• ই-পেপার

জুলাই গণহত্যার বিচার নির্বাচনের আগেই সম্ভব : আইন উপদেষ্টা

১ বছর অনুপস্থিত, নির্বাচন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি দু’বছর স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
১ বছর অনুপস্থিত, নির্বাচন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি দু’বছর স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

বিনা অনুমতিতে এক বছর অফিসে অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচন কর্মকর্তা রওশন আরেফিনের দুই বছর বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিতাদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার (১৪ জুন) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইসি সচিব এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তা রওশন আরেফিনর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন অনুপস্থিতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়। বদলির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর অবমুক্ত করার একাধারে প্রায় ১ বছর অতিক্রান্ত হলেও তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি এবং বর্তমানে তিনি কোনো কর্মস্থলেই কর্মরত নেই। তিনি কর্তৃপক্ষের আইনানুগ আদেশসহ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

তার এই কার্যকলাপ শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও বিধি ৩(গ) অনুযায়ী ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে অভিযোগনামায় কারণ দর্শানো হয় বলেও জানিয়ে নির্বাচন কমিশন। এরপর তিনি লিখিত জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এতে গত ২০ জানুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। শুনানি অন্তে ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় মামলাটি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন' এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

সার্বিক বিবেচনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মিজ রওশন আরেফিন ‘পলায়ন’ এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (২০২৬ ও ২০২৭ সালের) স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হলো। তবে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতিকাল ১১ মাস ২৫ দিন তার জমা থাকা অর্জিত ছুটি (পূর্ণ গড় বেতনে) হিসেবে মঞ্জুর করা হলো। সেইসঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করায় সাময়িক বরখাস্তকাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

বিবিসি বাংলা
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

বাংলাদেশের একসময়ের আলোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সময় নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।

রবিবার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বক্তৃতা ও বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের এক আদেশের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার একটি আদালত।

২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আইজিপির পদ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। এর বছর দুয়েক পরে ঢাকার একটি পত্রিকায় (কালের কণ্ঠ) তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করে রিপোর্ট প্রকাশ করলে তা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। সেগুলো নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

রবিবার সাবেক আইজিপি বেজনীর আহমেদের আটকের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করার পর দুদকের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সেখানে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং অপর একটি মামলার বিচার চলছে।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরো পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে।’

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রমে আরো গতি পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা ইন্টারপোলে আবেদন করেছিলাম। তার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে।’

যেভাবে গ্রেপ্তার হন দুবাইয়ে

সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে যে ছয়টি মামলা ছিল, তার মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির দুটি মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

দুদক জানিয়েছে, সাবেক আইজিপি সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে জালিয়াতি করে সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এই মর্মে অভিযোগ ছিল এবং একাধিক পাসপোর্ট তিনি গ্রহণ করেছিলেন।

দুদক কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের যে পাঁচটি মামলা হয়েছিল সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেখানে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি টাকারও ওপরে।

তিনি বলেন, এসব মামলায় বেনজীর আহমেদকে হাজির করতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করেছিলাম।

পরে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি।

রবিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮সহ অন্যান্য ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে এনসিবি ঢাকা রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।’

দেশে ফেরানো হবে কোন প্রক্রিয়ায়?

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে কবে ফেরানো হবে কিংবা ঠিক কী প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে, সেই বিষয়গুলো সামনে আসছে।

রবিবার দুদকের পক্ষ থেকে যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেও এই প্রশ্নটি এসেছিল সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।

জবাবে দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেছেন, তাকে গ্রেপ্তারে দুদক ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, একই প্রক্রিয়ায় দেশে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারকাজ শেষ করা হবে।

তাকে দেশে ফিরিয়ে কি দুদকের কাছেও হস্তান্তর করা হবে কি না জিজ্ঞাসাবাদে, এমন প্রশ্নও উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে। তবে এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করেনি দুদক।

তবে কিভাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তার একটি প্রক্রিয়াগত ব্যাখ্যা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে যে, ইউএইএ ফেডারেল ল নাম্বার ৩৯ (২০০৬) অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণের আবেদন) প্রেরণ করতে হবে’।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ সহ অন্যান্য ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এনসিবি ঢাকা রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করেছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করে অতি দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেলে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠানো হবে এবং তাকে দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আলোচিত সমালোচিত আইজিপি

পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ।

যদিও তিনি নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার’ মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য।

বেনজীর আহমেদ র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময় বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তিনি কখনোই ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ টার্মটিকে গ্রহণ করতেন না।

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নানা বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছিল।

র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকার ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি বলেছিলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটি সস্তা প্রচারণা। একটি বিশেষ মহল এই প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধীরা অপরাধ করবে আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা চেয়ে চেয়ে দেখবে? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কি অস্ত্র দেওয়া হয়েছে হাডুডু খেলার জন্য?’

বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে ঢাকার বোট ক্লাবে অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রকাশ হয় যে ওই ক্লাবের সভাপতি তখনকার আইজিপি বেনজীর আহমেদ নিজেই।

২০২১ সালের জুনে ওই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করে এবং ওই ক্লাবের একজন সাবেক সভাপতি পরবর্তীতে আটক হন। তারও পরে জেলে যেতে হয় ওই চিত্রনায়িকাকেও।

কিন্তু ঢাকার আশুলিয়ায় বোট ক্লাবের ছবি ও এর সভাপতি হিসেবে বেনজীর আহমেদের নাম আসার পর তা ঝড় তোলে সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে। এমনকি বিপুল অর্থ দিয়ে কিভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই ধরনের ক্লাবের সদস্য হতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে জাতীয় সংসদেও।

বিশেষ করে একটি বাণিজ্যিক ক্লাবের সভাপতি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আইজিপি থাকতে পারেন কি না, সে প্রশ্নও উঠেছিল তখন।

২০১৩ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার সামনের সড়ক বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। তখন সেখানে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছিল বালুর ট্রাক, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপি নেতারা এ ঘটনার জন্য তখনকার ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের যে অবরোধ কর্মসূচি ছিলো সে সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপির কমিশনার ছিলেন বেনজীর আহমেদ।

হেফাজতে ইসলামীর বিশাল সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে তখন আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, সংসদে হৈচৈ

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, সংসদে হৈচৈ

ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। 

আজ রবিবার জাতীয় সংসদে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ ও শিবির নেতা জিসান মিয়াকে নিয়ে ৩০০ বিধিতে দুটি বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়া এবং জিসান প্রধানের বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় সংসদে তোলায় প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) চান। এ সময় সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হৈচৈ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে রুলিং দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আজ সংসদ অধিবেশনে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার জন্য দাঁড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বিবৃতি শেষ হওয়ার পর তিনি আরেকটি বিবৃতি দেওয়ার জন্য স্পিকারের অনুমোদন চান। জবাবে স্পিকার বলেন, ‘যদি আরেকটা এ রকম গ্রেট নিউজ থাকে, তাহলে অফকোর্স অ্যালাউড।’

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিষয়ে কিছু ক্লেইম করা হয়েছে, সে জন্য বিবৃতি দিচ্ছি।’ এরপর তিনি জিসান মিয়া প্রধানের গ্রেপ্তারের বিষয় তুলে ধরে বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জনৈক একজন নারীর সঙ্গে মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, জিসান মিয়া ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জিসান ভুক্তভোগীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং এ কাজ না করলে ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে জিসানের দেওয়া ওষুধ খেয়ে ভুক্তভোগীর গর্ভপাত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরে ভুক্তভোগী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টায় বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন।

জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের পরে সেটা আমরা মনে করলাম, এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার। তাই আমি এই মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এটা প্রকাশ করলাম।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই হাত তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় স্পিকার বলেন, ৩০০ বিধি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হৈচৈ করতে থাকেন। স্পিকার তখন বিরোধীদলীয় উপনেতাকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী পর্যায়ে যে সাবজেক্টটা বলেছেন, আপনার এটা অ্যালাউ করা উচিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী পর্যায়ে কোনো একটি দলকে লক্ষ্য করে একটি বিতর্কিত বিষয়ে পার্লামেন্টে এভাবে বক্তব্য রাখা বোধ হয় বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ইতিহাসে এই প্রথম।’

তাহের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম করার জন্য ইনটেনশনালি এটা এখানে উপস্থাপন করেছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, জিসান এখন কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসানের সঙ্গে কারও কথা বলতে, এমনকি সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না। যে মেয়েটার কথা বলা হয়েছে, ওই মেয়েটার সঙ্গেও কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এটা কেন এখানে (সংসদে)? কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে কি? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটা মনে হচ্ছে যে, উনারা একটা প্লট তৈরি করার জন্যই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি করছে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে চান।

এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ জায়গা। আমরা সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেব। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব, যদি সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে কিছু হয়ে থাকে, সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবাই দয়া করে বসেন। আমরা দিনের কার্যসূচিতে যাচ্ছি।’ পরে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়।
 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তারা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন সংগঠনটির সদস্যরা।

এদিন দুপুরে জাতীয় সংসদের বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ গ্যালারিতে সংগঠনটির ২৬ জন সদস্য বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আজকের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

জুলাই গণহত্যার বিচার নির্বাচনের আগেই সম্ভব : আইন উপদেষ্টা | কালের কণ্ঠ