• ই-পেপার

এবার দুর্গাপূজায় ভারতে যাবে না উপহারের ইলিশ

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ত্রিমুখী চাপে মধ্যবিত্তরা

অনলাইন ডেস্ক
ত্রিমুখী চাপে মধ্যবিত্তরা
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম মজুরি হার ও সঞ্চয় হারানোর শঙ্কা থাকায় মধ্যবিত্তরা চাপে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় মানুষ কাজ করেও আগের অবস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, মজুরি চাপ এবং সঞ্চয় কমে যাওয়া এই ত্রিমুখী চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংকট তৈরি করছে। রপ্তানি বাড়লেই কর্মসংস্থান বাড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। টাকার মান কমলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াবে।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।  তিনি বলেন, বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সংবেদনশীলতা থাকলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক কাঠামো দুর্বল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও সঞ্চয় সুরক্ষা না হলে তারা উপকার পাবে না। সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তথ্যভিত্তিক তদারকি বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর সদস্য রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা খাতে আসলে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ করা হয়েছে। দুই নয়। তবুও এটি ইতিবাচক। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের করসীমা বাড়লেও বাস্তবে করের চাপ বাড়ছে। স্কুলে ওয়াশ-সুবিধা অত্যন্ত খারাপ, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যবহার কম, সক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক সমন্বয়ের ঘাটতি বড় বাধা। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ২০২১ সাল থেকেই জাতীয় বাজেটে জেন্ডার সংবেদনশীল বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্থবিরতা ও সংকোচন দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিক বাজেটের আকার বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। নারীর প্রত্যক্ষ জনসেবা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপখাতগুলোতে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তার মতো কাজগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্র্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অযৌক্তিকভাবে প্রায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে, ঘাটতি বড়। এডিপি বাস্তবায়ন দুর্বল ও শেষ সময়ে ফুলিয়ে দেখানো হয়। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও উপেক্ষিত। তাই বাজেটের আকার কমিয়ে বাস্তবসম্মত করা প্রয়োজন ছিল। নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক সুরক্ষায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও অধিকাংশই সামান্য বৃদ্ধি। ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও লক্ষ্যভিত্তিক নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, কৃষি অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হলেও বাজেটে এর গুরুত্ব কমছে। জিডিপিতে অবদান বেশি হলেও এই খাতে বিনিয়োগ কম, ফলে প্রবৃদ্ধি থমকে যাচ্ছে ও আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি বাড়ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি ফাইয়াজউদ্দিন আহমেদ, এডুকো বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম তাজিন হোসেন প্রমুখ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় রিহ্যাব

অনলাইন ডেস্ক
ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার চায় রিহ্যাব
সংগৃহীত ছবি

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি উপেক্ষা করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে ক্রেতা সংকট, উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর আরোপ এবং বিদ্যমান উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় বহাল রাখা আবাসন খাতকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে জমির মালিককে প্রদত্ত সাইনিং মানির ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এর পাশাপাশি ডেভেলপারের নির্মিত ফ্ল্যাটের ওপরও জমির মালিককে ১৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে যৌথ উন্নয়ন (জয়েন্ট ভেঞ্চার) প্রকল্প নিরুৎসাহিত হবে, নতুন প্রকল্প কমে যাবে এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জমি, ফ্ল্যাট ও বিল্ডিং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর পরিশোধ সাপেক্ষে বিনা প্রশ্নে ‘স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এজন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে অবস্থান করছে। এ অর্থ আবাসনসহ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে তা অর্থনীতির মূলধারায় ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রিহ্যাব মনে করে, নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ফলে অর্থনীতির মূলধারায় নতুন অর্থ প্রবাহিত হবে এবং আবাসন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩  এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম রিজিয়ন) মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান, পরিচালক আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, এ জেড এম কামরুদ্দিন, মো. জহির আহমেদ, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, শেখ কামাল, এম ফখরুল ইসলাম, এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী ও মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রিহ্যাব নেতারা।​​​​

প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে সাধারণ জ্বর

কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতায় ঘটছে মৃত্যুও

অনলাইন ডেস্ক
প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে সাধারণ জ্বর
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদী সদরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগমের (৫৬) সাত দিন ধরে তীব্র জ্বর। তার ছেলে মাসুদ হোসেন বলেন, মায়ের জ্বর না কমায় হাসপাতালে ভর্তি করে ডেঙ্গু, টাইফয়েড টেস্ট করানো হয়- কিন্তু সেটা নেগেটিভ আসে। অ্যান্টিবায়োটিকে জ্বর নিয়ন্ত্রণে না এসে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ঢাকার মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছি। অসংখ্য পরীক্ষা করেও কোনো কারণ ধরা পড়ছে না, কিন্তু মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, অনেক রোগীর ডেঙ্গু ও টাইফয়েড পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কমছে না। কেউ কেউ নিউমোনিয়া, রক্তে সংক্রমণ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দেশে ডেঙ্গু ও টাইফয়েডের বাইরে অন্য কোনো সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে ম্যালেরিয়া বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে কি না। রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগীর পাঁচ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত জ্বর স্থায়ী হচ্ছে। ডেঙ্গুর এনএস১, আইজিএম কিংবা টাইফয়েড পরীক্ষায় রোগ ধরা না পড়লেও রোগীরা দুর্বলতা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বমি, ডায়রিয়া এবং রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে মূলত র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট (আরডিটি) ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজন হলে রক্তের স্লাইড প্রস্তুত করে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরজীবী শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাইক্রোস্কোপভিত্তিক দক্ষতা ও অবকাঠামোর ব্যবহারও কমে এসেছে। আরডিটি পরীক্ষাগুলো প্রধানত প্লাজমোডিয়াম ফালসিপারাম ও প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স শনাক্ত করার জন্য তৈরি, কারণ দেশে ম্যালেরিয়ার অধিকাংশ সংক্রমণ এই দুই প্রজাতির মাধ্যমেই ঘটে। অতীতে প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়া ও প্লাজমোডিয়াম ওভালে এর সংক্রমণও পাওয়া গেছে, তবে সংখ্যা কম হওয়ায় এগুলো নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় খুব একটা আসে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি চট্টগ্রামের কয়েকটি বেসরকারি ব্লাডব্যাংকে রক্তদাতা স্ক্রিনিংয়ের সময় ম্যালেরিয়া পজিটিভ দাতা শনাক্ত হয়েছে, যাদের কারও মধ্যে রোগের দৃশ্যমান উপসর্গ ছিল না। বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে উপসর্গবিহীন সংক্রমণ এখনো সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি এবং নীরবে বিদ্যমান থাকতে পারে। দীর্ঘদিন বড় আকারের প্রাদুর্ভাব না থাকার কারণে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই অন্য রোগের দিকে বেশি চলে গেছে।’

দেশে ম্যালেরিয়া প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ১৩টি জেলায় বেশি দেখা যায়। তবে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের ধরন বদল এবং মশার বিস্তারের কারণে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন করে সতর্ক হওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. মিশু তালুকদার বলেন, ‘সব জ্বর ডেঙ্গু বা টাইফয়েডের কারণে হয় না। বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণ, ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাস, রিকেটশিয়াল ফিভার, লেপ্টোস্পাইরোসিস, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস কিংবা রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকেও গুরুতর জ্বর হতে পারে। অনেক সময় রোগের শুরুতে কিছু পরীক্ষার ফল নেগেটিভও আসতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অচেতনতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বরকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে, বিশ্রামে থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা কোনো বিপৎসংকেত (শ্বাসকষ্ট, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, খিঁচুনি, খেতে না পারা, প্রস্রাব কমে যাওয়া,গায়ে দানা) দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের কিছু অঞ্চলে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকায়, ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি, ঘাম হওয়া, দুর্বলতা বা ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ম্যালেরিয়ার কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত, কারণ দেরি হলে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ছাগলের পেটে তালগাছ

চোরের পকেটে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ছাগলের পেটে তালগাছ
সংগৃহীত ছবি

বজ্রপাত প্রতিরোধে ২০১৭ সালে ১০০ কোটি টাকা খরচ করে লাগানো হয়েছিল তালগাছ। বছর না ঘুরতেই দেখা যায় কোথাও গরু-ছাগলের পেটে চলে গেছে। কোথাও গাছ না লাগিয়েই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তালগাছে প্রতিরোধ কৌশল ব্যর্থ হলে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড বসানো হয়। কিছু জায়গায় সেই দণ্ডের তামার তারসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায় চোর। বজ্রপাতে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি হলেও কাজে আসছে না কোনো কৌশল।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের ব্যর্থ প্রকল্পগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মাঠভিত্তিক জরিপ করে পরিকল্পনা করছে সরকার। এবারও ১৪ লাখ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব এলাকায় গাছের সংখ্যা কম সেখানে লাগানো হবে। ৬৪ জেলার প্রশাসককে তালগাছের সংখ্যা জরিপ করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা বিশেষ করে হাওড়াঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণ করা হবে। আকাশে বজ্রমেঘ দেখলেই কৃষকরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন। এ শেডে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা থাকবে। এ শেড কৃষকরা ধান মাড়াই, স্বল্প সময়ের জন্য ধান মজুতসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমানোর জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বজ্রপাতের ঝুঁকিহ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ‘ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স’ বা আইভিআর প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনিতে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বজ্রপাতে এক যুগে ৩ হাজার ৪২৫ জন মারা গেছে। ২০১৪ সালে ১৭০, ২০১৫ সালে ২২৬, ২০১৬ সালে ৩৯১, ২০১৭ সালে ৩০৭, ২০১৮ সালে ৩৫৯, ২০১৯ সালে ১৫৮, ২০২০ সালে ২৫৫, ২০২১ সালে ৩৬৩, ২০২২ সালে ৩৩৭, ২০২৩ সালে ৩৫০, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ২৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ৭ দিনেই ৭১ জন মারা গেছেন। এ বছর মৃত্যু শতাধিক।

জানা গেছে, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় টিআর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দ করা হয় ১৫ কোটি টাকা। এ টাকা দিয়ে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় ৩৪৩টি বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে সব এলাকায় স্থাপন করা হয়নি। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫টি জেলায় বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপনের জন্য ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছিল। এসব দণ্ডের অনেক যন্ত্রাংশ চুরি ও খোয়া যায়। ফলে সরকারের শুধু অর্থই খরচ হয়েছে, বাস্তবে কাজে আসেনি। পরে এগুলো পুনরায় স্থাপন করতে হয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার দুর্গাপূজায় ভারতে যাবে না উপহারের ইলিশ | কালের কণ্ঠ