রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ পুকুরপাড় এলাকায় এক বৃদ্ধা নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- পল্লবী থানা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ইব্রাহিম খলিল এবং সদস্য সচিব মো. রিয়াজ।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২২ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে কালা মোতালেব নামে এক ব্যক্তি পাখি বেগম নামে এক নারীকে হেনস্তা করেন। এ ঘটনার জেরে পাখির স্বজনরা মোতালেবকে মারধর করলে তিনি আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান যুবদল নেতা ইব্রাহিম খলিল ও মো. রিয়াজ। স্থানীয়দের দাবি, তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তারা হাসপাতালে গিয়েও আহতদের খোঁজ-খবর নেন।
এদিকে, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাখি বেগমের মা শশীলা বেগম (৮০) দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও প্যারালাইসিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শয্যাশায়ী ছিলেন। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
শশীলা বেগমের মৃত্যুর পর তার মেয়ে পাখি বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় যুবদল নেতা ইব্রাহিম খলিল ও মো. রিয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর দায়ের করা প্রাথমিক অভিযোগে এই দুই নেতার নাম ছিল না।
এলাকাবাসীর দাবি, শশীলা বেগমের মৃত্যু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার ফল এবং এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। তাদের মতে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে জানতে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুবদলের দুই নেতাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে বিষয়টির সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।





