• ই-পেপার

প্রধান উপদেষ্টা

ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ হওয়া উচিত

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অতিরিক্ত ১.৪ কোটি ইউরো দেবে ইইউ

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অতিরিক্ত ১.৪ কোটি ইউরো দেবে ইইউ
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। 

বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ সহায়তার ঘোষণা দেয়।

সংস্থাগুলো জানায়, ইইউর মানবিক সহায়তা এবং আগের উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি এই অর্থায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্য উপকৃত হবেন। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাই এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, আজকের এই ১.৪ কোটি ইউরো সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষকে সহায়তা করবে, আর রোহিঙ্গাদের জন্য শিক্ষা ও কাজের দক্ষতা শেখার সুযোগ বাড়াবে। এতে তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মর্যাদা রক্ষা করা, তাদের সক্ষম করে তোলা এবং সুযোগ এলে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরার জন্য প্রস্তুত করা।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেনটেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, গত নয় বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই সহায়তা তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা পাওয়া, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প, সীমিত সম্পদ এবং দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনের কারণে রোহিঙ্গারা অনেক ঝুঁকিতে আছেন। ক্যাম্পে নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত আলো, কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা জরুরি, যাতে শরণার্থীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা পায়। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানব পাচার এবং শোষণের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের ফলে নারী ও শিশুদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে বাইরে যেতে হয় না, ফলে তাদের নিরাপত্তা বাড়ে। একই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বন উজাড়ের চাপ কমায়। পাশাপাশি, জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো জরুরি, যাতে শরণার্থীরা সাহায্যের ওপর কম নির্ভর করেন এবং নিজের জীবনে নিজের ভূমিকা ও লক্ষ্য খুঁজে পান।

এতে বলা হয়, আগামী ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এই সহায়তা ঘোষণা করা হলো।  এ দিবসটি সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে নিজ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের দৃঢ়তা ও শক্তিকে সম্মান জানানোর সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সহায়তাকারী, যারা মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো ও টেকসই সমাধানে জোর দেয়। জরুরি সেবা চালু রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা এখনও অনেক প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকার, মানবিক সংস্থা এবং দাতাদের সঙ্গে কাজ করছে। চলতি বছরে এই পরিকল্পনার জন্য ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন, যাতে নতুন আগতসহ ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জরুরি চাহিদা পূরণ করা যায় এবং তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।

ঢাকার সব রুটে আলাদা কম্পানি দিয়ে বাস পরিচালনা করা হবে : সড়কমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার সব রুটে আলাদা কম্পানি দিয়ে বাস পরিচালনা করা হবে : সড়কমন্ত্রী

ঢাকার প্রতিটি রুটে বাস মালিকদের নিয়ে আলাদা কম্পানি গঠন করে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট মান, একই রং, ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে বাস পরিচালনা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রিক যানবাহনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে অনেক দূর অগ্রগতি হয়েছে। কোন রুটে কোন কম্পানি পরিচালনা করবে, তা নির্ধারণেও বাস মালিকরা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, বাস নির্দিষ্ট রুটে চলবে, নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজে থামবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা করবে। বর্তমানে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার যে অনিয়ম চলছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী জানান, ঢাকায় একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। এতে বাসগুলো নির্দিষ্ট টার্মিনালে না থেমে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ে। এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বাস কাউন্টারগুলো ঈদের আগে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে এ সময়সীমা আরো এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীবান্ধব পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তাই টয়লেট, সচল ফ্যান, বড় ওয়েটিং রুমসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাস মালিকরাও উন্নত পরিবেশ ও জায়গা পেলে নিজেদের উদ্যোগে টার্মিনালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সম্মত হয়েছেন। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

পে স্কেল বাস্তবায়ন রূপরেখা নিয়ে বৈঠক শেষ, এলো যে সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেল বাস্তবায়ন রূপরেখা নিয়ে বৈঠক শেষ, এলো যে সিদ্ধান্ত

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে। নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে,  নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরো কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ধারাবাহিকতার পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গেছে। জুলাই থেকে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সংসদে প্রবেশ ও ত্যাগের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি বাতিল : স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
সংসদে প্রবেশ ও ত্যাগের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি বাতিল : স্পিকার

জাতীয় সংসদে প্রবেশ কিংবা কক্ষ ত্যাগের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে বা নিচু করে সম্মান প্রদর্শনের প্রচলিত নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় কার্যক্রমে প্রবেশ, আসন গ্রহণ কিংবা কক্ষ ত্যাগের সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের যে বিধান প্রচলিত ছিল, তা আর বাধ্যতামূলক নয়।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনারা যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানাবেন।

স্পিকার জানান, পূর্ববর্তী সময়ে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে থাকা ‘ঝুঁকে সম্মান প্রদর্শন’ সম্পর্কিত শব্দ ও নির্দেশনা ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। সেই সংশোধনের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এই প্রথাটি আর কার্যকর নেই।

তিনি আরো বলেন, অতীতে অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংসদের সময় কার্যপ্রণালি বিধি পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে মাথা নত করার বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ফলে এটি এখন আর সংসদীয় নিয়মের অংশ নয়।

স্পিকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০০৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সংশোধিত কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) ধারা অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি মাথা নত করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংসদ সদস্যরা এখন নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি অনুসরণ করে সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন।

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবুর রহমান সংসদ কক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। সেদিন স্পিকার জানিয়েছিলেন সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এরপর গতকাল বুধবার (১৭ জুন) বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুকও বিষয়টি সুরাহার জন্য অনুরোধ জানান। 
 
তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি জানিয়েছিলেন বিষয়টি পরীক্ষা করে জানানো হবে। সে প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন।
 

ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ হওয়া উচিত | কালের কণ্ঠ