• ই-পেপার

দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

সংসদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার কুশল বিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার কুশল বিনিময়
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদ কক্ষেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় সংসদের দিনের অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে গিয়ে তার সঙ্গে করমর্দন করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

অধিবেশনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন আসন থেকে উঠছিলেন, তখন ডা. শফিকুর রহমান এগিয়ে যান। দুই নেতা বেশ কিছুক্ষণ হাসিমুখে কথা বলেন এবং একে অপরের খোঁজখবর নেন।

এ সময় বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামনে গিয়ে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সংলাপে অংশ নেন। সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ দুই নেতার এই আন্তরিক করমর্দন ও কুশল বিনিময়ের সময় সংসদ কক্ষে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তুরাগ ও ফরিদপুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
তুরাগ ও ফরিদপুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এইচআরএসএস
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু এবং ঢাকার তুরাগ নদ থেকে তিন দিনে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। 

সোমবার (২৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেছেন, দুটি ঘটনাই জনমনে নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তির জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। ফলে হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’ এই কারণে ফরিদপুরের ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তুরাগ নদ থেকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এইচআরএসএস বলেছে, এসব মৃত্যুর পেছনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, পরিকল্পিত হত্যা অথবা অন্য কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জড়িত রয়েছে কিনা, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে যথাসময়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, বিশেষ করে রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যু কিংবা রহস্যজনকভাবে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের দাবি রাখে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত যেন না থাকে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’ 

এইচআরএসএস সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, উভয় ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার : স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার : স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ঐচ্ছিক তহবিল থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, ‘৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনো দিন পাইনি।পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি, এটুকুই পেয়েছি।’

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতির পর তিনি এ কথা জানান।

প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আমাদের বিরোধী দলের সদস্যদের আসনগুলোতে, সিটি করপোরেশন বাদ দিয়ে, প্রায় ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন।’

বৈঠকে মির্জা ফখরুলের বিবৃতির পর বিরোধীদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনো দিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি, এটুকুই পেয়েছি। অন্য কিছু প্রাপ্তিযোগ হয়নি।’

মির্জা ফখরুলের বিবৃতি দেওয়ার আগে সংসদে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘তিনি বাজেট আলোচনায় দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন। বিরোধী দলের নেতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি এক ঘণ্টা বলেছেন দেশের বিভিন্ন সমস্যার ওপর, বাজেট বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।’

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে ভোলার সমস্যার কথাও উঠে এসেছে জানিয়ে স্পিকার জানান, সভাপতির আসনে বসে নিজের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা তিনি তুলতে পারেন না।

স্পিকার আরো বলেন, ‘আমার জন্মভূমি, আমার নির্বাচনী এলাকা ভোলার সমস্যাগুলো এখানে তুলে ধরতে পারছি না এই চেয়ারে বসার কারণে। সেটি তিনি অনুগ্রহ করে জাতির উদ্দেশে বক্তব্যে রেখেছেন।’ বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘সুবিচার’ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন আছে প্রয়োগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন আছে প্রয়োগ নেই
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’ প্রণয়ন করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নেই। ফলে প্রতিবছর লাখ লাখ টন ঝুঁকিপূর্ণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। অন্যদিকে শতকোটি টাকার মূল্যবান খনিজ ও বৈশ্বিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) লালমাটিয়ার এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা ‘ভয়েস’ আয়োজিত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় ভয়েসের একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার মাটিতে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৫৮৭ পিপিএম, যা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অত্যন্ত বেশি এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত। অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য পোড়ানোর কারণে দেশের মাটি ও বাতাসে ভারি ধাতুর বিষাক্ততা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের ১৫টি ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশের নিজস্ব পণ্য ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বা আমদানি করা পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিতকরণ মানদণ্ড যাচাই করে থাকে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও টেলিভিশন সার্কিট বোর্ডে সোনা, রূপা, তামা ও কোবাল্টের মতো অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিরল ধাতু থাকে, যা সঠিকভাবে নিষ্কাশন করা গেলে দেশের শিল্প খাতে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এই মূল্যবান বর্জ্যগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিষ্কাশন না করার কারণে বিপুল সম্পদের অপচয় হচ্ছে।

ভয়েসের নির্বাহী প্রধান আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) আমিনুর রসূল বাবুল, উই সোসাইটি বাংলাদেশের আকতার উল আলম, ভয়েসের উপপরিচালক মুসাররাত মাহেরা ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল প্রমুখ।

দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট | কালের কণ্ঠ