউনূস সরকার করেছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি এখনো। ফলে সরকারের নানা ধরনের আশ্বাসের পরও বেসরকারি খাতের পালে হাওয়া লাগেনি।

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন, বিগত ১৭ বছর দেশ কীভাবে চলেছে। সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছিল। একটা গ্যাসের লাইন পেতেও সরকারের কাছে ধরনা দিতে হতো। সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে পারলে ব্যবসাবাণিজ্য করা অসম্ভব ছিল। তাই সেই সময়ে ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল বাধ্য হয়েই। শিল্প বাঁচাতে, লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের জন্য, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এর কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু ইউনূস ক্ষমতায় এসেই এসব শিল্প-উদ্যোক্তাকে দোসর বানিয়ে দেন। যেসব ব্যবসায়ী সরাসরি রাজনীতি করেন তাঁরা ছাড়া অন্য বিশালসংখ্যক ব্যবসায়ী কোনো দলের না। তাঁদের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়, শিল্পের জন্য, অর্থনীতির জন্য। অথচ সরকার পরিবর্তন হলেই তাঁদের কেন গলা টিপে ধরা হবে?

অতীতে সব সরকারই ক্ষমতায় এসে ব্যবসায়ী শিল্প-উদ্যোক্তাদের অনুগত বানাতে চায়। এই সংস্কৃতি থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার কথা বলেছে বটে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আবার নতুন করে অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে বেসরকারি খাতকে বিভক্ত করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত এবং শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এই বিভাজন দূর করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নিজে যেখানে সবার আগে বাংলাদেশ- তাঁর রাজনৈতিক দর্শন বলছেন, তখন এই বিভাজন তৈরি করে কারা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে একটি গণ অভ্যুত্থানের পটভূমিতে। যেই গণ অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ছিল ঐক্য, বৈষম্যহীন, সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ইউনূস সরকার ঐক্যের বদলে বিভক্তি সৃষ্টি করেছিল। বিরুদ্ধ মতকে পৈশাচিক শক্তি দিয়ে দমন করার এক ভয়াবহ প্রবণতা চালু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূস দেশকে বৈষম্যমুক্ত করেননি, বরং বৈষম্য বাড়িয়েছেন। সমতার বাংলাদেশের বদলে ইউনূসের দর্শন ছিল দমনের বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্য ইউনূস দেশে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। দেশের মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এখান থেকে মুক্তির জন্য মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। এ দেশের মানুষ আর হিংসা, হানাহানি চায় না। বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। বিএনপি নির্বাচনের প্রচারণায় সেই শান্তির বার্তা দিয়েছে। এখন সময় প্রতিশ্রুতি পূরণের। কিন্তু সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। এভাবে চললে মানুষ আশাহত হবে। এখনো প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ইউনূসের অপছায়া। এরা সরকারের ভালো সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছে প্রতি পদে। চার মাসেও সরকার প্রশাসন ঢেলে সাজাতে পারেনি। আমলাতন্ত্রে এখনো ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা বিএনপিপ্রেমিক সেজে রাজত্ব করছে। মনে রাখতে হবে, এরাই নির্বাচন বানচালের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর যেভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাজিয়েছিল এখনো তার মূল কাঠামো পরিবর্তন হয়নি। শুধু উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা পরিবর্তন করলেই প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তন হয় না। মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন দরকার। না হলে দেশের গুণগত পরিবর্তন হবে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই বাংলাদেশে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার বিপরীতে কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। বিএনপি নেতারাই বলছেন, ইউনূস সরকারের প্রশাসন দিয়ে বিএনপি সফল হতে পারবে না।

ইউনূস সরকারের বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সারা দেশে যেভাবে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। এঁরা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। ইউনূস আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের নিয়োগ বাতিল করা হয়নি। বিভিন্ন দেশে ইউনূস সরকার যে কূটনীতিক নিয়োগ দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনকে সরানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে সরকারের সঠিক বার্তা যাচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চাটুকারদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কিন্তু অতীতের মতো বিএনপি সরকারের চারপাশে চাটুকারদের দৌরাত্ম্য ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনে, পুলিশ বাহিনীতে নব্য বিএনপির দাপট বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে পদায়ন এবং পদোন্নতি অনুশাসন দিয়েছেন সেখানে কে ছাত্রদলের কত বড় নেতা ছিলেন তা প্রমাণের প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সমালোচনায় মুখর ছিল, যারা এক-এগারোর সময় বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের পরামর্শ দিয়েছিল, তারাই আবার সরকারের কাছের মানুষ সেজেছে। শুরু হয়েছে তেলবাজির প্রতিযোগিতা।  প্রধানমন্ত্রী ঈদের পরদিন সরেজমিন দেখেছেন, সিটি করপোরেশন যা বলেছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এরকম নজরদারি সারা দেশে করা সম্ভব নয়। আর সেজন্যই সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য চাটুকার, তথাকথিত দলীয় লোকের চেয়েও বেশি প্রয়োজন যোগ্য, মেধাবী এবং দক্ষ লোক। যারা দেশকে ভালোবাসে। যারা সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। যাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা নেই। সেটা না হলে, সরকারের সুন্দর পরিকল্পনার পরি উড়ে যাবে আর কল্পনাতেই থাকবে সবকিছু।

সরকারের পেছনে ফিরে তাকানোর সময় এসেছে। কেন চার মাসেও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে পারেনি সরকার? কেন এত দিনেও ইউনূস সরকারের ঢালাও অবৈধ বিদেশভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হচ্ছে না? কেন দেশে মব সন্ত্রাস বন্ধ হচ্ছে না? এরকম অনেক প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। এই সরকারের হানিমুন সময় পার হয়ে গেছে। এখন প্রতিশ্রুতি আর কাজের সামঞ্জস্য আনতে হবে। কথা আর কাজের মিল না থাকলে অবিশ্বাস বাসা বাঁধবে জনগণের মনে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

১৩ জেলার জন্য যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জেলার জন্য যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

দেশের ১৩ জেলার জন্য সতর্কবার্তা জরি করেছে আবহাওয়া অফিস। এসব জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।  

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গায়েবি মামলার সংস্কৃতি ব্যবসায়ী সমাজে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে : হোসেন জিল্লুর রহমান | কালের কণ্ঠ