• ই-পেপার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যা

ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজের দুই ছেলের নামে নতুন দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে, এমন অভিযোগ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা-সমালোচনার পর ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অলৌকিকভাবে মিলে গেছে। যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। এ রকম সীমান্ত ও দিগন্ত নামকরণ বহু নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তিনি (সংসদ সদস্য মাসুদ) কেন এর সঙ্গে আমার সন্তানদের নাম জড়ালেন?’

আজ সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেট পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলায় নতুন কয়েকটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে তার পরিবার বা মীর বংশের নামে এবং দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে, তার দুই সন্তানের নামে।’

পরে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়ে অভিযোগের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তার নির্বাচনী এলাকা মোকামতলার সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই আয়তনে বড় এবং প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন ছিল। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশ এবং গণশুনানির ভিত্তিতে ইউনিয়ন দুটি বিভক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

সৈয়দপুর ইউনিয়নের একটি অংশ গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’।

অন্যদিকে দেউলী ইউনিয়নের একটি অংশ গাইবান্ধার সীমানার কাছাকাছি এবং ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “এ ধরনের নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। মিরাক্যালি আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। আমার সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। তবে ইউনিয়নের নামকরণে তার কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। আমার যদি ইনটেনশন থাকত সন্তানের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করার, তাহলে তো আমি প্রশাসনকে বলতাম ‘মীর সীমান্ত’ ও ‘মীর দিগন্ত’ রাখার। কিন্তু ইউনিয়নের নামের আগে তো ‘মীর’ নাই।”

ধর্ষণের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বলে কিছু নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্ষণের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বলে কিছু নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফাইল ছবি

ধর্ষণের ঘটনায় কোনো ছোট-বড় বিভাজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনের দৃষ্টিতে সব ধর্ষণই সমান অপরাধ এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণ ছোটও নয়, বড়ও নয়, সবই সমান। সোহেল রানা আর জিসান— ধর্ষণের ক্ষেত্রে সবাই সমান। একটির বিচার চাইব, আরেকটির বিচার চাইব না, এটা হতে পারে না।’

সংসদে আলোচনার সূত্র টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের একজন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ধর্ষণের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারবে কি না। মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা বিবৃতি দিয়েছি। এরপরও যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, জনগণই মূল্যায়ন করবে সেগুলো ধর্ষণের বিরুদ্ধে ছিল, নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল।’

এ সময় স্পিকার মন্ত্রীকে আলোচ্য বিষয়ের দুর্নীতি দমন কমিশন মধ্যে থাকার অনুরোধ জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতি ও ধর্ষণের প্রসঙ্গের তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ‘আইনে উচ্চ বা নিম্ন দুর্নীতি বলে কোনো পৃথক সংজ্ঞা নেই। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। একইভাবে ধর্ষণের ক্ষেত্রেও ছোট বা বড় বলে কোনো বিভাজন নেই। সব ঘটনাই সমান গুরুত্বের।’

এর আগে দুদক সংক্রান্ত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই আগের অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হয়নি। বর্তমানে সার্চ কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কমিশনকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সংসদে নতুন বিল উত্থাপনের মাধ্যমে আরো শক্তিশালী দুদক আইন প্রণয়ন করা হবে।’

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপিত শ্বেতপত্রে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া ঋণের অর্থ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো। পাচার হওয়া এই বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।’

ধর্ষণের ছোট-বড় ডেফিনেশন আইনিভাবে হতে পারে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণের ছোট-বড় ডেফিনেশন আইনিভাবে হতে পারে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশনের বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে ধর্ষণের বিচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে সাফ জানিয়ে বলেছেন, দুর্নীতির মতো ধর্ষণেরও কোনো ছোট কিংবা বড় ডেফিনেশন বা সংজ্ঞা আইনিভাবে হতে পারে না। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটির বিচার চাওয়া হবে, আর অন্যটির বিচার চাওয়া হবে না এমন দ্বিচারিতা চলতে পারে না, কারণ সব ধর্ষণই সমান অপরাধ।

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ অধিবেশনে একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে আলোচনা শুরু হয়। যেখানে ঘটনার ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পর সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার স্পষ্ট বয়ান ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও কিছু সদস্যের বক্তব্য ও ডিবেট নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা আসলে ধর্ষণের পক্ষে কথা বলছেন নাকি বিপক্ষে কথা বলছেন, তা স্পষ্ট নয়। আইনে যেমন উচ্চ দুর্নীতি বা নিম্ন দুর্নীতি বলে আলাদা কিছু নেই, দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি; ঠিক তেমনি ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কোনো ছোট-বড় ভেদ নেই, সব অপরাধই সমান এবং সবক্ষেত্রেই সমানভাবে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে অধিবেশনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই আগের অধ্যাদেশটি তখন গ্রহণ করা হয়নি, তবে আগের আইনটি রিভাইভ হওয়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমেই দ্রুত দুদককে ফাংশনাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে সংসদে বিল আকারে এনে সবার আলোচনার ভিত্তিতে আরো শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হবে।

একই সঙ্গে দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে পেশ করা শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকিং খাতের লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। এই বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরুন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরুন : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

গণমাধ্যমকে তোষামোদির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরতে হবে।’ একই সঙ্গে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বৈঠকে টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ শিবলী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। অংশীজনরা সবাই মিলে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি কাঠামো তৈরি করলে গণমাধ্যম খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিরসন সম্ভব হবে।’

এদিকে বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প খাত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ হত্যা | কালের কণ্ঠ