• ই-পেপার

মুনিরীয়া যুব তবলীগের এশায়াত সম্মেলন

২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল, ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা : মাহদী আমিন
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, এবার ২২ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। সরকারের লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে অন্ততপক্ষে ৫০ লাখ শিক্ষার্থী যেন পরবর্তী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে সারা দেশব্যাপী ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ এর ভেতরে অংশগ্রহণ করে। 

তিনি বলেন, আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের  ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক গোল্ড ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন, সে অনুযায়ী আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যক্রমের বাইরেও সৃজনশীল এবং মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এমন বহুমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলের যেসব ছাত্রছাত্রী পড়ে তাঁদের মাধ্যমে কিন্তু আমরা একটা বিপ্লব সৃষ্টি করেছি ক্রীড়া ক্ষেত্রে। অনেকেই সেভাবে লক্ষ্য করেননি যে এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লখের বেশি ছাত্রী ৬৫,৩৪২ স্কুল থেকে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রায় ১১ লক্ষের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী, তাঁরা গ্রাম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছেন।

 সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনাদেরকে আহবান জানাবো এই শিশুদের যে স্পোর্টস পার্টিসিপেশন রয়েছে সেটাকে এনকারেজ করার জন্য।মিডিয়া থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে তাঁদেরকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবেন। শিশুরা যখন দেখবে এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করার কারণে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, আপনারা তাঁদেরকে ফিচার করছেন, হাইলাইট করছেন স্বাভাবিকভাবেই তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। প্রথম বছরে আমরা  ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। চলমান এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী প্রতিযোগিতায় আমরা এই সংখ্যাটাকে অনেক বাড়াতে পারবো।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী  আমাদের মূল উদ্দেশ্য যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, তাদেরকে যেন বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা দিতে পারি। রিয়েল ওয়ার্ল্ডের সাথে কানেক্টিভিটি থাকবে। আরো বেশি ইন্টার্নশিপ এবং এপ্রেন্টিসশিপ থাকবে। বিশেষত প্রাইমারি স্কুলের ক্ষেত্রে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস ফোর থেকে দুইটা নতুন সাবজেক্ট ইন্ট্রোডিউস করছি। একটা সাবজেক্টের নাম হচ্ছে স্পোর্টস, আরেকটা সাবজেক্ট হচ্ছে কালচার। অর্থাৎ শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া এই তিনের সমন্বয়েই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে তাদের ভেতরে টিম স্কিল ডেভেলপ করবে, ডিসিপ্লিন ডেভেলপ করবে, ইন্টারপার্সোনাল এবং ট্রান্সফারেবল স্কিল ডেভেলপ করবে।

তিনি বলেন, ক্লাস সিক্স থেকে আমরা আরো দুটি নতুন সাবজেক্ট শুরু করতে চাইছি। আগামী শিক্ষাবর্ষে একটা "লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস" অর্থাৎ একটা আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ক্লাসে জোর করে পড়ানো হবে না। পুথিগত শিক্ষাকে পেরিয়ে একসাথে আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দমুখর পরিবেশে বিদ্যা অর্জন করবে এবং আরেকটা কোর্স শুরু করতে যাচ্ছি আমরা। সেটা হচ্ছে "টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন"। সেটা এই মুহূর্তে আছে কিন্তু প্রত্যেকের জন্য ম্যান্ডেটরি না। আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাস সিক্স থেকে সবার জন্য প্রাথমিকভাবে থিওরিটিক্যালি এবং এইট অনওয়ার্ড অবশ্যই প্রত্যেকটা স্কুলে যখন ধারাবাহিকভাবে আমরা ল্যাব স্থাপন করতে পারি এবং টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল এডুকেশন বা কারিগরি শিক্ষার যেন সকল শিক্ষার্থী এনজয় করতে পারে, প্রাক্টিক্যালি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারে সে ধরনের একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের আরেকটা লক্ষ্য রয়েছে যার প্রতিফলন হিসেবে ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েল্ভ পর্যন্ত আমরা স্টার্ট-আপ সাইন্স, প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং এর একটা কম্পিটিশন আয়োজন করছি। ইতিমধ্যে এখানে আমরা দেখেছি ১২,০০০ টিম অংশগ্রহণ করেছে। ১২,০০০ টিমের প্রত্যেকটাতে তিনজন করে স্টুডেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৩৬,০০০ স্টুডেন্ট এবং দুইজন করে টিচার অর্থাৎ প্রায় ২৪,০০০ টিচার এখানে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিভিন্ন রকমের উদ্যোক্তামূলক চিন্তাভাবনা কি কি রয়েছে, খুব ভালো বৈজ্ঞানিক কি ধরনের চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আমরা চেষ্টা করছি যে, কিভাবে কমার্শিয়ালাইজ করতে পারি? ফান্ডিং প্রোভাইড করতে পারি? তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে পারি।

তিনি বলেন, এখানে যে ফাইনাল হবে, সেটা এই মাসের ২৯ তারিখে সে অনুষ্ঠান হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। এবং সেখানে ১০০ টি টিম থাকবে এবং ১০০ টি টিমকে উনি পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবেন, স্বীকৃতি দিবেন, বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন। সেই একই অনুষ্ঠানে কিন্তু আমরা একসাথে দেশ জুড়ে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছি এবং আমাদের সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৯,৬৩১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে একটি বড় অংশ ভার্চুয়ালি থাকবে এবং ফিজিক্যালি প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিশন প্রসঙ্গে তার এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে প্রণীত যে ইশতেহার রয়েছে, সেখানে জাতি বিনির্মাণের জন্য যে ইতিবাচক উদ্যোগগুলো রয়েছে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি, গণশিক্ষা কার্যক্রম, শিশু কিশোরদের পাশে থাকা -এ ধরনের বহুমুখী উদ্যোগে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে সম্পৃক্ত করতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ তোমরাই গড়ে তুলবে সুতরাং আমাদের এই ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা যেন মানবিক, মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং বলিষ্ঠ নৈতিক চরিত্র ছোটবেলা থেকে শিক্ষণ পায়, সেজন্যই শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে একযোগে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন গুলো নিয়ে আসছি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম তথা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস, স্পোর্টস এবং কালচারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে সমতা থাকবে, ন্যায্যতা থাকবে, শহর এবং গ্রামের মাঝে শিক্ষার যে পার্থক্য, বিভেদ বা বৈষম্য রয়েছে সেটি কমে আসবে।  প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন যে, তিনি সার্টিফিকেট নির্ভর কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যার মাধ্যমে আমাদের শিশু-কিশোর, তরুণ- তরুণীদের মাঝে আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারী হিসেবে নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে, সামাজিকতা, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা গড়ে উঠবে। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তিনি চান যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতরে আমরা ডিসিপ্লিন, ইন্টিগ্রিটি, ভ্যালুজ, প্রিন্সিপালস এগুলো তৈরি করতে পারব। যার লক্ষ্য হিসেবে ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি যে দেশের প্রতিটি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এগুলোতে প্রাধান্য দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, একই সাথে দেশজুড়ে স্পোর্টস এবং কালচারের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার মিশ্রণ পাঠাচ্ছি। আমরা একদম তৃণমূলের গ্রামীণ স্কুল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দেশব্যাপী কম্পিটিশন শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য বিতর্ক, সাইন্স ফেস্টিভাল, এন্টারপ্রেনারশীপ বিভিন্ন ধরনের ইনোভেটিভ আইডিয়াকে নিয়ে এবং স্পোর্টসের বিভিন্ন ধারা বা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেন সে ধরনের সৃজনশীলতা ভূমি প্রকাশ করাতে পারি। স্টুডেন্টদের জন্য আমরা ইতিমধ্যে "নতুন কুঁড়ি" শুরু করেছি স্পোর্টসের জন্য, কালচারের জন্য, সামনে ইনশাল্লাহ কোরআন তেলাওয়াতের জন্য শুরু হবে।

করের হার না বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা উচিত : অর্থ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
করের হার না বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা উচিত : অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা উচিত। সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলায়তনে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা একটা নতুন মডেলের দিকে গিয়েছি। সেটা হচ্ছে- বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন। উৎপাদন থেকে কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থান থেকে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি। তার মানে হচ্ছে পুরনো মডেল থেকে এটার একটা বড় রকমের পার্থক্য আছে। আগে বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছে এবং বিনিয়োগ প্রথম দিকে স্থবির হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা উৎপাদনমুখী শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি, যাতে করে যে নিউ নরমাল পরিস্থিতি আসছে, অনিশ্চয়তা আসছে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। কারণ কোভিডের বিষয়ে আপনি জানতেন না। মধ্যপ্রাচ্যের যে সংকট তাও আপনারা জানতেন না। বাংলাদেশের যে সাপ্লাই চেইন ডিস্রাপশন হতে পারে বা অনিশ্চয়তাকারী পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যে নিজস্ব দেশোপযোগী কায়দায় আমরা এটা করছি। কেন করছি কারণ আমাদের জনগণ আমাদেরকে আস্থায় রেখেছে। আমাদের প্রত্যেকটা কৌশল হচ্ছে দেশোপযোগী।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরো বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে যদি আমাদের চিন্তার কথা বলি তাহলে আমরা যে সংস্কার করেছি সেটার মধ্যে পাঁচটা অংশ আছে। প্রথম অংশ হচ্ছে- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হবে। যার ফলে আমাদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য এবং আণবিক খাতে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে- জ্বালানিকে এফোরডেবল করা হবে। কিভাবে আমরা মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে জ্বালানি রাখতে পারি। এটা হচ্ছে দ্বিতীয় চিন্তা। এ নিয়ে অনেকগুলো কাজ হচ্ছে আপনারা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।

তিনি আরো বলেন, তৃতীয় হচ্ছে যে আমাদেরকে প্রতিটি কারখানায় এক এক ধরনের প্রয়োজনীয়তা আছে। যেমন কোনো কারখানায় গ্যাস না থাকলে সেখানে উৎপাদন হবে না। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি যে অতীতে কোনো রকমের গ্যাস উত্তোলন, অনুসন্ধান কিছুই করা হয়নি। আমরা গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন দেশের ভেতরে এবং সমুদ্রে ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করছি। চার হচ্ছে, আমরা যদি সৌর বিদ্যুতের দিকে যেতে চাই বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে যেতে চাই তাহলে এইখানেই উৎপাদনটা করতে হবে। সে জন্য আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ এই বাজেটেই নিয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) এর চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।

প্যানেল আলোচনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কারস সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আখতার।
 

ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিবুল, সম্পাদক দস্তগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিবুল, সম্পাদক দস্তগীর
সভাপতি ড. মো. মহিবুল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম দস্তগীর। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির ১১তম সাধারণ নির্বাচনে সভাপতি পদে ড. মো. মহিবুল আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. গোলাম দস্তগীর নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইউজিসি অডিটরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোছা. জেসমিন পারভীন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচিত ড. মহিবুল আহসান ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এবং গোলাম দস্তগীর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নবনির্বাচিত ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি আগামী দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সহসভাপতি মুহাম্মদ মাসুদ হোসেন ও মোহাম্মদ ইউসুফ আলী খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক মো. ইকরামুল ইসলাম অপু, কোষাধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম এবং সদস্য মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম, রায়হান মিয়া ও মোহাম্মদ নুর ইসলাম চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউজিসির জেনারেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শিবানন্দ শীল এবং জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেসমিন পারভীন বলেন, ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান জানান।

নির্বাচিত সভাপতি মহিবুল আহসান তার বক্তব্যে ইউজিসির সব কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রূতি ব্যক্ত করেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিভেদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম-এর নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম-এর নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ড. লরা টম্ বন্দ। ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম্ বন্দ। এ সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ড. লরা টম্ বন্দকে বাংলাদেশে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে স্বাগত জানাই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম-এর মধ্যকার দৃঢ় অংশীদারি আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করি।’

ড. টম্ বন্দ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন বাংলাদেশ বহুমাত্রিক অভিবাসন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে, অন্যদিকে মায়ানমারে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ, যা বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ড. টম্ বন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অভিবাসন পরিস্থিতি অত্যন্ত গতিশীল এবং এতে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আমি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সুশাসিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিবাসন টেকসই উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।’

বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততার অনুপ্রবেশসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে। আর এসব কারণে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতি ও দুর্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন চিফ অব মিশন নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন মোকাবেলায় সমন্বিত সরকারি ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আইওএম-এর সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আইওএম-এর চিফ অব মিশন অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা প্রদানে সংস্থাটির অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন জোরদার করা, স্বাস্থ্য ও প্রাক-বহির্গমন সেবা উন্নত করা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা ও পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা প্রদান।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আইওএম রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে অব্যাহত রাখবে এবং কক্সবাজারে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনগোষ্ঠীদেরও সহায়তা করবে।

কানাডার নাগরিক ড. লরা টম্ বন্দ এর আগে সাড়ে ছয় বছর মোজাম্বিকে আইওএম-এর চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুনিরীয়া যুব তবলীগের এশায়াত সম্মেলন | কালের কণ্ঠ